ঢাকা ০৩:৫০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

ইউক্রেন-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতি

ইউক্রেনের সঙ্গে গত দুইদিন আলোচনা ফলপ্রসূ হচ্ছে বলে শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) জানিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। আলোচনা শনিবারও গড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

মায়ামির অজ্ঞাত কোনও একটি স্থানে আয়োজিত ওই বৈঠকে ইউক্রেনের দিক থেকে যোগ দিয়েছেন রুস্তেম এবং সামরিক প্রধান জেনারেল আন্দ্রি হানতভ। অন্যদিকে আছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং বিশেষ প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ।

বৈঠকে উভয় পক্ষই ইউক্রেনে “টেকসই ও ন্যায়সংগত শান্তির একটি নির্ভরযোগ্য পন্থা” নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা করেছে বলে জানা গেছে।

হোয়াইট হাউজের এক কর্মকর্তা আগে জানান, বৈঠক ফলপ্রসূ ছিল এবং আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে।

একটি সূত্র জানায়, পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের আগে উইটকফ ও কুশনার ইউক্রেনকে পরবর্তীতে বিস্তারিত জানাবেন বলে সম্মত হয়েছিলেন।

শুক্রবার গত দুই সপ্তাহের মধ্যে ষষ্ঠ দফার বৈঠকে উমেরভ জোর দিয়ে বলেন, ইউক্রেনের অগ্রাধিকার হলো এমন একটি সমঝোতা নিশ্চিত করা, যা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করবে, ইউক্রেনীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এবং সমৃদ্ধ গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের জন্য স্থিতিশীল ভিত্তি দেবে। বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র কার্যালয় ও উমেরভের যৌথ বিবৃতি প্রকাশিত হয়েছে।

বৈঠকে উইটকফ ও কুশনারের মস্কো সফরে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আলোচনার ফলাফল এবং যুদ্ধ থামাতে সহায়ক বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা হয়।

গত মঙ্গলবার মস্কোয় কয়েক ঘণ্টার টানা আলোচনায় সম্ভাব্য শান্তিচুক্তি নিয়ে কোনও সমঝোতা হয়নি। এ নিয়ে ট্রাম্পের দিকে চাপা বিরক্তি তৈরির সম্ভাবনা আছে। ইউরোপে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে প্রাণঘাতী এই সংঘর্ষের অবসান ঘটানো তার প্রেসিডেন্সির অন্যতম অধরা পররাষ্ট্রনীতিগত লক্ষ্য বলে ট্রাম্প বারবার অভিযোগ করেছেন। তিনি কখনও পুতিন, কখনও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে তিরস্কারও করেছেন।

চলতি সপ্তাহের আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেন “নিরাপত্তাবিষয়ক ব্যবস্থার কাঠামো” নিয়ে একমত হয়েছে এবং দীর্ঘস্থায়ী শান্তি বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধ-ক্ষমতা নিয়েও আলোচনা করেছে বলে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়য় জানায়। তবে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

দুই পক্ষই বলেছে, কোনও প্রকৃত অগ্রগতি নির্ভর করবে রাশিয়া দীর্ঘমেয়াদি শান্তিতে কতটা গুরুত্ব সহকারে অঙ্গীকার দেখায় তার ওপর।

এ ছাড়াও বৈঠকে ইউক্রেনের যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠন, মার্কিন-ইউক্রেন যৌথ অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ও দীর্ঘমেয়াদি পুনরুদ্ধার প্রকল্পগুলো নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

পুতিনের শীর্ষ পররাষ্ট্রনীতি উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ শুক্রবার বলেন, পুতিন ও উইটকফ এমন এক পর্যায়ের বোঝাপড়ায় পৌঁছেছেন যা তাদের আলোচনাকে “অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ” করেছে।

পুতিন ক্রেমলিনে উইটকফ ও কুশনারের সঙ্গে পাঁচ ঘণ্টা বৈঠক করেন, যেখানে ইউক্রেন যুদ্ধের একটি মার্কিন-সমর্থিত সমাধান পরিকল্পনা নিয়ে কথা হয়। পুতিন পরে আলোচনাকে “খুবই ফলপ্রসূ” বলে বর্ণনা করেন।

সূত্র: রয়টার্স

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মার্কিন সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব নাকচ, রিপাবলিকানদের জয়

ইউক্রেন-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতি

আপডেট সময় : ০৪:১৪:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২৫

ইউক্রেনের সঙ্গে গত দুইদিন আলোচনা ফলপ্রসূ হচ্ছে বলে শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) জানিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। আলোচনা শনিবারও গড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

মায়ামির অজ্ঞাত কোনও একটি স্থানে আয়োজিত ওই বৈঠকে ইউক্রেনের দিক থেকে যোগ দিয়েছেন রুস্তেম এবং সামরিক প্রধান জেনারেল আন্দ্রি হানতভ। অন্যদিকে আছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং বিশেষ প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ।

বৈঠকে উভয় পক্ষই ইউক্রেনে “টেকসই ও ন্যায়সংগত শান্তির একটি নির্ভরযোগ্য পন্থা” নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা করেছে বলে জানা গেছে।

হোয়াইট হাউজের এক কর্মকর্তা আগে জানান, বৈঠক ফলপ্রসূ ছিল এবং আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে।

একটি সূত্র জানায়, পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের আগে উইটকফ ও কুশনার ইউক্রেনকে পরবর্তীতে বিস্তারিত জানাবেন বলে সম্মত হয়েছিলেন।

শুক্রবার গত দুই সপ্তাহের মধ্যে ষষ্ঠ দফার বৈঠকে উমেরভ জোর দিয়ে বলেন, ইউক্রেনের অগ্রাধিকার হলো এমন একটি সমঝোতা নিশ্চিত করা, যা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করবে, ইউক্রেনীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এবং সমৃদ্ধ গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের জন্য স্থিতিশীল ভিত্তি দেবে। বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র কার্যালয় ও উমেরভের যৌথ বিবৃতি প্রকাশিত হয়েছে।

বৈঠকে উইটকফ ও কুশনারের মস্কো সফরে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আলোচনার ফলাফল এবং যুদ্ধ থামাতে সহায়ক বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা হয়।

গত মঙ্গলবার মস্কোয় কয়েক ঘণ্টার টানা আলোচনায় সম্ভাব্য শান্তিচুক্তি নিয়ে কোনও সমঝোতা হয়নি। এ নিয়ে ট্রাম্পের দিকে চাপা বিরক্তি তৈরির সম্ভাবনা আছে। ইউরোপে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে প্রাণঘাতী এই সংঘর্ষের অবসান ঘটানো তার প্রেসিডেন্সির অন্যতম অধরা পররাষ্ট্রনীতিগত লক্ষ্য বলে ট্রাম্প বারবার অভিযোগ করেছেন। তিনি কখনও পুতিন, কখনও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে তিরস্কারও করেছেন।

চলতি সপ্তাহের আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেন “নিরাপত্তাবিষয়ক ব্যবস্থার কাঠামো” নিয়ে একমত হয়েছে এবং দীর্ঘস্থায়ী শান্তি বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধ-ক্ষমতা নিয়েও আলোচনা করেছে বলে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়য় জানায়। তবে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

দুই পক্ষই বলেছে, কোনও প্রকৃত অগ্রগতি নির্ভর করবে রাশিয়া দীর্ঘমেয়াদি শান্তিতে কতটা গুরুত্ব সহকারে অঙ্গীকার দেখায় তার ওপর।

এ ছাড়াও বৈঠকে ইউক্রেনের যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠন, মার্কিন-ইউক্রেন যৌথ অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ও দীর্ঘমেয়াদি পুনরুদ্ধার প্রকল্পগুলো নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

পুতিনের শীর্ষ পররাষ্ট্রনীতি উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ শুক্রবার বলেন, পুতিন ও উইটকফ এমন এক পর্যায়ের বোঝাপড়ায় পৌঁছেছেন যা তাদের আলোচনাকে “অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ” করেছে।

পুতিন ক্রেমলিনে উইটকফ ও কুশনারের সঙ্গে পাঁচ ঘণ্টা বৈঠক করেন, যেখানে ইউক্রেন যুদ্ধের একটি মার্কিন-সমর্থিত সমাধান পরিকল্পনা নিয়ে কথা হয়। পুতিন পরে আলোচনাকে “খুবই ফলপ্রসূ” বলে বর্ণনা করেন।

সূত্র: রয়টার্স