পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের তালেবান বাহিনীর মধ্যে শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) গভীর রাতে নতুন করে প্রাণঘাতী সংঘর্ষ হয়েছে। উভয় পক্ষই গোলাগুলির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে যা ঘণ্টা চারেক স্থায়ী হয়। তবে লড়াই শুরুর জন্য উভয়ই পাল্টাপাল্টি দোষারোপ করছে।
হামলা শুরুর পর রাতে আফগান সীমান্তের শহর স্পিন বোল্ডাক থেকে বাসিন্দারা পালিয়ে যায়। কান্দাহারের একটি চিকিৎসাকেন্দ্রের কর্মী বিবিসি পশতুকে জানান, সেখানে চার জনের মরদেহ আনা হয়েছে। অন্যদিকে, পাকিস্তানে তিন জন আহত হয়েছেন।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দুই দেশের সীমান্তে বেশ কয়েক দফা হামলা হয়েছে। তালেবান সরকার পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দেশটির ভেতরে বিমান হামলা চালানোর অভিযোগও তুলেছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের মুখপাত্র মোশাররফ জৈদির অভিযোগ, উসকানি ছাড়াই হামলা চালিয়েছে তালেবান। তবে ওই হামলার ‘তাৎক্ষণিক, জোরালো ও যথাযথ’ জবাব দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
জৈদি হুঁশিয়ার করে বলেন, পাকিস্তান তার ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও নাগরিকদের নিরাপত্তায় সদা সচেতন।
এদিকে, তালেবান মুখপাত্র পাল্টা দাবি করেন, পাকিস্তানের দিক থেকে হামলা শুরু হয় এবং তারা বাধ্য হয়ে জবাব দিয়েছে।
স্থানীয় ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, বহু আফগান পায়ে হেঁটে বা গাড়িতে করে পালাচ্ছেন। আশপাশের এলাকার বাসিন্দারাও সম্ভাব্য সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কায় স্থানত্যাগ করছেন।
দুই মাসেরও কম সময় আগে কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় দুপক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছিল, যা ২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘাতের অবসান ঘটায়। তবে অস্থিরতা ঠিকই বজায় ছিল।
ইসলামাবাদ সরকার দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, তালেবান সরকার পাকিস্তানে হামলা চালানো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে আশ্রয় দিচ্ছে। তালেবান সরকার এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলে, পাকিস্তান তাদের নিজেদের নিরাপত্তার ব্যর্থতা অন্যের ঘাড়ে চাপাচ্ছে।
গত সপ্তাহে সৌদি আরবে চতুর্থ দফা আলোচনায় দুই দেশের প্রতিনিধি দল মিলিত হয়। চূড়ান্ত সমঝোতা না হলেও, সূত্রগুলো জানায়, দুপক্ষই যুদ্ধবিরতি বজায় রাখায় সম্মত হয়েছে।
সূত্র: বিবিসি
রিপোর্টারের নাম 



















