মাদক বহনের অভিযোগ তুলে আবারও প্রশান্ত মহাসাগরের এক নৌযানে হামলা চালিয়েছে মার্কিন সেনাবাহিনী। ওই হামলায় চারজন নিহত হয়েছেন বলে বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) জানিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা কার্যালয় পেন্টাগন।
ফ্লোরিডাভিত্তিক ইউএস সাউদার্ন কমান্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হামলার ভিডিও প্রকাশ করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পিট হেগসেথের নির্দেশে “জয়েন্ট টাস্ক ফোর্স সাউদার্ন স্পিয়ার আন্তর্জাতিক জলসীমায় একটি ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’-এর পরিচালিত নৌযানে প্রাণঘাতী হামলা চালিয়েছে।”
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নৌযানটির অবৈধ মাদক বহন এবং পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে পরিচিত পাচার রুট দিয়ে চলার গোয়েন্দা তথ্য ছিল। মার্কিন সেনাবাহিনীর হামলায় নৌকায় থাকা চারজন “নার্কো-সন্ত্রাসী” নিহত হয়েছে।
প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, জলের ওপর থাকা ছোট নৌকায় হঠাৎ বিশাল বিস্ফোরণ হয়। এরপরের দৃশ্যে আগুনে পুড়ে যাওয়া নৌকাটি ও ঘন ধোঁয়া আকাশে ছড়িয়ে যেতে দেখা যায়।
প্রায় তিন সপ্তাহ পর আবারও এ ধরনের হামলা করলো মার্কিন প্রশাসন। পেন্টাগন ও হোয়াইট হাউজ সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানগুলোর বৈধতা নিয়ে বহু প্রশ্নের জবাব দিতে হিমশিম খাচ্ছে। মার্কিন আইনপ্রণেতারা সেপ্টেম্বরের প্রথম হামলাটি তদন্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন—যেখানে ধ্বংসস্তূপ আঁকড়ে থাকা দুই জীবিত ব্যক্তিকে পরবর্তী হামলায় হত্যা করা হয়েছিল।
ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, হেগসেথ ২ সেপ্টেম্বরের ওই হামলার সময় সামরিক বাহিনীকে মৌখিকভাবে “সবাইকে মেরে ফেলার” নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেপ্টেম্বর থেকে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, তারা মাদক বহনের সন্দেহে নৌযানে ২২টি হামলা চালিয়েছে এবং প্রায় ৮৬ জনকে হত্যা করেছে।
প্রশাসন যুক্তি দিচ্ছে যে, যুক্তরাষ্ট্র মাদক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত অবস্থায় আছে এবং এ ধরনের হামলা আইনসম্মত। তবে অধিকাংশ আইন বিশেষজ্ঞ এই ব্যাখ্যা বাতিল করেছেন।
কার্ডোজো ল স্কুলের অধ্যাপক এবং মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক আইন পরামর্শক রেবেকা ইনগবার দ্য গার্ডিয়ানকে বলেন, ধরে নিলাম তাদের যুক্তিই গ্রহণযোগ্য এবং নৌকার ব্যক্তিরা ‘সন্ত্রাসী’, তবুও যদি তারা ‘হর্স দ্য কমব্যাট’—অর্থাৎ লড়াই করতে অক্ষম অবস্থায় থাকে—তাহলে তাদের হত্যা বেআইনি।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
রিপোর্টারের নাম 
























