ঢাকা ০২:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তার ৪৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে গ্রেফতার ৩

অবসরপ্রাপ্ত একজন সরকারি কর্মকর্তার কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে ৪৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া একটি চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন– সনজ সাহা ওরফে উজ্জ্বল চৌধুরী (৫৬), মো. মোশারফ হোসেন (৬৪) ও মো. শাহজাহান (৪৬)।

মঙ্গলবার (২ নভেম্বর) পুরান ঢাকার তাঁতিবাজার মোড় সংলগ্ন মালিটোলা পার্ক এলাকা থেকে চক্রটির তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি)।

সংস্থাটি বলছে, চক্রটি রাজধানীর উত্তরা এলাকায় ভুয়া অফিস খুলে উচ্চ পদ ও আকর্ষণীয় বেতনে চাকরি দেওয়ার পাশাপাশি ঘড়ি আমদানি-রফতানি ব্যবসার প্রলোভন দেখিয়ে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি ওই কর্মকর্তার কাছ থেকে ৪৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান বলেন, প্রতারিত হওয়ার পর ভুক্তভোগী সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা করেছেন।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ভুক্তভোগী ব্যক্তি বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটে কর্মরত ছিলেন। অবসর গ্রহণের পর প্রতারক চক্রের সদস্য মো. আব্দুর রশিদ উচ্চ পদে নিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে উত্তরা এলাকার একটি অফিসে ডেকে নেন। সেখানে বিসিজে (বাংলাদেশ চায়না জাপান) নামে কথিত একটি গ্রুপে অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার পাশাপাশি ২ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার মাসিক বেতনে পরিচালক পদে নিয়োগের জন্য বাদীর সঙ্গে আলোচনা হয়।

একইসঙ্গে ভুক্তভোগীকে লাভজনক একটি ব্যবসার প্রস্তাব দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে মো. আব্দুর রাজ্জাক নিজেকে ভারতীয় একটি কোম্পানির প্রতিনিধি এবং আমিনুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি নিজেকে কোম্পানিটির বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক পরিচয় দিয়ে ঘড়ি কেনাবেচার ব্যবসায় উদ্বুব্ধ করে। এভাবে ভুক্তভোগী ব্যক্তি একটি কল্পিত ব্যবসার ফাঁদে পড়েন।

চাকরির পাশাপাশি ভারতীয় কোম্পানির কাছে ঘড়ি সরবরাহের মাধ্যমে অল্প সময়ে অধিক মুনাফা অর্জনের সুযোগ দেখিয়ে ভুক্তভোগীকে বিনিয়োগে উৎসাহিত করা হয়। ব্যবসায় বিনিয়োগ ও মুনাফা ভাগাভাগিতে একটি মৌখিক চুক্তিও হয় তাদের মধ্যে।  

গ্রেফতার ব্যক্তিরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন, তারা বাদীর কাছ থেকে ধাপে ধাপে মোট ৪৫ লাখ টাকা প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নিয়েছেন। ঘড়ি কেনার পর ভারতীয় কোম্পানিটির কাছে উচ্চমূল্যে বিক্রি করে কয়েক কোটি টাকা লাভ দেওয়ার কথা বলে তারা এই প্রতারণা করেন বলেও স্বীকার করেছেন।

কিন্তু প্রতারকরা অর্থ গ্রহণের পর ভুক্তভোগীকে জানায়, ঘড়ি সরবরাহ সম্ভব হয়নি। আরও ১০ লাখ টাকা দেওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকে তারা।

এক পর্যায়ে ভুক্তভোগী বুঝতে পারেন, তিনি একটি সংঘবদ্ধ প্রতারণা চক্রের শিকার হয়েছেন। পরে তিনি তুরাগ থানায় গত ১৪ সেপ্টেম্বর মামলা করেন।

সিআইডি কর্মকর্তা জসীম উদ্দিন খান বলেন, মামলাটির তদন্তে পাওয়া তথ্য-প্রমাণ ও অন্যান্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, প্রতারক চক্রটি অবসরপ্রাপ্ত বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তাদের টার্গেট করে চাকরি দেওয়ার নামে ও ব্যবসায়িক প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করে। এই চক্রের সদস্যরা প্রতিটি অপরাধ সংঘটনের সময় ভিন্ন ভিন্ন ডিভাইস ব্যবহার করে এবং অপরাধ শেষ হয়ে গেলে সেসব ডিভাইস নষ্ট করে ফেলে।

সিআইডি জানায়, এর আগেও সনজ সাহার নামে ১৩টি, মোশারফ হোসেনের নামে তিনটি এবং শাহজাহানের নামে দুইটি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। এগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম বর্তমানে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি) ইউনিট পরিচালনা করছে। গ্রেফতার ব্যক্তিদের আদালতে সোপর্দ করা ও রিমান্ডের আবেদনসহ পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজধানীতে যানবাহন চুরির হিড়িক: প্রতিদিন গড়ে চুরি হচ্ছে একটি গাড়ি বা মোটরসাইকেল

অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তার ৪৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে গ্রেফতার ৩

আপডেট সময় : ০৭:২৫:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২৫

অবসরপ্রাপ্ত একজন সরকারি কর্মকর্তার কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে ৪৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া একটি চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন– সনজ সাহা ওরফে উজ্জ্বল চৌধুরী (৫৬), মো. মোশারফ হোসেন (৬৪) ও মো. শাহজাহান (৪৬)।

মঙ্গলবার (২ নভেম্বর) পুরান ঢাকার তাঁতিবাজার মোড় সংলগ্ন মালিটোলা পার্ক এলাকা থেকে চক্রটির তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি)।

সংস্থাটি বলছে, চক্রটি রাজধানীর উত্তরা এলাকায় ভুয়া অফিস খুলে উচ্চ পদ ও আকর্ষণীয় বেতনে চাকরি দেওয়ার পাশাপাশি ঘড়ি আমদানি-রফতানি ব্যবসার প্রলোভন দেখিয়ে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি ওই কর্মকর্তার কাছ থেকে ৪৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান বলেন, প্রতারিত হওয়ার পর ভুক্তভোগী সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা করেছেন।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ভুক্তভোগী ব্যক্তি বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটে কর্মরত ছিলেন। অবসর গ্রহণের পর প্রতারক চক্রের সদস্য মো. আব্দুর রশিদ উচ্চ পদে নিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে উত্তরা এলাকার একটি অফিসে ডেকে নেন। সেখানে বিসিজে (বাংলাদেশ চায়না জাপান) নামে কথিত একটি গ্রুপে অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার পাশাপাশি ২ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার মাসিক বেতনে পরিচালক পদে নিয়োগের জন্য বাদীর সঙ্গে আলোচনা হয়।

একইসঙ্গে ভুক্তভোগীকে লাভজনক একটি ব্যবসার প্রস্তাব দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে মো. আব্দুর রাজ্জাক নিজেকে ভারতীয় একটি কোম্পানির প্রতিনিধি এবং আমিনুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি নিজেকে কোম্পানিটির বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক পরিচয় দিয়ে ঘড়ি কেনাবেচার ব্যবসায় উদ্বুব্ধ করে। এভাবে ভুক্তভোগী ব্যক্তি একটি কল্পিত ব্যবসার ফাঁদে পড়েন।

চাকরির পাশাপাশি ভারতীয় কোম্পানির কাছে ঘড়ি সরবরাহের মাধ্যমে অল্প সময়ে অধিক মুনাফা অর্জনের সুযোগ দেখিয়ে ভুক্তভোগীকে বিনিয়োগে উৎসাহিত করা হয়। ব্যবসায় বিনিয়োগ ও মুনাফা ভাগাভাগিতে একটি মৌখিক চুক্তিও হয় তাদের মধ্যে।  

গ্রেফতার ব্যক্তিরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন, তারা বাদীর কাছ থেকে ধাপে ধাপে মোট ৪৫ লাখ টাকা প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নিয়েছেন। ঘড়ি কেনার পর ভারতীয় কোম্পানিটির কাছে উচ্চমূল্যে বিক্রি করে কয়েক কোটি টাকা লাভ দেওয়ার কথা বলে তারা এই প্রতারণা করেন বলেও স্বীকার করেছেন।

কিন্তু প্রতারকরা অর্থ গ্রহণের পর ভুক্তভোগীকে জানায়, ঘড়ি সরবরাহ সম্ভব হয়নি। আরও ১০ লাখ টাকা দেওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকে তারা।

এক পর্যায়ে ভুক্তভোগী বুঝতে পারেন, তিনি একটি সংঘবদ্ধ প্রতারণা চক্রের শিকার হয়েছেন। পরে তিনি তুরাগ থানায় গত ১৪ সেপ্টেম্বর মামলা করেন।

সিআইডি কর্মকর্তা জসীম উদ্দিন খান বলেন, মামলাটির তদন্তে পাওয়া তথ্য-প্রমাণ ও অন্যান্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, প্রতারক চক্রটি অবসরপ্রাপ্ত বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তাদের টার্গেট করে চাকরি দেওয়ার নামে ও ব্যবসায়িক প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করে। এই চক্রের সদস্যরা প্রতিটি অপরাধ সংঘটনের সময় ভিন্ন ভিন্ন ডিভাইস ব্যবহার করে এবং অপরাধ শেষ হয়ে গেলে সেসব ডিভাইস নষ্ট করে ফেলে।

সিআইডি জানায়, এর আগেও সনজ সাহার নামে ১৩টি, মোশারফ হোসেনের নামে তিনটি এবং শাহজাহানের নামে দুইটি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। এগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম বর্তমানে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি) ইউনিট পরিচালনা করছে। গ্রেফতার ব্যক্তিদের আদালতে সোপর্দ করা ও রিমান্ডের আবেদনসহ পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।