এক নারীর অদম্য ইচ্ছা, কঠোর পরিশ্রম এবং সৃজনশীলতার মাধ্যমে নিজের ভাগ্যকে বদলে ফেলার এক অসাধারণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন মাসুমা আক্তার। তার হাতে তৈরি গরুর মাংসের আচার বর্তমানে বিশ্বজুড়ে সমাদৃত এবং নিয়মিত ১৭টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে। এই ব্যবসায় তিনি মাসে ৩ লাখ টাকার বেশি আয় করছেন।
বগুড়ার কইগাড়ি গ্রামের মাসুমা আক্তারের স্বামী রাজিবুল ইসলাম একটি চার তারকা হোটেলে চাকরি করতেন। ২০২০ সালে করোনা মহামারির প্রাদুর্ভাবের পর তার স্বামীর চাকরি চলে যায়। এতে তাদের সংসারে চরম অভাব দেখা দেয়। কিন্তু মাসুমা এই প্রতিকূলতাকে জয় করার সিদ্ধান্ত নেন।
ব্যবসায়িক জীবনের যাত্রা শুরু হয় তার মেয়ের জমানো ৩৫০ টাকা দিয়ে। সেই টাকা দিয়ে তিনি অনলাইনে আলুর চিপস বিক্রি শুরু করেন। যদিও এই ব্যবসা খুব বেশি সফল হয়নি, তবে তিনি দমে যাননি। এরপর তিনি মায়ের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা ধার নিয়ে কাপড়ের ব্যবসা শুরু করেন। কিন্তু এই ব্যবসাও তেমন লাভজনক না হওয়ায় তিনি নতুন কিছু করার কথা ভাবতে থাকেন।
ঠিক সেই মুহূর্তে, শাশুড়ির কাছ থেকে পাওয়া গরুর মাংসের আচার তৈরির পুরোনো রেসিপি তাকে নতুন করে প্রেরণা যোগায়। তিনি মাত্র দুই কেজি মাংস দিয়ে আচার তৈরি করে তার ছবি ফেসবুকে পোস্ট করেন। প্রথম ব্যাচের আচারগুলো দ্রুত অনলাইনে বিক্রি হয়ে যায়, যা তার আত্মবিশ্বাসকে বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়।
এই সাফল্যকে পুঁজি করে তিনি ‘আরএম ফুড কর্নার’ নামে একটি নতুন ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে এই ব্র্যান্ডের অধীনেই তার ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে। ধীরে ধীরে মাংসের আচার উৎপাদনে তিনি বিশেষ দক্ষতা অর্জন করেন এবং তার পণ্য দেশ ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক বাজারেও পরিচিতি লাভ করে। তার এই উদ্যোগ শুধু তার নিজের ভাগ্যই বদলায়নি, বরং অনেক নারীর জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 
























