ঢাকা ০৭:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি, আদালতকে তনি

নারী উদ্যোক্তা রোবাইয়াত ফাতিমা তনির মামলায় সাংবাদিক ও ইউটিউবার আকাশ নিবিড়ের রিমান্ডের আবেদন নাকচ করে তাকে জেলগেটে দুই দিন জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের শুনানি নিয়ে বুধবার (৩ ডিসেম্বর) এ আদেশ দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা। আদালতে উপস্থিত হয়ে তনি বলেছেন, আমাকে এবং আমার সন্তানদের নিয়ে আকাশ নিবিড় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অনেক বাজে কমেন্ট করেছে। সে কারাগারে থেকে আমাকে হুমকি দিয়ে পোস্ট করেছে। কারাগারে থেকে কীভাবে পোস্ট করে? কারাগার থেকে বের হয়ে খেয়ে ফেলবে বলছে। আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এভাবে আমাকে হ্যারাজ করার মানে কী?

জামিন আবেদন করে আসামি পক্ষের আইনজীবী শামীম শুনানিতে বলেন, আকাশ নিবিড় বাদীর কাছে ১২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছে; যার প্রমাণ নেই। সুতরাং এ মামলায় রিমান্ডের কিছু নেই। বাদী নিজেই সামাজিকমাধ্যমে লাইভে এসে বাজে অনেক কথা বলেন। শুধু আকাশ নিবিড় না এমন ৫০০ জন তার পোস্টে কমেন্ট করেছেন। তাহলে সবার বিরুদ্ধে মামলা করতে হবে।

বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জান্নাতুল ফেরদৌস জান্নাত আসামির জামিন বাতিল চেয়ে আদালতকে বলেন, আসামি কোনও সাংবাদিক না, পড়াশোনা নেই। চাঁদা ও গাড়ি দাবি করে বাদি তনির কাছে।

শুনানি শেষে তনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আদালতের আদেশর আগে কিছু বলতে চাই না। আমি আদালতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।

গত ২৭ নভেম্বর শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইনের আদালত আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরে আজ তদন্ত কর্মকর্তা তার পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।

কারাগারে নেওয়ার সময় আকাশ নিবিড় সাংবাদিকদের বলেন, আমার কাছে তনির বিরুদ্ধে ১৩০ পৃষ্ঠার এভিডেন্স আছে। চ্যালেজ দিচ্ছি প্রমাণ করতে না পারলে সাংবাদিকতা ছেড়ে দেবো। তনি একটা মিথ্যাবাদী, তার বিচার হওয়া উচিত।

গত ২১ নভেম্বর রোবাইয়াত ফাতিমা তনি বাদী হয়ে বনানী থানায় সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশে মামলাটি দায়ের করেন। ২৬ নভেম্বর রাত ১০টার দিকে রাজধানীর হাতিরঝিল এলাকা থেকে আকাশকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরে তনি ও তার পরিবারকে নিয়ে অশালীন ও মিথ্যা, বিভ্রান্তিমূলক পোস্ট করতো আসামি। ২১ সেপ্টেম্বর বিকাল ৪টার দিকে তনি তার বনানী বাসায় বসে নিজের ফেসবুক আইডি থেকে দেখতে পান, মৌ সুলতানা নামে ফেসবুক আইডি থেকে তাকে ও তার পরিবারকে নিয়ে বিভিন্ন অশ্লীল কথাবার্তা দিয়ে ভিডিও তৈরি করে সেগুলো ফেসবুকে পোস্ট করা হয়। এর কিছুদিন পর তিনি লক্ষ্য করেন, তাকে ও তার স্বামী মৃত সাদাদ রহমানকে নিয়ে অশ্লীল, মিথ্যা, বানোয়াট এবং বিভ্রান্তিকর কথাবার্তা বলে ভিডিও তৈরি করে ফেসবুকে পোস্ট করা হয়।

এছাড়াও আসামি আকাশ নিবিড় তার ইউটিউব চ্যানেল থেকে তনিকে নিয়ে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য দিয়ে ভিডিও পোস্ট করে। আসামি তাকে, তার পরিবারের সদস্য এবং তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ভুয়া, মিথ্যা, বানোয়াট তথ্য সংবলিত ভিডিও তৈরি করে ফেসবুকে পোস্ট করতে থাকে। তনি ও তার স্বামী সাদাদ রহমানের বিয়ের ভুয়া কাবিননামা তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খাঁটি বলে প্রচার করে আসামি। আসামি তনির সন্তানের জন্মকে প্রশ্নবিদ্ধ করে একটি ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল করার উদ্দেশ্যে পোস্ট করে।

 

 

 

 

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি, আদালতকে তনি

আপডেট সময় : ০৫:০৬:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২৫

নারী উদ্যোক্তা রোবাইয়াত ফাতিমা তনির মামলায় সাংবাদিক ও ইউটিউবার আকাশ নিবিড়ের রিমান্ডের আবেদন নাকচ করে তাকে জেলগেটে দুই দিন জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের শুনানি নিয়ে বুধবার (৩ ডিসেম্বর) এ আদেশ দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা। আদালতে উপস্থিত হয়ে তনি বলেছেন, আমাকে এবং আমার সন্তানদের নিয়ে আকাশ নিবিড় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অনেক বাজে কমেন্ট করেছে। সে কারাগারে থেকে আমাকে হুমকি দিয়ে পোস্ট করেছে। কারাগারে থেকে কীভাবে পোস্ট করে? কারাগার থেকে বের হয়ে খেয়ে ফেলবে বলছে। আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এভাবে আমাকে হ্যারাজ করার মানে কী?

জামিন আবেদন করে আসামি পক্ষের আইনজীবী শামীম শুনানিতে বলেন, আকাশ নিবিড় বাদীর কাছে ১২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছে; যার প্রমাণ নেই। সুতরাং এ মামলায় রিমান্ডের কিছু নেই। বাদী নিজেই সামাজিকমাধ্যমে লাইভে এসে বাজে অনেক কথা বলেন। শুধু আকাশ নিবিড় না এমন ৫০০ জন তার পোস্টে কমেন্ট করেছেন। তাহলে সবার বিরুদ্ধে মামলা করতে হবে।

বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জান্নাতুল ফেরদৌস জান্নাত আসামির জামিন বাতিল চেয়ে আদালতকে বলেন, আসামি কোনও সাংবাদিক না, পড়াশোনা নেই। চাঁদা ও গাড়ি দাবি করে বাদি তনির কাছে।

শুনানি শেষে তনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আদালতের আদেশর আগে কিছু বলতে চাই না। আমি আদালতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।

গত ২৭ নভেম্বর শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইনের আদালত আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরে আজ তদন্ত কর্মকর্তা তার পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।

কারাগারে নেওয়ার সময় আকাশ নিবিড় সাংবাদিকদের বলেন, আমার কাছে তনির বিরুদ্ধে ১৩০ পৃষ্ঠার এভিডেন্স আছে। চ্যালেজ দিচ্ছি প্রমাণ করতে না পারলে সাংবাদিকতা ছেড়ে দেবো। তনি একটা মিথ্যাবাদী, তার বিচার হওয়া উচিত।

গত ২১ নভেম্বর রোবাইয়াত ফাতিমা তনি বাদী হয়ে বনানী থানায় সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশে মামলাটি দায়ের করেন। ২৬ নভেম্বর রাত ১০টার দিকে রাজধানীর হাতিরঝিল এলাকা থেকে আকাশকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরে তনি ও তার পরিবারকে নিয়ে অশালীন ও মিথ্যা, বিভ্রান্তিমূলক পোস্ট করতো আসামি। ২১ সেপ্টেম্বর বিকাল ৪টার দিকে তনি তার বনানী বাসায় বসে নিজের ফেসবুক আইডি থেকে দেখতে পান, মৌ সুলতানা নামে ফেসবুক আইডি থেকে তাকে ও তার পরিবারকে নিয়ে বিভিন্ন অশ্লীল কথাবার্তা দিয়ে ভিডিও তৈরি করে সেগুলো ফেসবুকে পোস্ট করা হয়। এর কিছুদিন পর তিনি লক্ষ্য করেন, তাকে ও তার স্বামী মৃত সাদাদ রহমানকে নিয়ে অশ্লীল, মিথ্যা, বানোয়াট এবং বিভ্রান্তিকর কথাবার্তা বলে ভিডিও তৈরি করে ফেসবুকে পোস্ট করা হয়।

এছাড়াও আসামি আকাশ নিবিড় তার ইউটিউব চ্যানেল থেকে তনিকে নিয়ে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য দিয়ে ভিডিও পোস্ট করে। আসামি তাকে, তার পরিবারের সদস্য এবং তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ভুয়া, মিথ্যা, বানোয়াট তথ্য সংবলিত ভিডিও তৈরি করে ফেসবুকে পোস্ট করতে থাকে। তনি ও তার স্বামী সাদাদ রহমানের বিয়ের ভুয়া কাবিননামা তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খাঁটি বলে প্রচার করে আসামি। আসামি তনির সন্তানের জন্মকে প্রশ্নবিদ্ধ করে একটি ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল করার উদ্দেশ্যে পোস্ট করে।