সরকার ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ’-এর গেজেট প্রকাশ করেছে, যেখানে গুমের অপরাধে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। গতকাল রাতে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় এই অধ্যাদেশের গেজেট প্রকাশ করে। গত ৬ নভেম্বর অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ এই অধ্যাদেশের খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছিল।
গুমের অপরাধে দায়ী ব্যক্তির জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ৫০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি, অনধিক ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। গুমের ফলে কোনো ব্যক্তির মৃত্যু ঘটলে বা গুমের পাঁচ বছর পরেও তাকে জীবিত বা মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব না হলে দায়ী ব্যক্তির সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। সেক্ষেত্রে ১ কোটি টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। গুমের আদেশ বা অনুমতি দানকারী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বা কমান্ডারদেরও সমান সাজার বিধান রাখা হয়েছে। অধস্তনদের নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলেও সমান দণ্ড প্রদানের সুযোগ রাখা হয়েছে।
কোনো সরকারি কর্মচারী বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো সদস্য যদি কাউকে গ্রেপ্তার, আটক, অপহরণ বা স্বাধীনতা হরণের পর বিষয়টি অস্বীকার করেন বা ব্যক্তির অবস্থান গোপন রাখেন এবং এর ফলে ওই ব্যক্তি আইনগত সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত হন, তবে তা শাস্তিযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ বলে গণ্য হবে। গুমের সাক্ষ্যপ্রমাণ নষ্ট করলে বা গুমের উদ্দেশ্যে গোপন আটক কেন্দ্র নির্মাণ বা ব্যবহার করলে সাত বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
গুম অপরাধের বিচারের জন্য বিভাগীয় বা জেলা পর্যায়ে এক বা একাধিক ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার ট্রাইব্যুনাল’ গঠনের কথা বলা হয়েছে। অভিযোগ গঠনের ১২০ কার্যদিবসের মধ্যে বিচার সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। অধ্যাদেশে গুমের অপরাধকে জামিন ও আপস অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে। শুধু জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অপরাধ আমলে গ্রহণ করে বিচার করতে পারবেন এ ট্রাইব্যুনাল। ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করার আগ পর্যন্ত গ্রেপ্তার ব্যক্তির অবস্থান ‘রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার স্বার্থে’ গোপন রাখা যাবে। অভিযুক্ত ব্যক্তি পলাতক হলেও তার অনুপস্থিতিতে বিচার সম্পন্ন করা যাবে।
এছাড়াও অধ্যাদেশে গুম হওয়া ব্যক্তির সম্পত্তি ব্যবহার বা হস্তান্তরের বিষয়ে পৃথক ধারা রয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 























