সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার ভদ্রঘাট এলাকায় সিরাজগঞ্জ-বগুড়া মহাসড়কের পাশে প্রায় ১৬ বছর ধরে চায়ের দোকান চালিয়ে সংসার নির্বাহ করছেন আব্দুল হাই সেখ। তার এই সংগ্রামমুখর জীবনযাত্রার মাঝেও ছেলে জুবায়েদ হোসেন প্রান্ত এবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় কারিগরি শাখা থেকে অর্জন করেছে জিপিএ-৫। অভাব-অনটনের সঙ্গে লড়াই করে ছেলের এমন অসাধারণ সাফল্যে পরিবার ও বিদ্যালয়জুড়ে এখন আনন্দের বন্যা বইছে।
জুবায়েদ হোসেন প্রান্ত ভদ্রঘাট শামছুন মহসীন উচ্চ বিদ্যালয়ের কারিগরি শাখার শিক্ষার্থী। তার বিদ্যালয়টি বাবার চায়ের দোকানের ঠিক বিপরীতে অবস্থিত। নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি প্রান্ত সুযোগ পেলেই বাবার চায়ের দোকানে সহযোগিতা করত। বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরাও তার শিক্ষাজীবনে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছেন।
ছেলের ফলাফলে উচ্ছ্বসিত বাবা আব্দুল হাই সেখ বলেন, “আমার মতো খুশি আজকে কেউ নেই। আমার ছেলে জিপিএ-৫ পেয়েছে। সে নিয়মিত লেখাপড়া করত, কোনো বাজে আড্ডা দিত না। নিয়মিত স্কুলেও যেত।” ভবিষ্যতে ছেলেকে একজন ‘মানুষের মতো মানুষ’ হিসেবে দেখতে চান, এটাই তার স্বপ্ন।
নিজের সাফল্য নিয়ে জুবায়েদ হোসেন প্রান্তের স্বপ্ন আরও বড়। সে জানায়, “আমি পলিটেকনিক থেকে পড়াশোনা করে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার হতে চাই। বাবার চায়ের দোকানে সুযোগ পেলে আমি সহযোগিতা করতাম। পড়াশোনা শেষ করে একজন ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার হতে চাই।”
ভদ্রঘাট শামছুন মহসীন উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ইয়ামিন হোসেন বলেন, “বহির্বিশ্বে চা দোকানি হয়েও প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। আমাদের দেশে স্কুলের পাশে চা বিক্রেতার ছেলে জিপিএ-৫ পেয়েছে, এটা আমাদের জন্যও আনন্দের। ফলাফল প্রকাশের পর বাবা ও ছেলে মিষ্টি নিয়ে স্কুলে এসেছিলেন। আমরাও খুব খুশি হয়েছি।” প্রান্তের এই সাফল্য যেন নতুন করে স্বপ্ন দেখার গল্প তৈরি করেছে, যেখানে বাবার চায়ের দোকান আর বিদ্যালয়ের মাঝের ছোট্ট দূরত্ব পেরিয়ে সে এখন পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে চায় একজন ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার হয়ে।
রিপোর্টারের নাম 

























