মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০৬:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

কাজীপুরে যমুনা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে হুমকির মুখে জনপদ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:২৮:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

শরীফুল ইসলাম ইন্না, সিরাজগঞ্জ: উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধির ফলে কাজীপুর উপজেলায় তীব্র নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। যমুনা নদীবেষ্টিত জেলার কাজীপুর, সদর, বেলকুচি, শাহজাদপুর ও চৌহালী উপজেলাসহ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। বিশেষ করে কাজীপুর উপজেলার চরগিরিস এলাকায় ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে এবং চরগিরিস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ঘরবাড়ি, গাছপালাসহ বহু স্থাপনা হুমকির মুখে পড়েছে।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানিয়েছে, জেলার অভ্যন্তরীণ নদনদী যেমন গুমানী, গোহালা, বড় পাঙ্গাসী, ইছামতি, ফুলজোর, বাঙালি, বড়াল, হুরাসাগর নদীর পানিও বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে পানি বৃদ্ধি পেলেও বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা নেই বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

কাজীপুর উপজেলার চরগিরিস এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাক জানান, গত কয়েকদিন ধরে যমুনার ভাঙন কিছুটা কম থাকলেও গত দুদিন ধরে তা তীব্র আকার ধারণ করেছে। রাস্তাঘাট, ফসলি জমি, গাছপালা সবকিছু দ্রুত নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। চোখের পলকে ঘরবাড়ি, গাছপালা ও ফসলি জমি নদীতে ধসে পড়ছে এবং সরিয়ে নেওয়ারও সময় পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ভাঙন ঠেকাতে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। চরগিরিস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় যেকোনো মুহূর্তে যমুনায় বিলীন হয়ে যেতে পারে।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী জাকির হোসেন বলেন, টানা সাতদিন ধরে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে নদীর নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধ হার্ড পয়েন্ট এলাকায় ছয় সেন্টিমিটার এবং কাজীপুর মেঘাই ঘাট পয়েন্টে তিন সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার যথাক্রমে ৬০ সেন্টিমিটার ও ১০৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেসুর রহমান বলেন, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে গত কয়েকদিন ধরে যমুনার পানি বাড়ছে। পানি বৃদ্ধির কারণে যমুনার তীরবর্তী চরাঞ্চলের কিছু নিম্নভূমি প্লাবিত হয়েছে। পানি বৃদ্ধি আরো তিন-চারদিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে তিনি জানান। তবে বিপৎসীমা অতিক্রম করা বা বড় ধরনের বন্যার কোনো আশঙ্কা নেই বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যশোর বোর্ডে এসএসসি পাসের হারে উদ্বেগজনক পতন, শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বৃদ্ধি

কাজীপুরে যমুনা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে হুমকির মুখে জনপদ

আপডেট সময় : ০৫:২৮:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

শরীফুল ইসলাম ইন্না, সিরাজগঞ্জ: উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধির ফলে কাজীপুর উপজেলায় তীব্র নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। যমুনা নদীবেষ্টিত জেলার কাজীপুর, সদর, বেলকুচি, শাহজাদপুর ও চৌহালী উপজেলাসহ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। বিশেষ করে কাজীপুর উপজেলার চরগিরিস এলাকায় ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে এবং চরগিরিস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ঘরবাড়ি, গাছপালাসহ বহু স্থাপনা হুমকির মুখে পড়েছে।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানিয়েছে, জেলার অভ্যন্তরীণ নদনদী যেমন গুমানী, গোহালা, বড় পাঙ্গাসী, ইছামতি, ফুলজোর, বাঙালি, বড়াল, হুরাসাগর নদীর পানিও বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে পানি বৃদ্ধি পেলেও বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা নেই বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

কাজীপুর উপজেলার চরগিরিস এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাক জানান, গত কয়েকদিন ধরে যমুনার ভাঙন কিছুটা কম থাকলেও গত দুদিন ধরে তা তীব্র আকার ধারণ করেছে। রাস্তাঘাট, ফসলি জমি, গাছপালা সবকিছু দ্রুত নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। চোখের পলকে ঘরবাড়ি, গাছপালা ও ফসলি জমি নদীতে ধসে পড়ছে এবং সরিয়ে নেওয়ারও সময় পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ভাঙন ঠেকাতে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। চরগিরিস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় যেকোনো মুহূর্তে যমুনায় বিলীন হয়ে যেতে পারে।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী জাকির হোসেন বলেন, টানা সাতদিন ধরে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে নদীর নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধ হার্ড পয়েন্ট এলাকায় ছয় সেন্টিমিটার এবং কাজীপুর মেঘাই ঘাট পয়েন্টে তিন সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার যথাক্রমে ৬০ সেন্টিমিটার ও ১০৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেসুর রহমান বলেন, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে গত কয়েকদিন ধরে যমুনার পানি বাড়ছে। পানি বৃদ্ধির কারণে যমুনার তীরবর্তী চরাঞ্চলের কিছু নিম্নভূমি প্লাবিত হয়েছে। পানি বৃদ্ধি আরো তিন-চারদিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে তিনি জানান। তবে বিপৎসীমা অতিক্রম করা বা বড় ধরনের বন্যার কোনো আশঙ্কা নেই বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন।