২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকারের অধীনে দেশ পরিচালিত হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধান শেখ হাসিনার প্রতি ভারতের দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন এসেছে বলে জানা গেছে। দিল্লিতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার রাজনৈতিক পুনর্বাসন ও আওয়ামী লীগের পুনর্গঠনে ভারত সহায়তা করবে বলে আশা করা হলেও, বিগত দুই বছরে নয়াদিল্লির বিভিন্ন প্রস্তাব তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে ভারতীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনের পূর্বে আওয়ামী লীগের কৌশল নির্ধারণ নিয়ে ভারতের পক্ষ থেকে কিছু পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল, যা শেখ হাসিনার কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি। শুধু তাই নয়, দলের নেতৃত্বে সাময়িক বা আংশিক পরিবর্তনের প্রস্তাবও তিনি নাকচ করেছেন। দলীয় নেতৃত্বের রাশ নিজের বা পরিবারের বাইরে অন্য কারো হাতে যাওয়াটা তিনি কোনোভাবেই মেনে নিতে রাজি নন।
ঐতিহ্যগতভাবে, ভারত তার মিত্রদের কঠিন সময়ে আশ্রয় দিয়ে আসছে। দালাই লামা বা আফগানিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ নাজিবুল্লাহর পরিবারের মতো অনেকেই ভারতের আতিথেয়তা পেয়েছেন এবং তারা ভারতের পররাষ্ট্র নীতির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে চলেছেন। তবে, শেখ হাসিনার ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন বলে মনে করছেন দিল্লির পর্যবেক্ষকরা। তাদের মতে, দালাই লামা যেমন ভারতের পররাষ্ট্রনীতির একটি কার্যকর ‘হাতিয়ার’ হিসেবে ভূমিকা রেখেছেন, শেখ হাসিনার ক্ষেত্রে তেমনটা ঘটেনি। বরং তাকে ভারতের জন্য একটি ‘সম্পদ’ হিসেবে নয়, একটি ‘বোঝা’ বা ‘অসুবিধা’ সৃষ্টিকারী উপাদান হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আঞ্চলিক ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতার নিরিখেও শেখ হাসিনাকে নিয়ে দিল্লির অস্বস্তি বেড়েছে। যদিও তিনি বর্তমানে দিল্লিতে সসম্মানেই অবস্থান করছেন, কিন্তু তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং ভারতের সঙ্গে তার সম্পর্কের গতিপ্রকৃতি নিয়ে নতুন করে বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 





















