বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) প্রধান ফটকে লেখা ‘শিবিরমুক্ত ক্যাম্পাস’ স্লোগানটি ৪৮ ঘণ্টা পর নিজ উদ্যোগে মুছে দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে সংগঠনটি জানিয়েছে, অতি-উৎসাহী কয়েকজন শিক্ষার্থীর কারণে দেয়াল লিখনটি হয়েছিল এবং তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্য ও শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা প্রধান ফটকের দেয়াল থেকে লিখন মুছে দেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন ও ফারহান ফারুকী এবং প্রচার সম্পাদক মাসুদ রানা উপস্থিত ছিলেন। পরে মাসুদ রানা ছাত্রদলের প্রেস ইউনিটের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে দেয়াল পরিষ্কারের কয়েকটি ছবি প্রকাশ করে লেখেন, “বেরোবি প্রধান ফটকের সৌন্দর্য রক্ষার্থে দেয়াল লিখনটি মুছে দেওয়া হলো বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের পক্ষ থেকে।”
গত সোমবার (৩ আগস্ট, ২০২৬) বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা স্মারক চত্বরে ছাত্রশিবির ‘জুলাই প্রদর্শনী’র আয়োজন করে। প্রদর্শনীতে আদালত কর্তৃক দণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী, মতিউর রহমান নিজামী ও মীর কাসেম আলীর ছবি এবং তাঁদের সম্পর্কে একটি ব্যানার প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়, যা পরবর্তীতে সংঘর্ষে রূপ নেয়। এই সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হন।
এই ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলসহ রংপুর জেলা ও মহানগর ছাত্রদল, যুবদল এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের কয়েক হাজার নেতাকর্মী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নেন। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং কয়েক ঘণ্টা প্রধান ফটক অবরোধ করে রাখেন। রাত ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাকির জিম ও কর্মী মামুনের নেতৃত্বে প্রধান ফটকের দুই পাশে ‘শিবিরমুক্ত ক্যাম্পাস’ লেখা হয়। একই সময়ে কয়েকজন জামায়াত নেতার ছবি সম্বলিত ব্যানার প্রদর্শন ও জুতা নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটে।
ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহ-দপ্তর সম্পাদক আবতাহী সামিন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় যে, বহিরাগতদের হামলার প্রতিবাদ কর্মসূচি শেষে অতি-উৎসাহী কয়েকজন শিক্ষার্থীর কারণে দেয়াল লিখনের ঘটনা ঘটেছিল। এতে দুঃখ প্রকাশ করে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দেয়াল লিখন অপসারণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, যা বৃহস্পতিবার রাতে বাস্তবায়ন করা হলো।
রিপোর্টারের নাম 
























