মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ১২:৫০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬

অদম্য মায়ের দৃষ্টান্ত: সন্তান প্রসবের কয়েক ঘণ্টা পরই এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিলেন আনাবিউল উম্মি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৫৯:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর দৃঢ় মনোবলের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন নীলফামারীর সৈয়দপুরের এক এইচএসসি পরীক্ষার্থী। বৃহস্পতিবার সকালে পুত্রসন্তান জন্ম দেওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই তিনি সমাজবিজ্ঞান পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। বর্তমানে মা ও নবজাতক দুজনই সুস্থ রয়েছেন।

আনাবিউল উম্মি, সৈয়দপুর শহরের কয়া গোলাহাট স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী এবং চলতি (২০২৬) সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থী। তার শ্বশুরবাড়ি নীলফামারীর বোতলাগাড়ি ইউনিয়নে। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার মানবিক বিভাগের সমাজবিজ্ঞান পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। এ সময় হঠাৎ প্রসববেদনা শুরু হলে স্বজনরা তাকে দ্রুত সৈয়দপুর মা ও শিশু হাসপাতালে নিয়ে যান। সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে সেখানেই তিনি একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন।

সন্তান জন্মের প্রায় তিন ঘণ্টা পর, দুপুর দেড়টার দিকে নবজাতক ও স্বজনদের সঙ্গে নিয়ে আনাবিউল উম্মি সৈয়দপুর মহিলা মহাবিদ্যালয় পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছান। দুপুর ২টায় নির্ধারিত সময়েই তিনি সমাজবিজ্ঞান বিষয়ের পরীক্ষায় অংশ নেন। শারীরিক অসুস্থতা সত্ত্বেও পরীক্ষা শেষে তিনি জানান, তার পরীক্ষা ভালো হয়েছে। পরীক্ষা শেষে নবজাতককে নিয়ে তিনি বাড়ি ফিরে যান।

আনাবিউল উম্মির বাবা আজহার আলী বলেন, “সন্তান প্রসবের পর আমরা পরিবারের সবাই তাকে এবার পরীক্ষা না দিতে বলেছিলাম। কিন্তু সে এক বছর নষ্ট করতে রাজি হয়নি। ছোটবেলা থেকে অনেক কষ্ট করে পড়াশোনা করেছে। তার দৃঢ় মানসিক শক্তির কারণেই প্রসবের কয়েক ঘণ্টা পরও সে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে।” পরীক্ষা চলাকালে এক স্বজন নবজাতককে পরীক্ষাকক্ষের বাইরে কোলে নিয়ে অপেক্ষা করেন, যাতে আনাবিউল উম্মি নির্বিঘ্নে পরীক্ষা দিতে পারেন। পরীক্ষা কেন্দ্রের সচিব ও সৈয়দপুর মহিলা মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ সাহীদ সাহাব বলেন, “পরীক্ষা শুরুর আগেই পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি আমাদের জানান। আমরা তার জন্য প্রয়োজনীয় বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করি। আনাবিউল উম্মি একজন সচেতন ও পরিশ্রমী ছাত্রী। পরীক্ষা শেষে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে মা ও নবজাতককে উপহার দেওয়া হয়েছে। আমরা শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ সফলতা এবং নবজাতকের সুস্থ ও সুন্দর জীবন কামনা করি।”

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এশিয়া কাপ স্কেটিংয়ে পদক জয়ের লক্ষ্য নিয়ে চীন যাচ্ছে বাংলাদেশ দল

অদম্য মায়ের দৃষ্টান্ত: সন্তান প্রসবের কয়েক ঘণ্টা পরই এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিলেন আনাবিউল উম্মি

আপডেট সময় : ১১:৫৯:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬

অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর দৃঢ় মনোবলের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন নীলফামারীর সৈয়দপুরের এক এইচএসসি পরীক্ষার্থী। বৃহস্পতিবার সকালে পুত্রসন্তান জন্ম দেওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই তিনি সমাজবিজ্ঞান পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। বর্তমানে মা ও নবজাতক দুজনই সুস্থ রয়েছেন।

আনাবিউল উম্মি, সৈয়দপুর শহরের কয়া গোলাহাট স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী এবং চলতি (২০২৬) সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থী। তার শ্বশুরবাড়ি নীলফামারীর বোতলাগাড়ি ইউনিয়নে। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার মানবিক বিভাগের সমাজবিজ্ঞান পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। এ সময় হঠাৎ প্রসববেদনা শুরু হলে স্বজনরা তাকে দ্রুত সৈয়দপুর মা ও শিশু হাসপাতালে নিয়ে যান। সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে সেখানেই তিনি একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন।

সন্তান জন্মের প্রায় তিন ঘণ্টা পর, দুপুর দেড়টার দিকে নবজাতক ও স্বজনদের সঙ্গে নিয়ে আনাবিউল উম্মি সৈয়দপুর মহিলা মহাবিদ্যালয় পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছান। দুপুর ২টায় নির্ধারিত সময়েই তিনি সমাজবিজ্ঞান বিষয়ের পরীক্ষায় অংশ নেন। শারীরিক অসুস্থতা সত্ত্বেও পরীক্ষা শেষে তিনি জানান, তার পরীক্ষা ভালো হয়েছে। পরীক্ষা শেষে নবজাতককে নিয়ে তিনি বাড়ি ফিরে যান।

আনাবিউল উম্মির বাবা আজহার আলী বলেন, “সন্তান প্রসবের পর আমরা পরিবারের সবাই তাকে এবার পরীক্ষা না দিতে বলেছিলাম। কিন্তু সে এক বছর নষ্ট করতে রাজি হয়নি। ছোটবেলা থেকে অনেক কষ্ট করে পড়াশোনা করেছে। তার দৃঢ় মানসিক শক্তির কারণেই প্রসবের কয়েক ঘণ্টা পরও সে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে।” পরীক্ষা চলাকালে এক স্বজন নবজাতককে পরীক্ষাকক্ষের বাইরে কোলে নিয়ে অপেক্ষা করেন, যাতে আনাবিউল উম্মি নির্বিঘ্নে পরীক্ষা দিতে পারেন। পরীক্ষা কেন্দ্রের সচিব ও সৈয়দপুর মহিলা মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ সাহীদ সাহাব বলেন, “পরীক্ষা শুরুর আগেই পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি আমাদের জানান। আমরা তার জন্য প্রয়োজনীয় বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করি। আনাবিউল উম্মি একজন সচেতন ও পরিশ্রমী ছাত্রী। পরীক্ষা শেষে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে মা ও নবজাতককে উপহার দেওয়া হয়েছে। আমরা শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ সফলতা এবং নবজাতকের সুস্থ ও সুন্দর জীবন কামনা করি।”