মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তার প্রভাবে বৃহস্পতিবার সারা দেশে বৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এই বৃষ্টি প্রবণতা আরও দুই দিন অব্যাহত থাকতে পারে। এরপর ১০ থেকে ১৩ আগস্টের মধ্যে স্বল্প সময়ের ব্যবধানে সাগরে দুটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এই সময়ে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়াবিদ একেএম নাজমুল হক জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার সারা দেশেই কমবেশি বৃষ্টি হয়েছে, তবে চট্টগ্রাম বিভাগে বৃষ্টির প্রবণতা সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা গেছে। আগামী দুই দিনও এই প্রবণতা সারা দেশে অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও জানান, ১০ থেকে ১৩ আগস্টের মধ্যে স্বল্প সময়ের মধ্যে সাগরে দুটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে প্রথমটি তেমন শক্তিশালী না হলেও দ্বিতীয়টি গভীর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সিস্টেম দুটি সৃষ্টি হওয়ার পর এর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে আবহাওয়া দপ্তর বিস্তারিত পূর্বাভাস দেবে।
এর আগে আবহাওয়াবিদ ড. ওমর ফারুক জানিয়েছিলেন, সবচেয়ে বৃষ্টিপ্রবণ শ্রাবণ মাসে দেশজুড়ে কমবেশি বৃষ্টি থাকবে। মাঝে কিছুটা বিরতি এলেও ১০ বা ১১ আগস্ট থেকে বৃষ্টি আবার বাড়বে। নতুন লঘুচাপের প্রভাবে ১৪ আগস্ট থেকে বৃষ্টি আরও বাড়তে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আবহাওয়া দপ্তর জানায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত রাজধানীতে ৩৫ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীতে ৫০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছিল। টানা দুই দিনের বৃষ্টিতে রাজধানীর নিম্নাঞ্চলের অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে, যা জনদুর্ভোগের কারণ হয়েছে। বিশেষ করে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত থেমে থেমে হওয়া ঝুম বৃষ্টিতে অনেক সড়কে তীব্র যানজট দেখা দেয়, যা নগরবাসীকে চরম দুর্ভোগে ফেলেছে।
খিলগাঁও এলাকার বাসিন্দা পরিমল দাস জানান, খিলগাঁও রেলগেট থেকে মালিবাগ পর্যন্ত সড়কটি গর্ত ও খানাখন্দে ভরা এবং দুর্যোগপূর্ণ। তিনি অভিযোগ করেন যে ১০ মিনিটের রাস্তা পার হতে দুই ঘণ্টা সময় লেগেছে। বৃষ্টি হলেই এই অবস্থা দীর্ঘদিনের, কিন্তু সিটি কর্তৃপক্ষের কোনো নজরদারি নেই।
বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের আমবাগানে সর্বোচ্চ ১৪০ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া গোপালগঞ্জে ১০৭ এবং পটুয়াখালীতে ৭২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এদিন চট্টগ্রাম বিভাগেই বৃষ্টির প্রবণতা সবচেয়ে বেশি ছিল।
তবে, সকাল ছয়টার আগের ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশেও কমবেশি বৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ১৯৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে নোয়াখালীর হাতিয়ায়। এছাড়া চট্টগ্রামের আমবাগানে ১৫৪, সন্দ্বীপে ১২৬, নেত্রকোনায় ১২১, কক্সবাজারে ১১৯, গোপালগঞ্জে ১১২ এবং কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ৯২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়।
রিপোর্টারের নাম 



















