মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ১২:৫০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬

হৃদযন্ত্রের ভালভ রোগ: লক্ষণ, কারণ ও প্রতিকারে করণীয়

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:০৮:৩৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

মানুষের শরীরের রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়া সচল রাখতে হৃদযন্ত্রের চারটি ভালভ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই ভালভগুলো রক্তকে একমুখী প্রবাহে সহায়তা করে এবং উল্টো পথে ফিরে আসতে বাধা দেয়। তবে এই ভালভগুলো যদি সংকুচিত হয়ে যায় বা পুরোপুরি বন্ধ হতে না পারে, তখনই হৃদযন্ত্রের ভালভ রোগ বা ‘ভালভুলার হার্ট ডিজিজ’ দেখা দেয়। সঠিক সময়ে চিকিৎসা না করালে এটি হার্ট ফেইলিউর বা স্ট্রোকের মতো মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই রোগটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উন্নত বিশ্বে বয়সজনিত কারণে এই সমস্যা বেশি দেখা দিলেও আমাদের দেশে রিউম্যাটিক জ্বর বা বাতজ্বর এর প্রধান কারণ। বিশেষ করে শৈশবে গলার সংক্রমণের সঠিক চিকিৎসা না হলে পরবর্তী জীবনে হৃদযন্ত্রের ভালভ স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এছাড়া জন্মগত ত্রুটি, উচ্চ রক্তচাপ এবং ক্যালসিয়াম জমার কারণেও এই সমস্যা হতে পারে।

চিকিৎসকদের মতে, হৃদযন্ত্রের চারটি ভালভের মধ্যে মাইট্রাল ভালভ সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়। এই ভালভ সংকুচিত হলে ফুসফুসে রক্ত জমতে শুরু করে, যার ফলে রোগী সামান্য পরিশ্রমেই হাঁপিয়ে ওঠেন। এছাড়া রাতে শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়া, শুকনো কাশি কিংবা কণ্ঠস্বর ভেঙে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে।

ভালভ যখন পুরোপুরি বন্ধ হতে পারে না, তখন রক্ত উল্টো দিকে প্রবাহিত হয়। প্রাথমিক অবস্থায় কোনো লক্ষণ না থাকলেও ধীরে ধীরে হৃদযন্ত্র দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই শ্বাসকষ্ট বা বুক ধড়ফড়ানির মতো সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। আধুনিক চিকিৎসায় এখন ভালভ প্রতিস্থাপন বা মেরামতের মাধ্যমে রোগীকে সুস্থ করে তোলা সম্ভব।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এশিয়া কাপ স্কেটিংয়ে পদক জয়ের লক্ষ্য নিয়ে চীন যাচ্ছে বাংলাদেশ দল

হৃদযন্ত্রের ভালভ রোগ: লক্ষণ, কারণ ও প্রতিকারে করণীয়

আপডেট সময় : ১১:০৮:৩৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬

মানুষের শরীরের রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়া সচল রাখতে হৃদযন্ত্রের চারটি ভালভ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই ভালভগুলো রক্তকে একমুখী প্রবাহে সহায়তা করে এবং উল্টো পথে ফিরে আসতে বাধা দেয়। তবে এই ভালভগুলো যদি সংকুচিত হয়ে যায় বা পুরোপুরি বন্ধ হতে না পারে, তখনই হৃদযন্ত্রের ভালভ রোগ বা ‘ভালভুলার হার্ট ডিজিজ’ দেখা দেয়। সঠিক সময়ে চিকিৎসা না করালে এটি হার্ট ফেইলিউর বা স্ট্রোকের মতো মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই রোগটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উন্নত বিশ্বে বয়সজনিত কারণে এই সমস্যা বেশি দেখা দিলেও আমাদের দেশে রিউম্যাটিক জ্বর বা বাতজ্বর এর প্রধান কারণ। বিশেষ করে শৈশবে গলার সংক্রমণের সঠিক চিকিৎসা না হলে পরবর্তী জীবনে হৃদযন্ত্রের ভালভ স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এছাড়া জন্মগত ত্রুটি, উচ্চ রক্তচাপ এবং ক্যালসিয়াম জমার কারণেও এই সমস্যা হতে পারে।

চিকিৎসকদের মতে, হৃদযন্ত্রের চারটি ভালভের মধ্যে মাইট্রাল ভালভ সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়। এই ভালভ সংকুচিত হলে ফুসফুসে রক্ত জমতে শুরু করে, যার ফলে রোগী সামান্য পরিশ্রমেই হাঁপিয়ে ওঠেন। এছাড়া রাতে শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়া, শুকনো কাশি কিংবা কণ্ঠস্বর ভেঙে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে।

ভালভ যখন পুরোপুরি বন্ধ হতে পারে না, তখন রক্ত উল্টো দিকে প্রবাহিত হয়। প্রাথমিক অবস্থায় কোনো লক্ষণ না থাকলেও ধীরে ধীরে হৃদযন্ত্র দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই শ্বাসকষ্ট বা বুক ধড়ফড়ানির মতো সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। আধুনিক চিকিৎসায় এখন ভালভ প্রতিস্থাপন বা মেরামতের মাধ্যমে রোগীকে সুস্থ করে তোলা সম্ভব।