মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ১০:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬

প্রেমিককে মৃত্যুদণ্ডাদেশ: আশুলিয়ায় গার্মেন্টসকর্মীকে হত্যার দায়ে ৬ বছর পর রায়

ঢাকার আশুলিয়ার জিরাবো এলাকায় প্রায় ছয় বছর আগে অ্যাপারেলস গার্মেন্টস লিমিটেড ফ্যাক্টরির অপারেটর শাহিনা খাতুনকে হত্যার দায়ে প্রেমিক শরিফুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রোববার দুপুরে ঢাকার ৮ম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মুনির হোসেনের আদালত এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার পাশাপাশি আসামিকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে; অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও ৬ মাস বিনাশ্রম কারাবাস ভোগ করতে হবে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, আশুলিয়ার জিরাবো এলাকায় শাহিনা ও শরিফুল একই গার্মেন্টসে চাকরি করতেন এবং সেই সূত্রে তাদের পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তারা বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে ওই এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন। শরিফুল বিবাহিত এবং দুই সন্তানের জনক ছিলেন। শাহিনা তাকে বিয়ে করার জন্য চাপ দিতে থাকলে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এই বিরোধের জেরে ২০২০ সালের ১৯ মার্চ দুপুরে তাদের মধ্যে ঝগড়া ও কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে শরিফুল শাহিনাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে লাশটি প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে ঘরে রেখে দরজায় তালা দিয়ে পালিয়ে যায়। তিন দিন পর আশপাশের লোকজন বিষয়টি পুলিশকে জানালে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় শাহিনার ভাই মো. রাহিন ২২ মার্চ আশুলিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পাঁচ মাস পর শরিফুলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। হত্যার দায় স্বীকার করে শরিফুল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। মামলার তদন্ত শেষে ওই বছরের ৩০ অক্টোবর শরিফুলকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। ২০২২ সালের ৭ মার্চ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয়। মামলার বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষে ১২ জন সাক্ষীর মধ্যে ৮ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন আদালত।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মিয়ানমার থেকে পাইপলাইনে গ্যাস আমদানির প্রস্তাব বাংলাদেশের

প্রেমিককে মৃত্যুদণ্ডাদেশ: আশুলিয়ায় গার্মেন্টসকর্মীকে হত্যার দায়ে ৬ বছর পর রায়

আপডেট সময় : ০৮:৪০:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

ঢাকার আশুলিয়ার জিরাবো এলাকায় প্রায় ছয় বছর আগে অ্যাপারেলস গার্মেন্টস লিমিটেড ফ্যাক্টরির অপারেটর শাহিনা খাতুনকে হত্যার দায়ে প্রেমিক শরিফুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রোববার দুপুরে ঢাকার ৮ম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মুনির হোসেনের আদালত এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার পাশাপাশি আসামিকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে; অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও ৬ মাস বিনাশ্রম কারাবাস ভোগ করতে হবে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, আশুলিয়ার জিরাবো এলাকায় শাহিনা ও শরিফুল একই গার্মেন্টসে চাকরি করতেন এবং সেই সূত্রে তাদের পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তারা বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে ওই এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন। শরিফুল বিবাহিত এবং দুই সন্তানের জনক ছিলেন। শাহিনা তাকে বিয়ে করার জন্য চাপ দিতে থাকলে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এই বিরোধের জেরে ২০২০ সালের ১৯ মার্চ দুপুরে তাদের মধ্যে ঝগড়া ও কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে শরিফুল শাহিনাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে লাশটি প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে ঘরে রেখে দরজায় তালা দিয়ে পালিয়ে যায়। তিন দিন পর আশপাশের লোকজন বিষয়টি পুলিশকে জানালে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় শাহিনার ভাই মো. রাহিন ২২ মার্চ আশুলিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পাঁচ মাস পর শরিফুলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। হত্যার দায় স্বীকার করে শরিফুল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। মামলার তদন্ত শেষে ওই বছরের ৩০ অক্টোবর শরিফুলকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। ২০২২ সালের ৭ মার্চ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয়। মামলার বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষে ১২ জন সাক্ষীর মধ্যে ৮ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন আদালত।