ঢাকা ০১:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬

গাজা শান্তিচুক্তি: ইসরায়েল-হামাসের আস্থাহীনতাই মূল বাধা, বলছেন বিশ্লেষক

গাজা যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে প্রস্তাবিত শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নে বহু প্রতিবন্ধকতা বিদ্যমান। তবে এর মধ্যে সবচেয়ে বড় বাধা হলো ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে চরম আস্থাহীনতা। যুক্তরাষ্ট্রের জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের মিডল ইস্ট স্টাডিজ প্রোগ্রামের পরিচালক সিনা আজোদি সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এই মূল্যায়ন তুলে ধরেছেন।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এই সাক্ষাৎকারে সিনা আজোদি বলেন, প্রস্তাবিত চুক্তিতে ধাপে ধাপে হামাসের অস্ত্র সংবরণের বিধান রাখা হয়েছে। কিন্তু ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এ নিয়ে চরম সংশয় রয়েছে, বিশেষ করে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার কারণে হামাসের সঙ্গে যেকোনো ধরনের শান্তি চুক্তির বিষয়ে ইসরায়েলি সমাজ খুবই সন্দিহান।

তিনি আরও বলেন, ‘কাগজে-কলমে এই পরিকল্পনাটি বেশ ভালো দেখাচ্ছে। সহিংসতা বন্ধ করা এবং ওই অঞ্চলের মানুষের জীবনে কিছুটা স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনার জন্য এটি নিশ্চিতভাবেই একটি ভালো পদক্ষেপ। কিন্তু বাস্তবে চুক্তিটি কীভাবে বাস্তবায়িত হয়, তা আমাদের দেখার বিষয়। কারণ এর সামনে অনেকগুলো বাধা রয়েছে, যার মধ্যে সর্বাগ্রে রয়েছে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যকার গভীর পারস্পরিক আস্থাহীনতা।’

এই রাজনৈতিক বিশ্লেষক বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘ইসরায়েলিরা স্পষ্টতই হামাস সদস্যদের বিশ্বাস করে না, আবার হামাসও ইসরায়েলকে বিশ্বাস করে না। উভয় পক্ষই চাইছে আগে অন্য পক্ষ কোনো পদক্ষেপ নিক। এটি স্পষ্টত একটি বড় জটিলতা।’

দ্বিতীয় বাধার কথা উল্লেখ করে সিনা আজোদি বলেন, ‘হামাস বছরের পর বছর ধরে নিজেকে একটি সশস্ত্র প্রতিরোধ গোষ্ঠী হিসেবে গড়ে তুলেছে। দলটি যদি পূর্ণাঙ্গ নিরস্ত্রীকরণ বা সব অস্ত্র সমর্পণে রাজি হয়ে যায়, তবে দল হিসেবে তাদের আর টিকে থাকারই কোনো সুযোগ থাকবে না।’ আস্থাহীনতার এই গভীর সংকটই গাজা শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নের পথে প্রধান প্রতিবন্ধক বলে তিনি মনে করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লোহিত সাগরের সংকটে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে নতুন চাপ: আফ্রিকা ঘুরে আসছে তেলের জাহাজ

গাজা শান্তিচুক্তি: ইসরায়েল-হামাসের আস্থাহীনতাই মূল বাধা, বলছেন বিশ্লেষক

আপডেট সময় : ১১:৪৮:৩৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

গাজা যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে প্রস্তাবিত শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নে বহু প্রতিবন্ধকতা বিদ্যমান। তবে এর মধ্যে সবচেয়ে বড় বাধা হলো ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে চরম আস্থাহীনতা। যুক্তরাষ্ট্রের জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের মিডল ইস্ট স্টাডিজ প্রোগ্রামের পরিচালক সিনা আজোদি সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এই মূল্যায়ন তুলে ধরেছেন।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এই সাক্ষাৎকারে সিনা আজোদি বলেন, প্রস্তাবিত চুক্তিতে ধাপে ধাপে হামাসের অস্ত্র সংবরণের বিধান রাখা হয়েছে। কিন্তু ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এ নিয়ে চরম সংশয় রয়েছে, বিশেষ করে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার কারণে হামাসের সঙ্গে যেকোনো ধরনের শান্তি চুক্তির বিষয়ে ইসরায়েলি সমাজ খুবই সন্দিহান।

তিনি আরও বলেন, ‘কাগজে-কলমে এই পরিকল্পনাটি বেশ ভালো দেখাচ্ছে। সহিংসতা বন্ধ করা এবং ওই অঞ্চলের মানুষের জীবনে কিছুটা স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনার জন্য এটি নিশ্চিতভাবেই একটি ভালো পদক্ষেপ। কিন্তু বাস্তবে চুক্তিটি কীভাবে বাস্তবায়িত হয়, তা আমাদের দেখার বিষয়। কারণ এর সামনে অনেকগুলো বাধা রয়েছে, যার মধ্যে সর্বাগ্রে রয়েছে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যকার গভীর পারস্পরিক আস্থাহীনতা।’

এই রাজনৈতিক বিশ্লেষক বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘ইসরায়েলিরা স্পষ্টতই হামাস সদস্যদের বিশ্বাস করে না, আবার হামাসও ইসরায়েলকে বিশ্বাস করে না। উভয় পক্ষই চাইছে আগে অন্য পক্ষ কোনো পদক্ষেপ নিক। এটি স্পষ্টত একটি বড় জটিলতা।’

দ্বিতীয় বাধার কথা উল্লেখ করে সিনা আজোদি বলেন, ‘হামাস বছরের পর বছর ধরে নিজেকে একটি সশস্ত্র প্রতিরোধ গোষ্ঠী হিসেবে গড়ে তুলেছে। দলটি যদি পূর্ণাঙ্গ নিরস্ত্রীকরণ বা সব অস্ত্র সমর্পণে রাজি হয়ে যায়, তবে দল হিসেবে তাদের আর টিকে থাকারই কোনো সুযোগ থাকবে না।’ আস্থাহীনতার এই গভীর সংকটই গাজা শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নের পথে প্রধান প্রতিবন্ধক বলে তিনি মনে করেন।