ঢাকা ০৩:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬

গাজায় শান্তি ফেরাতে ট্রাম্পের ১৫ দফার রোডম্যাপ প্রকাশ: হামাস সম্মত

অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাতে ‘বোর্ড অব পিস’ ১৫ দফার একটি বিস্তারিত রূপরেখা বা রোডম্যাপ প্রকাশ করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত এই পরিকল্পনায় ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড থেকে পর্যায়ক্রমে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার এবং সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের নিরস্ত্রীকরণের সুনির্দিষ্ট শর্তাবলি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার হামাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা এই চুক্তির শর্তে সম্মত রয়েছে। তবে এই বিষয়ে ইসরাইলের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া বা বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

প্রকাশিত রূপরেখায় গাজায় স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা ও প্রশাসনিক পুনর্গঠনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হয়েছে:

সামরিক অভিযান বন্ধ ও দায়িত্ব হস্তান্তর: পরিকল্পনা অনুযায়ী ইসরাইল, হামাসসহ অন্যান্য ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে তাদের সব ধরনের সামরিক অভিযান পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে। সব পক্ষ চুক্তি অনুমোদনের ১৪ দিনের মধ্যে বাস্তবায়নের সময়সূচি ও পদ্ধতি চূড়ান্ত করা হবে (প্রয়োজনে এই সময় বাড়ানো যেতে পারে)। এরপর ‘ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজা’ (এনসিএজি) গাজা উপত্যকায় প্রবেশ করে প্রশাসনিক দায়িত্ব বুঝে নেওয়া শুরু করবে।

যাচাই কমিটি ও প্রশাসনিক নীতি: প্রস্তাবিত রূপরেখাটির একটি ধাপ থেকে পরবর্তী ধাপে যাওয়ার বিষয়টি নির্ভর করবে পূর্ববর্তী ধাপের প্রতিশ্রুতিগুলো সঠিকভাবে পালিত হয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের ওপর। এই তদারকির দায়িত্বে থাকবে নতুন গঠিত ‘ইন্টারন্যাশনাল ভেরিফিকেশন কমিটি’ (আইভিসি)। চুক্তির শর্ত কোনো পক্ষ লঙ্ঘন করছে কি না, সেদিকেও নজর রাখবে তারা। গাজা শাসন পরিচালিত হবে ‘এক কর্তৃপক্ষ, এক আইন, এক অস্ত্র’—এই নীতির ভিত্তিতে। এনসিএজি ফিলিস্তিনি আইন ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

পুলিশ বাহিনীর সংস্কার ও পুনর্গঠন: বিদ্যমান পুলিশ কাঠামোতে নতুন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের যুক্ত করা হবে। তবে অন্তর্ভুক্তির আগে সব সদস্যের অতীত রেকর্ড ও যোগ্যতা কঠোরভাবে যাচাই (ভেটিং) করা হবে। যারা যোগ্যতার মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হবেন, তাদের বিকল্প বেসামরিক কাজের সুযোগ দেওয়া হবে। এ ছাড়া পুলিশের সব ধরনের অস্ত্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে এনসিএজি-র হাতে।

অস্ত্র ও সুড়ঙ্গ অকার্যকরকরণ এবং সেনা প্রত্যাহার: হামাসের সব ধরনের ভারী অস্ত্র, সামরিক সরঞ্জাম তৈরির ক…

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকারের প্রতি জামায়াতের কঠোর হুঁশিয়ারি: দিনাজপুরে বিশাল গণমিছিল

গাজায় শান্তি ফেরাতে ট্রাম্পের ১৫ দফার রোডম্যাপ প্রকাশ: হামাস সম্মত

আপডেট সময় : ১২:৫৮:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাতে ‘বোর্ড অব পিস’ ১৫ দফার একটি বিস্তারিত রূপরেখা বা রোডম্যাপ প্রকাশ করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত এই পরিকল্পনায় ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড থেকে পর্যায়ক্রমে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার এবং সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের নিরস্ত্রীকরণের সুনির্দিষ্ট শর্তাবলি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার হামাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা এই চুক্তির শর্তে সম্মত রয়েছে। তবে এই বিষয়ে ইসরাইলের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া বা বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

প্রকাশিত রূপরেখায় গাজায় স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা ও প্রশাসনিক পুনর্গঠনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হয়েছে:

সামরিক অভিযান বন্ধ ও দায়িত্ব হস্তান্তর: পরিকল্পনা অনুযায়ী ইসরাইল, হামাসসহ অন্যান্য ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে তাদের সব ধরনের সামরিক অভিযান পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে। সব পক্ষ চুক্তি অনুমোদনের ১৪ দিনের মধ্যে বাস্তবায়নের সময়সূচি ও পদ্ধতি চূড়ান্ত করা হবে (প্রয়োজনে এই সময় বাড়ানো যেতে পারে)। এরপর ‘ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজা’ (এনসিএজি) গাজা উপত্যকায় প্রবেশ করে প্রশাসনিক দায়িত্ব বুঝে নেওয়া শুরু করবে।

যাচাই কমিটি ও প্রশাসনিক নীতি: প্রস্তাবিত রূপরেখাটির একটি ধাপ থেকে পরবর্তী ধাপে যাওয়ার বিষয়টি নির্ভর করবে পূর্ববর্তী ধাপের প্রতিশ্রুতিগুলো সঠিকভাবে পালিত হয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের ওপর। এই তদারকির দায়িত্বে থাকবে নতুন গঠিত ‘ইন্টারন্যাশনাল ভেরিফিকেশন কমিটি’ (আইভিসি)। চুক্তির শর্ত কোনো পক্ষ লঙ্ঘন করছে কি না, সেদিকেও নজর রাখবে তারা। গাজা শাসন পরিচালিত হবে ‘এক কর্তৃপক্ষ, এক আইন, এক অস্ত্র’—এই নীতির ভিত্তিতে। এনসিএজি ফিলিস্তিনি আইন ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

পুলিশ বাহিনীর সংস্কার ও পুনর্গঠন: বিদ্যমান পুলিশ কাঠামোতে নতুন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের যুক্ত করা হবে। তবে অন্তর্ভুক্তির আগে সব সদস্যের অতীত রেকর্ড ও যোগ্যতা কঠোরভাবে যাচাই (ভেটিং) করা হবে। যারা যোগ্যতার মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হবেন, তাদের বিকল্প বেসামরিক কাজের সুযোগ দেওয়া হবে। এ ছাড়া পুলিশের সব ধরনের অস্ত্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে এনসিএজি-র হাতে।

অস্ত্র ও সুড়ঙ্গ অকার্যকরকরণ এবং সেনা প্রত্যাহার: হামাসের সব ধরনের ভারী অস্ত্র, সামরিক সরঞ্জাম তৈরির ক…