বিদেশগামী চাকরিপ্রার্থীদের ফাঁদে ফেলে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎকারী একটি চক্রের দুই সদস্যকে বিগত বছর (বা সম্প্রতি) গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন ২১ বছর বয়সী মারিফুল ইসলাম এবং ২৮ বছর বয়সী ‘বাচ্চা বাউ’ ওরফে হাসিনুর। ডিএমপির মিডিয়া বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী গত বছর (বা সম্প্রতি) ৩১ জুলাই শুক্রবার এই অভিযানের তথ্য নিশ্চিত করেন।
গোয়েন্দা সূত্র জানায়, এই প্রতারক চক্রটি অস্ট্রেলিয়ার সরকারি ওয়েবসাইটের আদলে একটি ভুয়া ‘ভিসা ভেরিফিকেশন ওয়েবসাইট’ তৈরি করেছিল। চাকরিপ্রত্যাশীরা ওই সাইটে তাদের পাসপোর্ট নম্বর দিলে ‘ভিসা অ্যাপ্রুভড’ দেখা যেত। কানাডা সরকারের ‘এলএমআইএ (Labour Market Impact Assessment)’ বা বিদেশি কর্মী নিয়োগের প্রয়োজনীয়তা নিশ্চিতকরণ অনুমোদনের ভুয়া কপি দেখিয়েও তারা ভুক্তভোগীদের বিশ্বাস অর্জন করত। যদিও এলএমআইএ কোনো ভিসা বা কানাডায় প্রবেশের অনুমতিপত্র নয়।
ছায়েদুল হক নামের এক যুবক অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার স্বপ্ন দেখে এই চক্রের চটকদার কথায় বিশ্বাস করে ধাপে ধাপে মেডিকেল ফি, ভিসা প্রসেসিং ও ডকুমেন্ট চার্জের নামে বিকাশ-রকেটের মাধ্যমে প্রায় ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা তুলে দেন। টাকা নেওয়ার পর শুরু হয় টালবাহানা, এবং পাওনা টাকা ফেরত চাইলে উল্টো চাপ সৃষ্টি করা হয়। প্রতারিত হয়েছেন বুঝতে পেরে ছায়েদুল পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলার সূত্র ধরে গোয়েন্দা সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগের অর্গানাইজড ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ থানার এক নির্জন এলাকায় অভিযান চালায়। গত বছর (বা সম্প্রতি) ২৮ জুলাই মঙ্গলবার সেখান থেকেই মারিফুল ও হাসিনুরকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে প্রতারণার মূল হাতিয়ার হিসেবে ১টি আধুনিক ল্যাপটপ, ৭টি স্মার্টফোন, ১৩টি ভুয়া সিম এবং ৯টি বাংলাদেশি জাল পাসপোর্ট উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা স্বীকার করেছে যে, তারা ভুয়া ওয়ার্ক পারমিট ও ‘ভিসা অ্যাপ্রুভাল লেটার’ দেখিয়ে অন্তত ৭২ জনেরও বেশি মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জব্দ করা ডিভাইসে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে কোটি টাকার লেনদেন এবং বহু প্রতারিত যুবকের তথ্যাদি পাওয়া গেছে। দীর্ঘ দিন ধরে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের সহজ-সরল মানুষদের টার্গেট করে এই সিন্ডিকেটটি নিজেদের আখের গুছিয়ে আসছিল।
রিপোর্টারের নাম 























