সম্প্রতি পরিবেশবাদী সংস্থা Environment and Social Development Organization (ESDO)-এর এক গবেষণায় ৭৬.৫ শতাংশ টুথপেস্টে অতিক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা বা মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি ধরা পড়েছে, যা দাঁত পরিষ্কার ও পলিশ করার কাজে ব্যবহৃত হয়। এই সংবাদ জনমনে টুথপেস্টের ব্যবহার নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। অথচ প্রায় সাড়ে চৌদ্দশ বছর আগেই আমাদের প্রিয় নবী (সা.) মেসওয়াকের মতো একটি চমৎকার সুন্নত শিক্ষা দিয়ে গেছেন, যা কেবল দাঁত ও মুখ পরিষ্কারের মাধ্যমই নয়, বরং বহু উপকারিতায় পরিপূর্ণ।
হাদিস শরিফে এসেছে, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘আমার উম্মতের জন্য যদি কষ্টকর মনে না করতাম, তবে তাদের প্রত্যেক নামাজের সময় মেসওয়াক করার নির্দেশ দিতাম।’ (নাসায়ি : ৭)। এ হাদিস থেকে বোঝা যায়, মেসওয়াক একটি সুন্নত হলেও এর গুরুত্ব অনেক বেশি। মেসওয়াক করার মাধ্যমে আল্লাহতায়ালার সন্তুষ্টি অর্জন, মুখের দুর্গন্ধ দূর করা, দাঁত মজবুত হওয়া, মাথার ব্যথা উপশম, কাশি দূর করা, পাকস্থলী ঠিক রাখা এবং শরীর শক্তিশালী হওয়ার মতো অসংখ্য উপকার লাভ করা যায়।
এছাড়াও মেসওয়াক দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি, স্মরণশক্তি ও জ্ঞান বাড়ানো, অন্তর পবিত্র করা এবং সৌন্দর্য বৃদ্ধিতেও সহায়ক। হাদিসে বর্ণিত আছে, মেসওয়াককারীর সঙ্গে ফেরেশতারা মুসাফাহা করেন, নামাজের জন্য বের হলে তাকে সম্মান করেন, নামাজ আদায় করে বের হলে আরশ বহনকারী ফেরেশতারা তার জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা করেন। শয়তান অসন্তুষ্ট হয়, বিজলির মতো পুলসিরাত পার হওয়া, আমলনামা ডান হাতে পাওয়া, ইবাদতে শক্তি লাভ, মৃত্যুর সময় কালিমা নসিব হওয়া, তার জন্য জান্নাতের দরজা খুলে দেওয়া এবং জাহান্নামের দরজা বন্ধ হয়ে যাওয়া—এসবই মেসওয়াকের ফজিলতের অন্তর্ভুক্ত। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানও এই সুন্নাহ থেকে বেশ কিছু উপকারিতা নিশ্চিত করেছে।
রিপোর্টারের নাম 























