ঢাকা ১২:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

‘মার্চ ফর জাস্টিস’-এ পুলিশি হামলা: দেশজুড়ে তীব্র প্রতিবাদ ও উদ্বেগ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৫৫:০৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

কোটা সংস্কার আন্দোলনে হত্যা, গণগ্রেপ্তার, হামলা-মামলা ও গুমের প্রতিবাদে ২০২৪ সালের ৩১ জুলাই সারা দেশে ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ কর্মসূচি পালন করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। ৯ দফা দাবিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের এই কর্মসূচিতে ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, রাজশাহী ও সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক জনসমাগম হয়। তবে বিভিন্ন জায়গায় পুলিশি লাঠিপেটা, সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে সাংবাদিকসহ শতাধিক ব্যক্তি আহত হন এবং শতাধিক বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়।

পতিত হাসিনা সরকারের সৃষ্ট ভীতিকর পরিস্থিতির কারণে আগের দিন ৩০ জুলাই রাতে টেলিগ্রাম অ্যাপের মাধ্যমে মার্চ ফর জাস্টিস কর্মসূচির ঘোষণা করেন আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আব্দুল কাদের। আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কদের মুক্তি, শিক্ষার্থী হত্যা, গ্রেপ্তার শিক্ষার্থীদের মুক্তিসহ ৯ দফা দাবিতে ৩১ জুলাই ঢাকার শাহবাগ, টিএসসি, নীলক্ষেত, চট্টগ্রামের নিউ মার্কেট, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় গেট, খুলনা, বরিশাল, রংপুর, ময়মনসিংহ, কক্সবাজারসহ প্রায় সব শহরে একযোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়। বিক্ষোভে অনেকের হাতে ছিল রক্তমাখা পতাকা ও লাল কাপড়ের ব্যানার।

মার্চ ফর জাস্টিস কর্মসূচির অংশ হিসেবে ওইদিন দুপুর ১২টা থেকে রাজধানীতে হাইকোর্টের মাজার গেট এলাকায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা জড়ো হন। সেখান থেকে কয়েকজনকে আটক করে পুলিশ। বিক্ষোভকারীরা প্রায় তিন ঘণ্টা সেখানে অবস্থান করে নানা স্লোগান দেন। হাইকোর্টের ভেতরেও আইনজীবীদের একটি দল মিছিল করেন। শিক্ষার্থীদের আরেকটি অংশ দুপুর ১টার দিকে মিছিল নিয়ে হাইকোর্টের দিকে যেতে চাইলে পুলিশ তাদের আটকে দেয়। পরে বিক্ষোভকারীরা দোয়েল চত্বরে কিছুক্ষণ অবস্থান করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে সমাবেশ করেন।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মহুয়া মঞ্চের সামনে মার্চ ফর জাস্টিস কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষকরাও অংশ নেন এবং গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করেন। সিলেটে এ কর্মসূচিতে পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে শিক্ষার্থীরা অগ্রসর হতে গেলে সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়। এতে শিক্ষার্থীসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। খুলনায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের কর্মসূচিতে লাঠিপেটা ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে পুলিশ। শিক্ষার্থীরাও পাল্টা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন। এতে সাতরাস্তা মোড়, রয়েল মোড়সহ পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সাঁতরে মরক্কো থেকে স্পেনে ঢুকলেন হাজারো অভিবাসী

‘মার্চ ফর জাস্টিস’-এ পুলিশি হামলা: দেশজুড়ে তীব্র প্রতিবাদ ও উদ্বেগ

আপডেট সময় : ০৯:৫৫:০৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

কোটা সংস্কার আন্দোলনে হত্যা, গণগ্রেপ্তার, হামলা-মামলা ও গুমের প্রতিবাদে ২০২৪ সালের ৩১ জুলাই সারা দেশে ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ কর্মসূচি পালন করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। ৯ দফা দাবিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের এই কর্মসূচিতে ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, রাজশাহী ও সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক জনসমাগম হয়। তবে বিভিন্ন জায়গায় পুলিশি লাঠিপেটা, সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে সাংবাদিকসহ শতাধিক ব্যক্তি আহত হন এবং শতাধিক বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়।

পতিত হাসিনা সরকারের সৃষ্ট ভীতিকর পরিস্থিতির কারণে আগের দিন ৩০ জুলাই রাতে টেলিগ্রাম অ্যাপের মাধ্যমে মার্চ ফর জাস্টিস কর্মসূচির ঘোষণা করেন আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আব্দুল কাদের। আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কদের মুক্তি, শিক্ষার্থী হত্যা, গ্রেপ্তার শিক্ষার্থীদের মুক্তিসহ ৯ দফা দাবিতে ৩১ জুলাই ঢাকার শাহবাগ, টিএসসি, নীলক্ষেত, চট্টগ্রামের নিউ মার্কেট, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় গেট, খুলনা, বরিশাল, রংপুর, ময়মনসিংহ, কক্সবাজারসহ প্রায় সব শহরে একযোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়। বিক্ষোভে অনেকের হাতে ছিল রক্তমাখা পতাকা ও লাল কাপড়ের ব্যানার।

মার্চ ফর জাস্টিস কর্মসূচির অংশ হিসেবে ওইদিন দুপুর ১২টা থেকে রাজধানীতে হাইকোর্টের মাজার গেট এলাকায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা জড়ো হন। সেখান থেকে কয়েকজনকে আটক করে পুলিশ। বিক্ষোভকারীরা প্রায় তিন ঘণ্টা সেখানে অবস্থান করে নানা স্লোগান দেন। হাইকোর্টের ভেতরেও আইনজীবীদের একটি দল মিছিল করেন। শিক্ষার্থীদের আরেকটি অংশ দুপুর ১টার দিকে মিছিল নিয়ে হাইকোর্টের দিকে যেতে চাইলে পুলিশ তাদের আটকে দেয়। পরে বিক্ষোভকারীরা দোয়েল চত্বরে কিছুক্ষণ অবস্থান করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে সমাবেশ করেন।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মহুয়া মঞ্চের সামনে মার্চ ফর জাস্টিস কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষকরাও অংশ নেন এবং গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করেন। সিলেটে এ কর্মসূচিতে পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে শিক্ষার্থীরা অগ্রসর হতে গেলে সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়। এতে শিক্ষার্থীসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। খুলনায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের কর্মসূচিতে লাঠিপেটা ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে পুলিশ। শিক্ষার্থীরাও পাল্টা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন। এতে সাতরাস্তা মোড়, রয়েল মোড়সহ পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।