ঢাকা ০১:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

অর্থনৈতিক ন্যায়বিচারের নতুন দিগন্ত: বাংলাদেশ কি প্রস্তুত?

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:০১:২৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রকাশিত ‘Global Justice Report’ বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেছে। ওয়ার্ল্ড ইনইকুয়ালিটি ল্যাবের এই প্রতিবেদন বলছে, একটি অধিক ন্যায়ভিত্তিক ও বাসযোগ্য পৃথিবী নির্মাণ বস্তুগত ও নীতিগতভাবে সম্ভব। তবে, যে দেশ তার জিডিপির মাত্র সাড়ে ছয় শতাংশ রাজস্ব সংগ্রহ করতে সক্ষম, তাদের জন্য এই প্রতিবেদন একটি প্রস্তুত নীলনকশার চেয়েও বেশি কিছু; এটি একটি আয়না, যেখানে দেশ তার বর্তমান বাস্তবতা, সীমাবদ্ধতা এবং সম্ভাবনাকে আরও স্পষ্ট ভাবে দেখতে পারে।

দেশের একদিকে যেমন গুলশান-বারিধারার মতো অভিজাত এলাকায় একটি অ্যাপার্টমেন্টের মূল্য কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়, অন্যদিকে সাতক্ষীরা, ভোলা বা উপকূলীয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে হাজার হাজার মানুষ তাদের ভিটেমাটি ও জীবিকা হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েন। রাষ্ট্রের এই দুই বিপরীত চিত্র—একদিকে অতি-সম্পদের দ্রুত সঞ্চয়, অন্যদিকে জলবায়ু-আক্রান্ত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ক্রমেই নিঃস্ব হয়ে পড়া—আজ কেবল নৈতিকতার প্রশ্ন নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার ও উন্নয়ন আলোচনার অন্যতম প্রধান ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সম্প্রতি প্রকাশিত ‘Global Justice Report’, যা ২০২৬ সালের ৪ জুন প্যারিসে অর্থনীতিবিদ লুকাস চ্যান্সেল, টমাস পিকেটি, গ্যাব্রিয়েল জুকম্যান এবং ইমানুয়েল সায়েজের যৌথ উদ্যোগে প্রকাশিত হয়েছে, তা আমাদের আগামী শতাব্দীর ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। প্রতিবেদনটির মূল দাবি অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী: ২১০০ সালের মধ্যে বিশ্বের প্রতিটি দেশের গড় মাসিক আয় প্রায় পাঁচ হাজার ইউরোতে পৌঁছাতে পারে। মানবজাতির দরিদ্রতম অর্ধেকের বৈশ্বিক সম্পদে অংশ বর্তমানের দুই শতাংশ থেকে বেড়ে ৩০ শতাংশে উন্নীত হতে পারে, আর শতকোটিপতি শ্রেণির সম্পদ-অংশীদারত্ব ছয় শতাংশ থেকে কমে প্রায় ০.০৫ শতাংশে নেমে আসতে পারে। আরও তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, এই রূপান্তর অর্জন করা সম্ভব বৈশ্বিক উষ্ণায়নকে ১.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখেই। অর্থাৎ, বর্তমান নীতি অব্যাহত থাকলে যে প্রায় ৪.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস উষ্ণায়নের বিপর্যয়কর ঝুঁকির দিকে বিশ্ব ধাবিত হচ্ছে, তা কার্যকর নীতিগত পরিবর্তনের মাধ্যমে এড়ানো যেতে পারে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইসরাইলি হামলায় কেঁপে উঠলো দক্ষিণ লেবানন, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

অর্থনৈতিক ন্যায়বিচারের নতুন দিগন্ত: বাংলাদেশ কি প্রস্তুত?

আপডেট সময় : ১১:০১:২৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রকাশিত ‘Global Justice Report’ বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেছে। ওয়ার্ল্ড ইনইকুয়ালিটি ল্যাবের এই প্রতিবেদন বলছে, একটি অধিক ন্যায়ভিত্তিক ও বাসযোগ্য পৃথিবী নির্মাণ বস্তুগত ও নীতিগতভাবে সম্ভব। তবে, যে দেশ তার জিডিপির মাত্র সাড়ে ছয় শতাংশ রাজস্ব সংগ্রহ করতে সক্ষম, তাদের জন্য এই প্রতিবেদন একটি প্রস্তুত নীলনকশার চেয়েও বেশি কিছু; এটি একটি আয়না, যেখানে দেশ তার বর্তমান বাস্তবতা, সীমাবদ্ধতা এবং সম্ভাবনাকে আরও স্পষ্ট ভাবে দেখতে পারে।

দেশের একদিকে যেমন গুলশান-বারিধারার মতো অভিজাত এলাকায় একটি অ্যাপার্টমেন্টের মূল্য কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়, অন্যদিকে সাতক্ষীরা, ভোলা বা উপকূলীয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে হাজার হাজার মানুষ তাদের ভিটেমাটি ও জীবিকা হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েন। রাষ্ট্রের এই দুই বিপরীত চিত্র—একদিকে অতি-সম্পদের দ্রুত সঞ্চয়, অন্যদিকে জলবায়ু-আক্রান্ত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ক্রমেই নিঃস্ব হয়ে পড়া—আজ কেবল নৈতিকতার প্রশ্ন নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার ও উন্নয়ন আলোচনার অন্যতম প্রধান ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সম্প্রতি প্রকাশিত ‘Global Justice Report’, যা ২০২৬ সালের ৪ জুন প্যারিসে অর্থনীতিবিদ লুকাস চ্যান্সেল, টমাস পিকেটি, গ্যাব্রিয়েল জুকম্যান এবং ইমানুয়েল সায়েজের যৌথ উদ্যোগে প্রকাশিত হয়েছে, তা আমাদের আগামী শতাব্দীর ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। প্রতিবেদনটির মূল দাবি অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী: ২১০০ সালের মধ্যে বিশ্বের প্রতিটি দেশের গড় মাসিক আয় প্রায় পাঁচ হাজার ইউরোতে পৌঁছাতে পারে। মানবজাতির দরিদ্রতম অর্ধেকের বৈশ্বিক সম্পদে অংশ বর্তমানের দুই শতাংশ থেকে বেড়ে ৩০ শতাংশে উন্নীত হতে পারে, আর শতকোটিপতি শ্রেণির সম্পদ-অংশীদারত্ব ছয় শতাংশ থেকে কমে প্রায় ০.০৫ শতাংশে নেমে আসতে পারে। আরও তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, এই রূপান্তর অর্জন করা সম্ভব বৈশ্বিক উষ্ণায়নকে ১.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখেই। অর্থাৎ, বর্তমান নীতি অব্যাহত থাকলে যে প্রায় ৪.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস উষ্ণায়নের বিপর্যয়কর ঝুঁকির দিকে বিশ্ব ধাবিত হচ্ছে, তা কার্যকর নীতিগত পরিবর্তনের মাধ্যমে এড়ানো যেতে পারে।