ঢাকা ১২:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

খাবারে টেস্টিং সল্টের অবাধ ব্যবহার: নীরব ঘাতক বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৫৬:২৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

খাবারে ক্ষতিকর টেস্টিং সল্টের (মনোসোডিয়াম গ্লুটামেট বা এমএসজি) ব্যবহার ক্রমশ বাড়ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য এক নীরব ঘাতক হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত এই রাসায়নিকযুক্ত খাবার খেলে তা প্রাণঘাতী ক্যান্সার এবং বিভিন্ন ধরনের স্নায়ুরোগের কারণ হতে পারে। মানবদেহে এর দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতিকর প্রভাব থেকে মুক্তি পেতে এর ব্যবহার সীমিত করার ওপর জোর দিয়েছেন তারা।

বর্তমানে নামিদামি রেস্টুরেন্ট, হোটেল থেকে শুরু করে অনেক বাসাবাড়ির খাবারেও খাবারের স্বাদ ও গন্ধ বাড়ানোর জন্য টেস্টিং সল্ট ব্যবহার করা হচ্ছে। এটি ‘চাইনিজ সল্ট’ বা ‘চাইনিজ লবণ’ নামেও পরিচিত। মনোসোডিয়াম গ্লুটামেট (এমএসজি) নামক রাসায়নিক উপাদানে তৈরি এই লবণের কোনো পুষ্টিগুণ না থাকলেও, এটি খাবারের স্বাদ বাড়াতে স্নায়ুতন্ত্রের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। তবুও এর ব্যবহার প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে।

খাবারের স্বাদ বাড়াতে হালিম, ঝালমুড়ি, চটপটি, ফুচকা, গ্রিল, পিজা, স্যান্ডউইচ, চানাচুর, ক্র্যাকার্স, ভেজিটেবল কারি, সয়া সস, কেচআপ, সাধারণ সস, বিস্কুট, নুডলস, চিপস এবং স্যুপেও এই লবণ ব্যবহৃত হচ্ছে। টেস্টিং সল্ট দিয়ে রান্না করা খাবার সুস্বাদু হওয়ায় অনেকে কোনো বাছবিচার ছাড়াই এটি ব্যবহার করছেন। তবে, পরিমাণে বেশি ও দীর্ঘদিন ধরে এই লবণ খেলে তা স্বাস্থ্যের জন্য মহাবিপদ ডেকে আনতে পারে।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, মনোসোডিয়াম গ্লুটামেট স্নায়ুতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। টেস্টিং সল্ট সেবনের ফলে মাথাব্যথা, বুকজ্বালা, গ্যাস্ট্রিক, আলসার এবং এমনকি কোলন ও রেক্টাল ক্যান্সারের মতো মারাত্মক রোগ হতে পারে। শিশু-কিশোররা যদি নিয়মিত এমন খাবারে আসক্ত হয়, তবে তাদের ক্ষতির আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি থাকে বলে চিকিৎসকরা সতর্ক করেছেন। স্নায়ুর বিভিন্ন জটিলতাসহ মানবদেহে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব থেকে বাঁচতে এটির ব্যবহার সীমিত করার পরামর্শ তাদের। এই লবণ মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর হওয়া সত্ত্বেও, এ বিষয়ে সচেতনতার যথেষ্ট অভাব রয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) সম্প্রতি ‘চাইনিজ রেস্টুরেন্ট সিনড্রোম’ নামে একটি নতুন অসুস্থতার নামকরণ করেছে, যার জন্য তারা টেস্টিং সল্টকেই দায়ী করছে। দেশে চাইনিজ রেস্টুরেন্টের খাবারে টেস্টিং সল্টের প্রথম ব্যবহার শুরু হলেও, এখন এটি সাধারণ রেস্টুরেন্টে, বিয়ের অনুষ্ঠানে, এমনকি ঘরে রান্না করা খাবারেও ছড়িয়ে পড়েছে। পুষ্টিবিদরা জানিয়েছেন, এই নীরব ঘাতক টেস্টিং সল্টের উপকারিতার চেয়ে অপকারিতাই অনেক বেশি। এই লবণ হাড় দুর্বল করে দিতে পারে, স্মৃতিশক্তি লোপ পেতে পারে। অন্যদিকে, দীর্ঘদিন ধরে এটি খেলে টেস্টিং সল্ট নেই এমন অন্যান্য খাবারে অরুচি জন্মায়, ফলে না খেয়ে থাকার প্রবণতা বাড়ে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সাঁতরে মরক্কো থেকে স্পেনে ঢুকলেন হাজারো অভিবাসী

খাবারে টেস্টিং সল্টের অবাধ ব্যবহার: নীরব ঘাতক বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি

আপডেট সময় : ০৯:৫৬:২৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

খাবারে ক্ষতিকর টেস্টিং সল্টের (মনোসোডিয়াম গ্লুটামেট বা এমএসজি) ব্যবহার ক্রমশ বাড়ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য এক নীরব ঘাতক হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত এই রাসায়নিকযুক্ত খাবার খেলে তা প্রাণঘাতী ক্যান্সার এবং বিভিন্ন ধরনের স্নায়ুরোগের কারণ হতে পারে। মানবদেহে এর দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতিকর প্রভাব থেকে মুক্তি পেতে এর ব্যবহার সীমিত করার ওপর জোর দিয়েছেন তারা।

বর্তমানে নামিদামি রেস্টুরেন্ট, হোটেল থেকে শুরু করে অনেক বাসাবাড়ির খাবারেও খাবারের স্বাদ ও গন্ধ বাড়ানোর জন্য টেস্টিং সল্ট ব্যবহার করা হচ্ছে। এটি ‘চাইনিজ সল্ট’ বা ‘চাইনিজ লবণ’ নামেও পরিচিত। মনোসোডিয়াম গ্লুটামেট (এমএসজি) নামক রাসায়নিক উপাদানে তৈরি এই লবণের কোনো পুষ্টিগুণ না থাকলেও, এটি খাবারের স্বাদ বাড়াতে স্নায়ুতন্ত্রের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। তবুও এর ব্যবহার প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে।

খাবারের স্বাদ বাড়াতে হালিম, ঝালমুড়ি, চটপটি, ফুচকা, গ্রিল, পিজা, স্যান্ডউইচ, চানাচুর, ক্র্যাকার্স, ভেজিটেবল কারি, সয়া সস, কেচআপ, সাধারণ সস, বিস্কুট, নুডলস, চিপস এবং স্যুপেও এই লবণ ব্যবহৃত হচ্ছে। টেস্টিং সল্ট দিয়ে রান্না করা খাবার সুস্বাদু হওয়ায় অনেকে কোনো বাছবিচার ছাড়াই এটি ব্যবহার করছেন। তবে, পরিমাণে বেশি ও দীর্ঘদিন ধরে এই লবণ খেলে তা স্বাস্থ্যের জন্য মহাবিপদ ডেকে আনতে পারে।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, মনোসোডিয়াম গ্লুটামেট স্নায়ুতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। টেস্টিং সল্ট সেবনের ফলে মাথাব্যথা, বুকজ্বালা, গ্যাস্ট্রিক, আলসার এবং এমনকি কোলন ও রেক্টাল ক্যান্সারের মতো মারাত্মক রোগ হতে পারে। শিশু-কিশোররা যদি নিয়মিত এমন খাবারে আসক্ত হয়, তবে তাদের ক্ষতির আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি থাকে বলে চিকিৎসকরা সতর্ক করেছেন। স্নায়ুর বিভিন্ন জটিলতাসহ মানবদেহে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব থেকে বাঁচতে এটির ব্যবহার সীমিত করার পরামর্শ তাদের। এই লবণ মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর হওয়া সত্ত্বেও, এ বিষয়ে সচেতনতার যথেষ্ট অভাব রয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) সম্প্রতি ‘চাইনিজ রেস্টুরেন্ট সিনড্রোম’ নামে একটি নতুন অসুস্থতার নামকরণ করেছে, যার জন্য তারা টেস্টিং সল্টকেই দায়ী করছে। দেশে চাইনিজ রেস্টুরেন্টের খাবারে টেস্টিং সল্টের প্রথম ব্যবহার শুরু হলেও, এখন এটি সাধারণ রেস্টুরেন্টে, বিয়ের অনুষ্ঠানে, এমনকি ঘরে রান্না করা খাবারেও ছড়িয়ে পড়েছে। পুষ্টিবিদরা জানিয়েছেন, এই নীরব ঘাতক টেস্টিং সল্টের উপকারিতার চেয়ে অপকারিতাই অনেক বেশি। এই লবণ হাড় দুর্বল করে দিতে পারে, স্মৃতিশক্তি লোপ পেতে পারে। অন্যদিকে, দীর্ঘদিন ধরে এটি খেলে টেস্টিং সল্ট নেই এমন অন্যান্য খাবারে অরুচি জন্মায়, ফলে না খেয়ে থাকার প্রবণতা বাড়ে।