ঢাকা ০১:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

রাষ্ট্রপতি পদ: অতীতে ক্ষমতা ও সংকটের কেন্দ্রবিন্দু

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:০১:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের শাসনব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি পদটি আনুষ্ঠানিক হলেও, অতীতে এটি বারবার দেশের ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে এবং জাতির ভবিষ্যতের প্রধান নির্ণায়কের ভূমিকা পালন করেছে। এই ভূমিকা কখনো ধ্বংসাত্মক প্রমাণিত হয়েছে, আবার কখনোবা জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্রস্থল হিসেবে কাজ করেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক সংকট ও অচলাবস্থায় ক্ষমতালোভী ষড়যন্ত্রকারীরা রাষ্ট্রপতিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে দেশকে দীর্ঘ সময়ের জন্য ঘোর অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিয়েছে।

রাষ্ট্রপতি পদাধিকারবলে সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হলেও, বাস্তবে তার ক্ষমতা সীমিত। কিন্তু তীব্র রাজনৈতিক অনৈক্য, হানাহানি ও গভীর জাতীয় সংকটের সময় যদি সশস্ত্র বাহিনী রাষ্ট্রপতির প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন না করে এবং তিনি যদি মেরুদণ্ডসম্পন্ন, দৃঢ়চেতা ও সাহসী ব্যক্তিত্ব না হন, তাহলে সামরিক অভ্যুত্থান ঘটার আশঙ্কা থাকে, যা অতীতে বারবার বাংলাদেশে ঘটেছে। বিশেষ করে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার কারণে ওই সময় এই আলংকারিক পদটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং একই সঙ্গে অতিশয় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। অতীতে দুবার তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় সামরিক অভ্যুত্থানের চেষ্টা হয়েছিল; একবার রাষ্ট্রপতি আবদুর রহমান বিশ্বাসের সাহসী পদক্ষেপের কারণে তা ব্যর্থ করা সম্ভব হলেও, আরেকবার রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন তা ঠেকাতে ব্যর্থ হন।

রাষ্ট্রপতি সংসদ ভেঙে দিতে পারেন এবং জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে পারেন। যদিও তিনি এটি প্রধানমন্ত্রীর অনুমতিতেই করেন, কিন্তু জাতীয় সংকটময় মুহূর্তে সংবিধান, আইন, নিয়ম—সবই অর্থহীন হয়ে যেতে পারে। সে কারণে, বাংলাদেশের মতো দেশে রাজনৈতিক ও জাতীয় সংকটের সময় ষড়যন্ত্রকারীদের কবল থেকে দেশকে রক্ষা করা এবং পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য এই পদে উপযুক্ত ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়া অপরিহার্য। অতীতে বিএনপি সরকারের কিছু ভুল সিদ্ধান্ত, যেমন মইন ইউ আহমেদকে সেনাপ্রধান এবং ইয়াজউদ্দিন আহমেদকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে নিয়োগ—এগুলোই বাংলাদেশে মইন ইউ আহমেদের নেতৃত্বে পরোক্ষ সামরিক শাসন এবং পরবর্তী সময়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ভারতের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার অন্যতম কারণ ছিল। মেরুদণ্ডহীন ও অযোগ্য নেতৃত্ব দেশের জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে, যা বিএনপি সরকার অতীতে অনুধাবন করতে ব্যর্থ হয়েছিল।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

২০২৪ সালের জুলাই গণ _হত্যার বিচার ও সনদ বাস্তবায়নের দাবি শহীদ ফাইয়াজের বাবার

রাষ্ট্রপতি পদ: অতীতে ক্ষমতা ও সংকটের কেন্দ্রবিন্দু

আপডেট সময় : ১১:০১:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশের শাসনব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি পদটি আনুষ্ঠানিক হলেও, অতীতে এটি বারবার দেশের ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে এবং জাতির ভবিষ্যতের প্রধান নির্ণায়কের ভূমিকা পালন করেছে। এই ভূমিকা কখনো ধ্বংসাত্মক প্রমাণিত হয়েছে, আবার কখনোবা জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্রস্থল হিসেবে কাজ করেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক সংকট ও অচলাবস্থায় ক্ষমতালোভী ষড়যন্ত্রকারীরা রাষ্ট্রপতিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে দেশকে দীর্ঘ সময়ের জন্য ঘোর অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিয়েছে।

রাষ্ট্রপতি পদাধিকারবলে সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হলেও, বাস্তবে তার ক্ষমতা সীমিত। কিন্তু তীব্র রাজনৈতিক অনৈক্য, হানাহানি ও গভীর জাতীয় সংকটের সময় যদি সশস্ত্র বাহিনী রাষ্ট্রপতির প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন না করে এবং তিনি যদি মেরুদণ্ডসম্পন্ন, দৃঢ়চেতা ও সাহসী ব্যক্তিত্ব না হন, তাহলে সামরিক অভ্যুত্থান ঘটার আশঙ্কা থাকে, যা অতীতে বারবার বাংলাদেশে ঘটেছে। বিশেষ করে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার কারণে ওই সময় এই আলংকারিক পদটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং একই সঙ্গে অতিশয় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। অতীতে দুবার তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় সামরিক অভ্যুত্থানের চেষ্টা হয়েছিল; একবার রাষ্ট্রপতি আবদুর রহমান বিশ্বাসের সাহসী পদক্ষেপের কারণে তা ব্যর্থ করা সম্ভব হলেও, আরেকবার রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন তা ঠেকাতে ব্যর্থ হন।

রাষ্ট্রপতি সংসদ ভেঙে দিতে পারেন এবং জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে পারেন। যদিও তিনি এটি প্রধানমন্ত্রীর অনুমতিতেই করেন, কিন্তু জাতীয় সংকটময় মুহূর্তে সংবিধান, আইন, নিয়ম—সবই অর্থহীন হয়ে যেতে পারে। সে কারণে, বাংলাদেশের মতো দেশে রাজনৈতিক ও জাতীয় সংকটের সময় ষড়যন্ত্রকারীদের কবল থেকে দেশকে রক্ষা করা এবং পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য এই পদে উপযুক্ত ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়া অপরিহার্য। অতীতে বিএনপি সরকারের কিছু ভুল সিদ্ধান্ত, যেমন মইন ইউ আহমেদকে সেনাপ্রধান এবং ইয়াজউদ্দিন আহমেদকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে নিয়োগ—এগুলোই বাংলাদেশে মইন ইউ আহমেদের নেতৃত্বে পরোক্ষ সামরিক শাসন এবং পরবর্তী সময়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ভারতের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার অন্যতম কারণ ছিল। মেরুদণ্ডহীন ও অযোগ্য নেতৃত্ব দেশের জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে, যা বিএনপি সরকার অতীতে অনুধাবন করতে ব্যর্থ হয়েছিল।