বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সুইজারল্যান্ডের ফরোয়ার্ড ব্রিল এমবোলোর লাল কার্ডটি টুর্নামেন্টের অন্যতম বিতর্কিত সিদ্ধান্ত ছিল। ঘটনার কয়েকদিন পর ম্যাচের রেফারি জোয়াও পিনেইরো বিষয়টি নিয়ে মুখ খুললেও তার ব্যাখ্যায় বিতর্ক পুরোপুরি থামছে না।
আর্জেন্টিনা-সুইজারল্যান্ড কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচে, রেফারি পিনেইরো প্রথমে আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে হলুদ কার্ড দেখান। পরে ভিএআর (ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি) পর্যালোচনার পর সিদ্ধান্ত বদলে এমবোলোকে ‘সিমুলেশন’ বা ডাইভিংয়ের দায়ে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখান। পূর্বের একটি হলুদ কার্ড থাকায় এমবোলো লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া সুইজারল্যান্ড শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ে ৩-১ গোলে হেরে বিদায় নেয়।
পর্তুগালের চ্যানেল ১১-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পিনেইরো বলেন, ‘সে মুহূর্তে আমাদের মনে হয়েছিল, আর্জেন্টিনার খেলোয়াড় ফাউল করেছেন এবং সেটি হলুদ কার্ড পাওয়ার মতো অপরাধ। কিন্তু ভিএআর জানায়, কোনো ফাউল হয়নি; বরং অন্য খেলোয়াড় ফাউলের অভিনয় করেছেন। এরপর আমি ঘটনাটি আবার (ভিএআর মনিটরে) দেখি এবং নিশ্চিত হই যে সত্যিই কোনো ফাউল হয়নি, এটি ছিল অভিনয়। ফলে সেটিই দ্বিতীয় হলুদ কার্ডে পরিণত হয়।’
পিনেইরো আরও ব্যাখ্যা করেন, ‘এটি যদি তাঁর প্রথম হলুদ কার্ডও হতো, তবু সিদ্ধান্ত একই থাকত। এ কারণেই ফিফা এই পরিবর্তন এনেছে। আমার বিশ্বাস, নতুন নিয়মগুলোর লক্ষ্যই হলো খেলাকে আরও উন্নত করা। রেফারিদের জন্যও এগুলোর প্রভাব খুবই ইতিবাচক এবং এগুলো মাঠের প্রকৃত ঘটনাকে সঠিকভাবে তুলে ধরতে সাহায্য করছে। সত্যি বলতে, এগুলো অত্যন্ত ইতিবাচক পরিবর্তন।’
তবে, রেফারির এই ব্যাখ্যার মধ্যেই নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ফুটবলের আইন প্রণয়নকারী সংস্থা আইএফএবি জানিয়েছে, ওই ঘটনায় ভিএআর-এর ব্যবহার নিয়ম অনুযায়ী হয়নি। সংস্থাটির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ‘মিসটেকেন আইডেন্টিটি’ বা ভুল খেলোয়াড়কে শাস্তি দেওয়ার ক্ষেত্রেই কেবল ভিএআর হস্তক্ষেপ করতে পারে। কিন্তু কোনো ফাউল আদৌ হয়েছিল কি না, কিংবা সেটি ডাইভিং ছিল কি না—সেটি পুনর্মূল্যায়ন করে হলুদ কার্ড পরিবর্তনের সুযোগ বর্তমান আইনে নেই। ফলে এমবোলোর দ্বিতীয় হলুদ কার্ড ও লাল কার্ড দেখানো নিয়মের ভুল প্রয়োগ ছিল বলে তারা মনে করে।
এসব বিতর্কের পরও ফিফা রেফারির সিদ্ধান্তের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, ম্যাচ কর্মকর্তারা সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
রিপোর্টারের নাম 

























