ঢাকা ১১:৪৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

কুমিল্লার তিতাসে চর দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে নারী নিহত, পুলিশের গুলিতে গ্রাম পুরুষশূন্য

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৫১:৫১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

কুমিল্লার তিতাস উপজেলায় চর দখলকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের সংঘর্ষে কোহিনূর আক্তার (৩২) নামের এক নারী নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় নিহত কোহিনূরের স্বামী মো. কাবিল মিয়া ২৯ জুলাই রাতে তিতাস উপজেলার ভাটেরারচর গ্রামের ৬১ জনের নাম উল্লেখ করে আরো ১৫০ থেকে ২০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মেঘনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মেঘনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম। তিনি জানান, মামলা দায়েরের পর এজাহারনামীয় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, তিতাসের নতুন ভাটেরাচর গ্রামের মাইনুদ্দিন, মো. হান্নান, কাশেম ব্যাপারী, মো. রানা এবং মজিদপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার মো. সুরুজ মিয়া। এদিকে, পুলিশের গ্রেপ্তার আতঙ্কে তিতাসের ভাটেরারচর গ্রাম নারী-পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে বলে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যানুযায়ী, গত ২৬ জুলাই দুপুরে তিতাসের চরভাটেরা গ্রামের প্রবাসী মো. শাহবাজ ও মজনু মিয়া ব্যক্তিগত কাজে মেঘনা উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে গেলে চর বিনোদপুর গ্রামের আলী আকবর ও তার লোকজন তাদের মারধর করে আটকে রাখে। বিষয়টি জানাজানির পর তিতাসের ভাটেরারচর গ্রামের লোকজন সেখানে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে নিয়ে আসে।

এই ঘটনার জের ধরে ওইদিন বিকালে মেঘনার আলীপুর ও চর বিনোদপুর গ্রামের লোকজনের সঙ্গে তিতাসের ভাটেরারচর গ্রামবাসীর ট্যাটাযুদ্ধ শুরু হয়। সংঘর্ষের এক পর্যায়ে মেঘনার বিনোদপুর গ্রামের ট্রলারচালক কাবিল মিয়ার স্ত্রী কোহিনূর আক্তার গলায় ট্যাটা বিদ্ধ হলে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ফের বিনোদপুর ও আলীপুর গ্রামের লোকজন ট্রলারযোগে নদী পার হয়ে ভাটেরারচর গ্রামে এসে আনুমানিক ৩০টি বসতঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ভাটেরাচরের মৃত অহিদ মিয়ার স্ত্রী আলতামুন নেছা, প্রবাসী মজিবুর রহমানের স্ত্রী আফিয়া বেগম এবং বৃদ্ধ শামসুন্নাহার জানান, ‘সোমবার সকালে মেঘনার বিনোদপুর ও আলীপুর গ্রামের লোকজন এসে আমাদের গ্রাম থেকে বের করে দিয়ে আমাদের বাড়িঘরে লুটপাট করে সবকিছু নিয়ে গেছে। এখন আমরা গ্রামে যেতে পারছি না।’ তারা স্থানীয় প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত এবং নিজেদের বাড়িতে শান্তিতে বসবাসের জন্য সহায়তা কামনা করেছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

. কৌশলী ফাঁদ বনাম কৌশলগত নীরবতা: জুলাই আন্দোলনে জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধের রাজনীতি

কুমিল্লার তিতাসে চর দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে নারী নিহত, পুলিশের গুলিতে গ্রাম পুরুষশূন্য

আপডেট সময় : ০৯:৫১:৫১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

কুমিল্লার তিতাস উপজেলায় চর দখলকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের সংঘর্ষে কোহিনূর আক্তার (৩২) নামের এক নারী নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় নিহত কোহিনূরের স্বামী মো. কাবিল মিয়া ২৯ জুলাই রাতে তিতাস উপজেলার ভাটেরারচর গ্রামের ৬১ জনের নাম উল্লেখ করে আরো ১৫০ থেকে ২০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মেঘনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মেঘনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম। তিনি জানান, মামলা দায়েরের পর এজাহারনামীয় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, তিতাসের নতুন ভাটেরাচর গ্রামের মাইনুদ্দিন, মো. হান্নান, কাশেম ব্যাপারী, মো. রানা এবং মজিদপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার মো. সুরুজ মিয়া। এদিকে, পুলিশের গ্রেপ্তার আতঙ্কে তিতাসের ভাটেরারচর গ্রাম নারী-পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে বলে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যানুযায়ী, গত ২৬ জুলাই দুপুরে তিতাসের চরভাটেরা গ্রামের প্রবাসী মো. শাহবাজ ও মজনু মিয়া ব্যক্তিগত কাজে মেঘনা উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে গেলে চর বিনোদপুর গ্রামের আলী আকবর ও তার লোকজন তাদের মারধর করে আটকে রাখে। বিষয়টি জানাজানির পর তিতাসের ভাটেরারচর গ্রামের লোকজন সেখানে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে নিয়ে আসে।

এই ঘটনার জের ধরে ওইদিন বিকালে মেঘনার আলীপুর ও চর বিনোদপুর গ্রামের লোকজনের সঙ্গে তিতাসের ভাটেরারচর গ্রামবাসীর ট্যাটাযুদ্ধ শুরু হয়। সংঘর্ষের এক পর্যায়ে মেঘনার বিনোদপুর গ্রামের ট্রলারচালক কাবিল মিয়ার স্ত্রী কোহিনূর আক্তার গলায় ট্যাটা বিদ্ধ হলে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ফের বিনোদপুর ও আলীপুর গ্রামের লোকজন ট্রলারযোগে নদী পার হয়ে ভাটেরারচর গ্রামে এসে আনুমানিক ৩০টি বসতঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ভাটেরাচরের মৃত অহিদ মিয়ার স্ত্রী আলতামুন নেছা, প্রবাসী মজিবুর রহমানের স্ত্রী আফিয়া বেগম এবং বৃদ্ধ শামসুন্নাহার জানান, ‘সোমবার সকালে মেঘনার বিনোদপুর ও আলীপুর গ্রামের লোকজন এসে আমাদের গ্রাম থেকে বের করে দিয়ে আমাদের বাড়িঘরে লুটপাট করে সবকিছু নিয়ে গেছে। এখন আমরা গ্রামে যেতে পারছি না।’ তারা স্থানীয় প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত এবং নিজেদের বাড়িতে শান্তিতে বসবাসের জন্য সহায়তা কামনা করেছেন।