ঢাকা ০১:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

মানবপাচার: ভূমধ্যসাগরের বিপজ্জনক পথ ও রাশিয়ার যুদ্ধক্ষেত্রে পাচারের ফাঁদে নিঃস্ব হচ্ছেন বাংলাদেশিরা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৫৬:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

আজ ৩০ জুলাই, বিশ্ব মানবপাচারবিরোধী দিবস। ২০১৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ৩০ জুলাইকে বিশ্ব মানবপাচারবিরোধী দিবস ঘোষণা করে। এ বছরের প্রতিপাদ্য বিষয় ‘প্রতারণার ফাঁদে বন্দি’। মানবপাচারের শিকার হওয়া বাংলাদেশিদের জন্য এটি যেন এক নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইউরোপে রঙিন জীবনের আশায় লিবিয়া হয়ে বিপজ্জনক সাগরপথ এবং সাইবার স্ক্যামের ফাঁদে পড়ে প্রতিনিয়ত প্রতারণার শিকার হচ্ছেন হাজারো বাংলাদেশি। হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম বা ফেসবুকের মতো ডিজিটাল মাধ্যমে প্রলোভন দেখিয়ে পাচার করা হচ্ছে তরুণদের। এমনকি কাজের লোভ দেখিয়ে অনেককে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করার মতো লোমহর্ষক ঘটনা এখন নিত্যদিনের। ফলে এসব ঘটনা নিয়ন্ত্রণে সরকারের কার্যকর ভূমিকা নিয়েও তৈরি হয়েছে নানান সমালোচনা।

ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালিতে প্রবেশে শীর্ষস্থান দখল কিংবা কাজের জন্য রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে তরুণদের বিক্রি করে দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, ভূমধ্যসাগর কিংবা রাশিয়া সেনাবাহিনীতে পাচার ছাড়াও কম্বোডিয়ার স্ক্যাম সেন্টারে বাংলাদেশিদের পাচার গভীর উদ্বেগের বিষয়। বিশেষজ্ঞদের দাবি, মানবপাচার নিয়ে মামলার জট এবং দ্রুত বিচার না হওয়ায় এসব প্রবণতা থামানো যাচ্ছে না। ফলে মানবপাচার নিয়ন্ত্রণে কেবল আইন পাস নয়; বরং তা বাস্তবায়ন করা এবং সচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি বলে মনে করেন তারা।

তথ্যানুযায়ী, ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালিতে প্রবেশের তালিকায় বাংলাদেশ বিশ্বের মধ্যে প্রথম। গত কয়েক বছর ধরেই বাংলাদেশ এই শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। ২০২৬ সালে এসে ইতালির পাশাপাশি সাগরপথে গ্রিসে প্রবেশের দিক দিয়েও বাংলাদেশ এখন শীর্ষে রয়েছে, যা এক নতুন রেকর্ড। চলতি বছরের মার্চে লিবিয়া থেকে গ্রিসে যাওয়ার পথে অন্তত ১৮ বাংলাদেশির মৃত্যু হয়, যার মধ্যে ১২ জনই সুনামগঞ্জের। ২১ মার্চ লিবিয়ার তোবরুক থেকে রওনা হওয়া নৌকাটি দিক হারিয়ে ছয়দিন খাদ্য ও পানিশূন্য অবস্থায় ভেসে ছিল। পরে পাচারকারীদের নির্দেশে মৃতদেহগুলো সাগরে ফেলে দেওয়া হয়। এরপরও এমন মৃত্যুযাত্রা থামেনি।

এদিকে, জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্যানুযায়ী, গত দেড় বছরে ১৫ হাজার ৯২১ বাংলাদেশি কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে কম্বোডিয়ায় গেছেন। শরীয়তপুরের নড়িয়া থানার মান্নান সৈয়ল গত বছরের ডিসেম্বরের ৫ তারিখ আত্মীয়ের মাধ্যমে কম্বোডিয়া গিয়ে প্রতারণার শিকার হয়ে নিঃস্ব হয়ে দেশে ফিরেছেন। তিনি ‘আমার দেশকে’ বলেছেন, সেখানে গিয়ে তিনি একটি স্ক্যাম সেন্টারে কাজ করতে বাধ্য হয়েছিলেন এবং দেশে ফেরার জন্য তাকে অনেক টাকা গুনতে হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্প-নেতানিয়াহু বৈঠকের পরেই তেহরানের কৌশলগত পরিবর্তন, উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য

মানবপাচার: ভূমধ্যসাগরের বিপজ্জনক পথ ও রাশিয়ার যুদ্ধক্ষেত্রে পাচারের ফাঁদে নিঃস্ব হচ্ছেন বাংলাদেশিরা

আপডেট সময় : ১০:৫৬:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

আজ ৩০ জুলাই, বিশ্ব মানবপাচারবিরোধী দিবস। ২০১৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ৩০ জুলাইকে বিশ্ব মানবপাচারবিরোধী দিবস ঘোষণা করে। এ বছরের প্রতিপাদ্য বিষয় ‘প্রতারণার ফাঁদে বন্দি’। মানবপাচারের শিকার হওয়া বাংলাদেশিদের জন্য এটি যেন এক নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইউরোপে রঙিন জীবনের আশায় লিবিয়া হয়ে বিপজ্জনক সাগরপথ এবং সাইবার স্ক্যামের ফাঁদে পড়ে প্রতিনিয়ত প্রতারণার শিকার হচ্ছেন হাজারো বাংলাদেশি। হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম বা ফেসবুকের মতো ডিজিটাল মাধ্যমে প্রলোভন দেখিয়ে পাচার করা হচ্ছে তরুণদের। এমনকি কাজের লোভ দেখিয়ে অনেককে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করার মতো লোমহর্ষক ঘটনা এখন নিত্যদিনের। ফলে এসব ঘটনা নিয়ন্ত্রণে সরকারের কার্যকর ভূমিকা নিয়েও তৈরি হয়েছে নানান সমালোচনা।

ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালিতে প্রবেশে শীর্ষস্থান দখল কিংবা কাজের জন্য রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে তরুণদের বিক্রি করে দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, ভূমধ্যসাগর কিংবা রাশিয়া সেনাবাহিনীতে পাচার ছাড়াও কম্বোডিয়ার স্ক্যাম সেন্টারে বাংলাদেশিদের পাচার গভীর উদ্বেগের বিষয়। বিশেষজ্ঞদের দাবি, মানবপাচার নিয়ে মামলার জট এবং দ্রুত বিচার না হওয়ায় এসব প্রবণতা থামানো যাচ্ছে না। ফলে মানবপাচার নিয়ন্ত্রণে কেবল আইন পাস নয়; বরং তা বাস্তবায়ন করা এবং সচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি বলে মনে করেন তারা।

তথ্যানুযায়ী, ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালিতে প্রবেশের তালিকায় বাংলাদেশ বিশ্বের মধ্যে প্রথম। গত কয়েক বছর ধরেই বাংলাদেশ এই শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। ২০২৬ সালে এসে ইতালির পাশাপাশি সাগরপথে গ্রিসে প্রবেশের দিক দিয়েও বাংলাদেশ এখন শীর্ষে রয়েছে, যা এক নতুন রেকর্ড। চলতি বছরের মার্চে লিবিয়া থেকে গ্রিসে যাওয়ার পথে অন্তত ১৮ বাংলাদেশির মৃত্যু হয়, যার মধ্যে ১২ জনই সুনামগঞ্জের। ২১ মার্চ লিবিয়ার তোবরুক থেকে রওনা হওয়া নৌকাটি দিক হারিয়ে ছয়দিন খাদ্য ও পানিশূন্য অবস্থায় ভেসে ছিল। পরে পাচারকারীদের নির্দেশে মৃতদেহগুলো সাগরে ফেলে দেওয়া হয়। এরপরও এমন মৃত্যুযাত্রা থামেনি।

এদিকে, জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্যানুযায়ী, গত দেড় বছরে ১৫ হাজার ৯২১ বাংলাদেশি কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে কম্বোডিয়ায় গেছেন। শরীয়তপুরের নড়িয়া থানার মান্নান সৈয়ল গত বছরের ডিসেম্বরের ৫ তারিখ আত্মীয়ের মাধ্যমে কম্বোডিয়া গিয়ে প্রতারণার শিকার হয়ে নিঃস্ব হয়ে দেশে ফিরেছেন। তিনি ‘আমার দেশকে’ বলেছেন, সেখানে গিয়ে তিনি একটি স্ক্যাম সেন্টারে কাজ করতে বাধ্য হয়েছিলেন এবং দেশে ফেরার জন্য তাকে অনেক টাকা গুনতে হয়েছে।