ঢাকা ১১:৪৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

আমদানি নিষেধাজ্ঞা ও আইনি জটিলতায় গোবরাকুড়া-কড়ইতলী স্থলবন্দরে কর্মচাঞ্চল্যহীনতা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৫০:২২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

ময়মনসিংহের সীমান্তবর্তী হালুয়াঘাট উপজেলার গোবরাকুড়া ও কড়ইতলী স্থলবন্দর দুটি এখন সুনসান নীরবতায় নিমজ্জিত। একসময় হাজারো মানুষের কোলাহলে মুখরিত এই বন্দরগুলো বর্তমানে কর্মহীন স্থবিরতায় এক ভুতুড়ে রূপ ধারণ করেছে। ভারতীয় কয়লা আমদানির ওপর বারবার নিষেধাজ্ঞা, আইনি জটিলতা এবং পণ্যের উচ্চমূল্যের কারণে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই দুই স্থলবন্দরের ভবিষ্যৎ এখন গভীর অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

একসময় যে বন্দর দুটি থেকে প্রতি বছর শত কোটি টাকার বেশি রাজস্ব আদায় হতো, তা এখন নামমাত্র অঙ্কে এসে দাঁড়িয়েছে। বাণিজ্যিক স্থবিরতা ও ক্রমাগত লোকসানের মুখে গত বছরের মার্চ মাসে সরকারি উচ্চপর্যায়ের একটি যাচাই-বাছাই কমিটি বন্দর দুটির পরিচালন ব্যয় কমানোর সুপারিশ করে। সেই সুপারিশের ভিত্তিতে গত বছরের ২৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সভায় গোবরাকুড়া ও কড়ইতলী স্থলবন্দরের পৃথক কার্যক্রম বন্ধ করে একটি স্থানে এনে প্রশাসনিক কার্যক্রম সংকুচিত করার চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। বর্তমানে দুজন সহকারী ট্রাফিক পরিদর্শক দিয়ে নামমাত্র সেটআপে এই বন্দরের দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

মূলত ১৯৭৯ সালে কড়ইতলী এবং ১৯৯৭ সালে গোবরাকুড়া প্রাথমিক পর্যায়ে শুল্ক স্টেশন হিসেবে যাত্রা শুরু করে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর ২০১২ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর শুল্ক স্টেশন দুটিকে স্থলবন্দর হিসেবে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। পরবর্তীকালে অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৭৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩১ একর জমিতে ওয়্যারহাউস, ইয়ার্ড, সীমানা প্রাচীর, ওয়েব্রিজ স্কেল ও প্রশাসনিক ভবন নির্মাণসহ অবকাঠামোগত আধুনিকায়ন শেষে, ২০২৩ সালের ১১ মার্চ এটিকে পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দর হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এই ঘোষণার পর স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মনে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির যে আশার আলো জেগেছিল, তা এখন অনিশ্চয়তায় ঢাকা পড়েছে।

দুই বন্দরের মূল চালিকাশক্তি হলো ভারত থেকে আমদানি করা কয়লা। কিন্তু ২০১৪ সালে ভারতের মেঘালয়ের একটি পরিবেশবাদী সংগঠনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দেশটির ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনাল (জাতীয় পরিবেশ আদালত) মেঘালয় রাজ্যে অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন ও পরিবহনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এরপর থেকেই মূলত দুই বন্দরে সংকট শুরু হয়। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে মাঝে কয়েকবার উচ্চ আদালতের সাময়িক নির্দেশনায় কয়লা আমদানি শুরু হলেও তা স্থায়ী রূপ পায়নি, যা বন্দরের বর্তমান দুরবস্থার অন্যতম কারণ।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

. কৌশলী ফাঁদ বনাম কৌশলগত নীরবতা: জুলাই আন্দোলনে জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধের রাজনীতি

আমদানি নিষেধাজ্ঞা ও আইনি জটিলতায় গোবরাকুড়া-কড়ইতলী স্থলবন্দরে কর্মচাঞ্চল্যহীনতা

আপডেট সময় : ০৯:৫০:২২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

ময়মনসিংহের সীমান্তবর্তী হালুয়াঘাট উপজেলার গোবরাকুড়া ও কড়ইতলী স্থলবন্দর দুটি এখন সুনসান নীরবতায় নিমজ্জিত। একসময় হাজারো মানুষের কোলাহলে মুখরিত এই বন্দরগুলো বর্তমানে কর্মহীন স্থবিরতায় এক ভুতুড়ে রূপ ধারণ করেছে। ভারতীয় কয়লা আমদানির ওপর বারবার নিষেধাজ্ঞা, আইনি জটিলতা এবং পণ্যের উচ্চমূল্যের কারণে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই দুই স্থলবন্দরের ভবিষ্যৎ এখন গভীর অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

একসময় যে বন্দর দুটি থেকে প্রতি বছর শত কোটি টাকার বেশি রাজস্ব আদায় হতো, তা এখন নামমাত্র অঙ্কে এসে দাঁড়িয়েছে। বাণিজ্যিক স্থবিরতা ও ক্রমাগত লোকসানের মুখে গত বছরের মার্চ মাসে সরকারি উচ্চপর্যায়ের একটি যাচাই-বাছাই কমিটি বন্দর দুটির পরিচালন ব্যয় কমানোর সুপারিশ করে। সেই সুপারিশের ভিত্তিতে গত বছরের ২৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সভায় গোবরাকুড়া ও কড়ইতলী স্থলবন্দরের পৃথক কার্যক্রম বন্ধ করে একটি স্থানে এনে প্রশাসনিক কার্যক্রম সংকুচিত করার চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। বর্তমানে দুজন সহকারী ট্রাফিক পরিদর্শক দিয়ে নামমাত্র সেটআপে এই বন্দরের দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

মূলত ১৯৭৯ সালে কড়ইতলী এবং ১৯৯৭ সালে গোবরাকুড়া প্রাথমিক পর্যায়ে শুল্ক স্টেশন হিসেবে যাত্রা শুরু করে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর ২০১২ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর শুল্ক স্টেশন দুটিকে স্থলবন্দর হিসেবে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। পরবর্তীকালে অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৭৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩১ একর জমিতে ওয়্যারহাউস, ইয়ার্ড, সীমানা প্রাচীর, ওয়েব্রিজ স্কেল ও প্রশাসনিক ভবন নির্মাণসহ অবকাঠামোগত আধুনিকায়ন শেষে, ২০২৩ সালের ১১ মার্চ এটিকে পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দর হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এই ঘোষণার পর স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মনে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির যে আশার আলো জেগেছিল, তা এখন অনিশ্চয়তায় ঢাকা পড়েছে।

দুই বন্দরের মূল চালিকাশক্তি হলো ভারত থেকে আমদানি করা কয়লা। কিন্তু ২০১৪ সালে ভারতের মেঘালয়ের একটি পরিবেশবাদী সংগঠনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দেশটির ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনাল (জাতীয় পরিবেশ আদালত) মেঘালয় রাজ্যে অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন ও পরিবহনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এরপর থেকেই মূলত দুই বন্দরে সংকট শুরু হয়। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে মাঝে কয়েকবার উচ্চ আদালতের সাময়িক নির্দেশনায় কয়লা আমদানি শুরু হলেও তা স্থায়ী রূপ পায়নি, যা বন্দরের বর্তমান দুরবস্থার অন্যতম কারণ।