ঢাকা ১১:৫০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

ক্ষুদ্রঋণদাতা এনজিওগুলো এখন হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৪৮:১৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

দেশের ব্যাংকিং খাতে যখন বড় বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানে বৃহৎ আকারের ঋণ বিতরণের ফলে নাজুক অবস্থা বিরাজ করছে, তখন ক্ষুদ্র ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোতে দেখা যাচ্ছে সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র। উচ্চ সুদ এবং প্রায় শতভাগ ঋণ আদায়ের সফলতার কারণে দেশের শীর্ষস্থানীয় এনজিওগুলো এখন ধনী আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। ক্রমপুঞ্জীভূত উদ্বৃত্তের (কিউমুলেটিভ সারপ্লাস) মাধ্যমে শীর্ষ এনজিওগুলোর তহবিলে জমা হয়েছে কয়েক হাজার কোটি টাকা। এক সময় এসব এনজিও বিদেশি দাতাগোষ্ঠীর অনুদানে চললেও এখন ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমে আর্থিক সক্ষমতা অর্জন করেছে।

একটি প্রতিষ্ঠানের অর্জিত মুনাফা থেকে যাবতীয় খরচ বাদ দেওয়ার পর যে অতিরিক্ত অর্থ বছরের পর বছর ধরে সঞ্চিত হয়ে বড় অঙ্কের তহবিল তৈরি হয়, তাকেই ‘ক্রমপুঞ্জীভূত উদ্বৃত্ত’ বলা হয়। তবে ক্ষুদ্র ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর (এমএফআই) নিয়ন্ত্রক সংস্থা মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ)-এর সংজ্ঞানুসারে ‘ক্রমপুঞ্জীভূত উদ্বৃত্ত’ হচ্ছে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমের মোট উদ্বৃত্ত থেকে বিধি মোতাবেক সংরক্ষিত তহবিল গঠনের পর অবশিষ্ট থাকা উদ্বৃত্ত।

এমআরএ-এর সার্কুলার অনুযায়ী, এমএফআইগুলোকে উদ্বৃত্ত থেকে ১০ শতাংশ তহবিল সংরক্ষণ করতে হয়। এ হিসাবে মোট উদ্বৃত্তের ১০ শতাংশ বাদ দিয়ে যে পরিমাণ অর্থ জমা হচ্ছে, সেটাই হচ্ছে ক্রমপুঞ্জীভূত উদ্বৃত্ত।

এনজিওগুলোর আর্থিক প্রতিবেদন ও এমআরএ-এর তথ্যানুযায়ী, এই উদ্বৃত্ত তহবিলের শীর্ষে রয়েছে ‘আশা’। ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত তথ্যানুযায়ী, আশার উদ্বৃত্ত তহবিলের পরিমাণ ২৫ হাজার ৪১১ কোটি টাকা। ১৭ হাজার ৯৭৫ কোটি টাকা নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে ব্র্যাক। তালিকায় এর পরই রয়েছে ব্যুরো বাংলাদেশ ৩৮৭১ কোটি টাকা, টিএমএসএস ২৩১৬ কোটি টাকা, সোসাইটি ফর সোশ্যাল সার্ভিস (এসএসএস) ১৭১২ কোটি টাকা, জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশন ১৪৮৭ কোটি টাকা এবং পল্লী মঙ্গল কর্মসূচি (পিএমকে) ১০৫৩ কোটি টাকা। এছাড়া সাজেদা ফাউন্ডেশন, সিদীপ, প্রত্যাশী, পদক্ষেপ ও ক্রিশ্চিয়ান সার্ভিস সোসাইটির মতো এনজিওগুলোর প্রত্যেকের হাতেই ৪০০ কোটি টাকার বেশি উদ্বৃত্ত তহবিল রয়েছে।

গ্রাহকদের মধ্যে ঋণ বিতরণের তথ্যে দেখা যায়, এই সময়ে সবচেয়ে বেশি ঋণ বিতরণ করেছে ব্র্যাক। তাদের বিতরণকৃত ঋণের পরিমাণ ৪৩ হাজার ৭০০ কোটি টাকার বেশি। ২৭ হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণ বিতরণ করে দ্বিতীয় স্থানে ছিল আশা। তৃতীয় স্থানে থাকা ব্যুরো বাংলাদেশের বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ১১ হাজার কোটি টাকার বেশি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

. কৌশলী ফাঁদ বনাম কৌশলগত নীরবতা: জুলাই আন্দোলনে জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধের রাজনীতি

ক্ষুদ্রঋণদাতা এনজিওগুলো এখন হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক

আপডেট সময় : ০৮:৪৮:১৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

দেশের ব্যাংকিং খাতে যখন বড় বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানে বৃহৎ আকারের ঋণ বিতরণের ফলে নাজুক অবস্থা বিরাজ করছে, তখন ক্ষুদ্র ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোতে দেখা যাচ্ছে সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র। উচ্চ সুদ এবং প্রায় শতভাগ ঋণ আদায়ের সফলতার কারণে দেশের শীর্ষস্থানীয় এনজিওগুলো এখন ধনী আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। ক্রমপুঞ্জীভূত উদ্বৃত্তের (কিউমুলেটিভ সারপ্লাস) মাধ্যমে শীর্ষ এনজিওগুলোর তহবিলে জমা হয়েছে কয়েক হাজার কোটি টাকা। এক সময় এসব এনজিও বিদেশি দাতাগোষ্ঠীর অনুদানে চললেও এখন ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমে আর্থিক সক্ষমতা অর্জন করেছে।

একটি প্রতিষ্ঠানের অর্জিত মুনাফা থেকে যাবতীয় খরচ বাদ দেওয়ার পর যে অতিরিক্ত অর্থ বছরের পর বছর ধরে সঞ্চিত হয়ে বড় অঙ্কের তহবিল তৈরি হয়, তাকেই ‘ক্রমপুঞ্জীভূত উদ্বৃত্ত’ বলা হয়। তবে ক্ষুদ্র ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর (এমএফআই) নিয়ন্ত্রক সংস্থা মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ)-এর সংজ্ঞানুসারে ‘ক্রমপুঞ্জীভূত উদ্বৃত্ত’ হচ্ছে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমের মোট উদ্বৃত্ত থেকে বিধি মোতাবেক সংরক্ষিত তহবিল গঠনের পর অবশিষ্ট থাকা উদ্বৃত্ত।

এমআরএ-এর সার্কুলার অনুযায়ী, এমএফআইগুলোকে উদ্বৃত্ত থেকে ১০ শতাংশ তহবিল সংরক্ষণ করতে হয়। এ হিসাবে মোট উদ্বৃত্তের ১০ শতাংশ বাদ দিয়ে যে পরিমাণ অর্থ জমা হচ্ছে, সেটাই হচ্ছে ক্রমপুঞ্জীভূত উদ্বৃত্ত।

এনজিওগুলোর আর্থিক প্রতিবেদন ও এমআরএ-এর তথ্যানুযায়ী, এই উদ্বৃত্ত তহবিলের শীর্ষে রয়েছে ‘আশা’। ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত তথ্যানুযায়ী, আশার উদ্বৃত্ত তহবিলের পরিমাণ ২৫ হাজার ৪১১ কোটি টাকা। ১৭ হাজার ৯৭৫ কোটি টাকা নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে ব্র্যাক। তালিকায় এর পরই রয়েছে ব্যুরো বাংলাদেশ ৩৮৭১ কোটি টাকা, টিএমএসএস ২৩১৬ কোটি টাকা, সোসাইটি ফর সোশ্যাল সার্ভিস (এসএসএস) ১৭১২ কোটি টাকা, জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশন ১৪৮৭ কোটি টাকা এবং পল্লী মঙ্গল কর্মসূচি (পিএমকে) ১০৫৩ কোটি টাকা। এছাড়া সাজেদা ফাউন্ডেশন, সিদীপ, প্রত্যাশী, পদক্ষেপ ও ক্রিশ্চিয়ান সার্ভিস সোসাইটির মতো এনজিওগুলোর প্রত্যেকের হাতেই ৪০০ কোটি টাকার বেশি উদ্বৃত্ত তহবিল রয়েছে।

গ্রাহকদের মধ্যে ঋণ বিতরণের তথ্যে দেখা যায়, এই সময়ে সবচেয়ে বেশি ঋণ বিতরণ করেছে ব্র্যাক। তাদের বিতরণকৃত ঋণের পরিমাণ ৪৩ হাজার ৭০০ কোটি টাকার বেশি। ২৭ হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণ বিতরণ করে দ্বিতীয় স্থানে ছিল আশা। তৃতীয় স্থানে থাকা ব্যুরো বাংলাদেশের বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ১১ হাজার কোটি টাকার বেশি।