আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন সামরিক সদস্যদের মামলা নিয়ে সেনাবাহিনীর কোনো সাংঘর্ষিক অবস্থান নেই বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল মেজর জেনারেল মো. হাকিমুজ্জামান। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সর্বদা ন্যায়ের পক্ষে থাকবে এবং বিচারকাজ সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়াতেই সম্পন্ন হবে।
শনিবার বিকেলে ঢাকা সেনানিবাসের মেসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
অভিযুক্তদের বিচার কোন আইনে হবে— আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) আইন নাকি সেনা আইনে, এ নিয়ে কোনো দ্বন্দ্ব আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, দুটি আইনকে মুখোমুখি দাঁড় করানো ঠিক হবে না। তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, আইসিটি আইনে অভিযোগপত্রে নাম এলেই চাকরিচ্যুত হওয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু তখনো একজন ব্যক্তি চূড়ান্তভাবে সাজাপ্রাপ্ত হন না, কারণ তার আপিলের সুযোগ থাকে। আপিল নিষ্পত্তির পর সাজা বহাল থাকলে তবেই তাকে দোষী বলা যায়। আবার বিচার শেষে কেউ খালাসও পেতে পারেন, সেক্ষেত্রে তার চাকরিতে ফেরার সুযোগ থাকা উচিত।
এই পুরো বিচার প্রক্রিয়া চলাকালীন অভিযুক্তদের সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং মানসিক সমস্যার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে চলা মামলার কারণে কেউ অসুস্থ হতে পারেন বা হৃদরোগে আক্রান্ত হতে পারেন। এগুলোও মানবাধিকারের অংশ।
মেজর জেনারেল হাকিমুজ্জামান আরও একটি জটিলতার কথা উল্লেখ করে বলেন, সেনাবাহিনীতে চাকরির নির্দিষ্ট মেয়াদ রয়েছে। বিচার চলাকালে কোনো কর্মকর্তার চাকরির মেয়াদ শেষ হলে তিনি অবসরে যাবেন। পরে যদি তিনি মামলা থেকে খালাসও পান, তাকে আর চাকরিতে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে না। এ কারণেই ট্রাইব্যুনালের সংশ্লিষ্ট আইনি বিষয়গুলো নিয়ে সেনাবাহিনী যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যাখ্যা চাইবে।
চার্জশিটভুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সেনা আইনে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, গুমের ঘটনা তদন্তে একটি জাতীয় কমিশন কাজ করছে এবং সেনাবাহিনী সেই কমিশনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করছে। সেনাবাহিনী আলাদা কোনো তদন্ত কমিশন গঠন করেনি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সেনাবাহিনী ন্যায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং যা কিছু ন্যায়সঙ্গত, তার পক্ষেই থাকবে।
তিনি আরও বলেন, গুম কমিশনের প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে যে, প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিল না। অভিযুক্ত কিছু কর্মকর্তা হয়তো তখন র্যাব বা ডিজিএফআইয়ে কর্মরত ছিলেন, কিন্তু সেই সংস্থাগুলো সেনাবাহিনীর অধীনে পরিচালিত হয় না। র্যাব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এবং ডিজিএফআই সরাসরি প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরের অধীনে কাজ করে। তবে অভিযুক্তরা সেনাবাহিনীর সদস্য হওয়ায় তাদের সামরিক হেফাজতে রাখা যেতে পারে। অভিযোগপত্র হাতে পেলে কার কতটুকু সম্পৃক্ততা, তা স্পষ্ট হবে।
অভিযুক্তদের আদালতে হাজির করার নির্দিষ্ট তারিখ দেওয়া হয়েছে কিনা, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, বিষয়টি আইন অনুযায়ীই নিষ্পত্তি হবে। আগামী ২২ অক্টোবর তাদের আদালতে হাজির করা সম্ভব হবে কিনা, এ বিষয়ে তিনি বলেন, সেনাবাহিনী আগে আইনের ব্যাখ্যা চাইবে এবং সেই ব্যাখ্যা পাওয়ার পরেই এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বিষয়ে তিনি বলেন, তারা যেহেতু এখন অবসরে, পুলিশ চাইলে তাদের গ্রেপ্তার করতে পারে। তবে তারা যদি চান, তাহলে সেনাবাহিনীর হেফাজতেও আসতে পারেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা আর সরাসরি সেনা সদর দপ্তরের অধীনে নন।
রিপোর্টারের নাম 

















