ঢাকা ১১:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

বালুহীন বিশ্বের বৃহত্তম মরুভূমি অ্যান্টার্কটিকা: এক বিস্ময়কর ভূখণ্ড

সাধারণত ‘মরুভূমি’ বললেই আমাদের চোখে ভেসে ওঠে সাহারা বা ডেথ ভ্যালির মতো বিশাল বালুকাময় প্রান্তর। তবে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মরুভূমি কিন্তু বালুময় নয়; বরং এটি বরফে ঢাকা একটি মহাদেশ—অ্যান্টার্কটিকা। এই তথ্য অনেককেই বিস্মিত করে, কারণ মরুভূমির প্রচলিত ধারণার সঙ্গে এর কোনো মিল নেই।

ভূতাত্ত্বিক সংজ্ঞা অনুযায়ী, মরুভূমি নির্ধারণের মূল মানদণ্ড হলো বার্ষিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ, তাপমাত্রা নয়। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (নাসা) জানিয়েছে, যে অঞ্চলে বছরে প্রায় ১০ ইঞ্চি বা তার কম বৃষ্টিপাত হয়, সেটিকেই মরুভূমি হিসেবে গণ্য করা হয়। এই সংজ্ঞা অনুযায়ী, অ্যান্টার্কটিকা পৃথিবীর বৃহত্তম মরুভূমি। যুক্তরাষ্ট্রের অ্যান্টার্কটিক প্রোগ্রামের তথ্যমতে, এই মহাদেশে বছরে গড়ে মাত্র ২ ইঞ্চি বৃষ্টিপাত বা তুষারপাত হয়। ফলস্বরূপ, এটি বিশ্বের সবচেয়ে শীতল, সবচেয়ে বাতাসপ্রবণ এবং একই সঙ্গে সবচেয়ে শুষ্ক অঞ্চলগুলোর একটি।

আয়তনের দিক থেকেও অ্যান্টার্কটিকা বিশাল; প্রায় ৫৪ লাখ বর্গমাইল বিস্তৃত এই মহাদেশ সাহারা মরুভূমির চেয়েও প্রায় দেড় গুণ বড়। বিস্ময়কর বিষয় হলো, এত কম বৃষ্টিপাতের পরও অ্যান্টার্কটিকা কয়েক কিলোমিটার পুরু বরফের স্তরে ঢাকা। এখানেই সংরক্ষিত রয়েছে পৃথিবীর মোট বরফের প্রায় ৯০ শতাংশ এবং বিশ্বের প্রায় ৭০ শতাংশ মিঠাপানি। চরম শুষ্কতা ও হিমাঙ্কের অনেক নিচের তাপমাত্রার কারণে নাসা প্রায়ই অ্যান্টার্কটিকার পরিবেশের সঙ্গে মঙ্গল গ্রহের তুলনা করে। এমনকি মঙ্গলে পাঠানো কিছু রোবটের পরীক্ষামূলক কার্যক্রমও অ্যান্টার্কটিকায় পরিচালিত হয়েছিল, কারণ দুই স্থানের পরিবেশগত বৈশিষ্ট্যের মধ্যে উল্লেখযোগ্য মিল রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যান্টার্কটিকা প্রমাণ করে যে মরুভূমি মানেই শুধু বালু আর প্রচণ্ড গরম নয়, বরং যেখানে দীর্ঘ সময় ধরে অত্যন্ত কম বৃষ্টিপাত হয়, সেই অঞ্চলটি বরফে ঢাকা হোক বা বালুময়, তা মরুভূমির সংজ্ঞার মধ্যেই পড়ে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পিরোজপুরে মাদ্রাসায় পাঠদান বন্ধ রেখে ছাত্রশিবিরের কর্মসূচি, তদন্তের ঘোষণা

বালুহীন বিশ্বের বৃহত্তম মরুভূমি অ্যান্টার্কটিকা: এক বিস্ময়কর ভূখণ্ড

আপডেট সময় : ০৫:৪৯:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

সাধারণত ‘মরুভূমি’ বললেই আমাদের চোখে ভেসে ওঠে সাহারা বা ডেথ ভ্যালির মতো বিশাল বালুকাময় প্রান্তর। তবে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মরুভূমি কিন্তু বালুময় নয়; বরং এটি বরফে ঢাকা একটি মহাদেশ—অ্যান্টার্কটিকা। এই তথ্য অনেককেই বিস্মিত করে, কারণ মরুভূমির প্রচলিত ধারণার সঙ্গে এর কোনো মিল নেই।

ভূতাত্ত্বিক সংজ্ঞা অনুযায়ী, মরুভূমি নির্ধারণের মূল মানদণ্ড হলো বার্ষিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ, তাপমাত্রা নয়। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (নাসা) জানিয়েছে, যে অঞ্চলে বছরে প্রায় ১০ ইঞ্চি বা তার কম বৃষ্টিপাত হয়, সেটিকেই মরুভূমি হিসেবে গণ্য করা হয়। এই সংজ্ঞা অনুযায়ী, অ্যান্টার্কটিকা পৃথিবীর বৃহত্তম মরুভূমি। যুক্তরাষ্ট্রের অ্যান্টার্কটিক প্রোগ্রামের তথ্যমতে, এই মহাদেশে বছরে গড়ে মাত্র ২ ইঞ্চি বৃষ্টিপাত বা তুষারপাত হয়। ফলস্বরূপ, এটি বিশ্বের সবচেয়ে শীতল, সবচেয়ে বাতাসপ্রবণ এবং একই সঙ্গে সবচেয়ে শুষ্ক অঞ্চলগুলোর একটি।

আয়তনের দিক থেকেও অ্যান্টার্কটিকা বিশাল; প্রায় ৫৪ লাখ বর্গমাইল বিস্তৃত এই মহাদেশ সাহারা মরুভূমির চেয়েও প্রায় দেড় গুণ বড়। বিস্ময়কর বিষয় হলো, এত কম বৃষ্টিপাতের পরও অ্যান্টার্কটিকা কয়েক কিলোমিটার পুরু বরফের স্তরে ঢাকা। এখানেই সংরক্ষিত রয়েছে পৃথিবীর মোট বরফের প্রায় ৯০ শতাংশ এবং বিশ্বের প্রায় ৭০ শতাংশ মিঠাপানি। চরম শুষ্কতা ও হিমাঙ্কের অনেক নিচের তাপমাত্রার কারণে নাসা প্রায়ই অ্যান্টার্কটিকার পরিবেশের সঙ্গে মঙ্গল গ্রহের তুলনা করে। এমনকি মঙ্গলে পাঠানো কিছু রোবটের পরীক্ষামূলক কার্যক্রমও অ্যান্টার্কটিকায় পরিচালিত হয়েছিল, কারণ দুই স্থানের পরিবেশগত বৈশিষ্ট্যের মধ্যে উল্লেখযোগ্য মিল রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যান্টার্কটিকা প্রমাণ করে যে মরুভূমি মানেই শুধু বালু আর প্রচণ্ড গরম নয়, বরং যেখানে দীর্ঘ সময় ধরে অত্যন্ত কম বৃষ্টিপাত হয়, সেই অঞ্চলটি বরফে ঢাকা হোক বা বালুময়, তা মরুভূমির সংজ্ঞার মধ্যেই পড়ে।