ঢাকা ০৫:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

ক্ষেতলালে মালচিং পদ্ধতিতে করলা চাষে কৃষকদের বাম্পার ফলন ও লাভ

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলায় আধুনিক মালচিং পদ্ধতিতে করলা চাষ করে কৃষকরা এবার ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন। তুলসীগঙ্গা ইউনিয়নের আটি গ্রামে এই পদ্ধতিতে চাষাবাদ করে উৎপাদন বৃদ্ধি, পরিচর্যা ব্যয় হ্রাস এবং বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে আগ্রহ বাড়ছে।

স্থানীয় কৃষক রানা, মাহফুজুল, সোহাগ, কাফি, ছোবাহান, কাবিলসহ একাধিক চাষি জানান, মালচিং পদ্ধতিতে চাষ করলে আগাছা কম জন্মায়, মাটির আর্দ্রতা বজায় থাকে এবং সেচের পানির প্রয়োজনও কমে যায়। এর ফলে পরিচর্যার খরচ ও কীটনাশকের ব্যবহার আগের চেয়ে অনেক কমে এসেছে। চারা রোপণের ৪৫ থেকে ৬০ দিনের মধ্যেই করলা সংগ্রহ করা যায় এবং বাজারে ভালো দাম থাকায় লাভও বেশি হচ্ছে। অনেক কৃষক আগামী মৌসুমে আরও বেশি জমিতে এই পদ্ধতিতে করলা চাষের পরিকল্পনা করছেন।

কৃষকদের মতে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে প্রতি ৩৩ শতাংশ জমিতে করলা চাষে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা খরচ হয়। ভালো ফলন ও বাজারে অনুকূল দাম পেলে একই জমি থেকে দেড় লাখ থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত করলা বিক্রি করা সম্ভব। মালচিং প্রযুক্তিতে উৎপাদিত করলা নিরাপদ ও মানসম্মত হওয়ায় বাজারে এর চাহিদাও বেশি, যা এই পদ্ধতিকে এলাকায় জনপ্রিয় করে তুলছে।

ক্ষেতলাল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মল্লিকা রানী সেহানবীশ বলেন, চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ১০ হেক্টর জমিতে করলার আবাদ হয়েছে। নিয়মিত পরিচর্যা, রোগবালাই দমন এবং মালচিং পদ্ধতি অনুসরণ করলে আরও ভালো ফলন ও লাভ পাওয়া সম্ভব। মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও জানান, আধুনিক মালচিং প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বাজারে করলার ভালো দামের সমন্বয়ে ক্ষেতলালে করলা চাষ কৃষকদের জন্য একটি লাভজনক ও সম্ভাবনাময় ফসলে পরিণত হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কক্সবাজারের রামুতে বনকর্মীদের ওপর হামলা: রেঞ্জ কর্মকর্তাসহ আহত ৫, অভিযোগ বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে

ক্ষেতলালে মালচিং পদ্ধতিতে করলা চাষে কৃষকদের বাম্পার ফলন ও লাভ

আপডেট সময় : ০৩:৪২:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলায় আধুনিক মালচিং পদ্ধতিতে করলা চাষ করে কৃষকরা এবার ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন। তুলসীগঙ্গা ইউনিয়নের আটি গ্রামে এই পদ্ধতিতে চাষাবাদ করে উৎপাদন বৃদ্ধি, পরিচর্যা ব্যয় হ্রাস এবং বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে আগ্রহ বাড়ছে।

স্থানীয় কৃষক রানা, মাহফুজুল, সোহাগ, কাফি, ছোবাহান, কাবিলসহ একাধিক চাষি জানান, মালচিং পদ্ধতিতে চাষ করলে আগাছা কম জন্মায়, মাটির আর্দ্রতা বজায় থাকে এবং সেচের পানির প্রয়োজনও কমে যায়। এর ফলে পরিচর্যার খরচ ও কীটনাশকের ব্যবহার আগের চেয়ে অনেক কমে এসেছে। চারা রোপণের ৪৫ থেকে ৬০ দিনের মধ্যেই করলা সংগ্রহ করা যায় এবং বাজারে ভালো দাম থাকায় লাভও বেশি হচ্ছে। অনেক কৃষক আগামী মৌসুমে আরও বেশি জমিতে এই পদ্ধতিতে করলা চাষের পরিকল্পনা করছেন।

কৃষকদের মতে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে প্রতি ৩৩ শতাংশ জমিতে করলা চাষে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা খরচ হয়। ভালো ফলন ও বাজারে অনুকূল দাম পেলে একই জমি থেকে দেড় লাখ থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত করলা বিক্রি করা সম্ভব। মালচিং প্রযুক্তিতে উৎপাদিত করলা নিরাপদ ও মানসম্মত হওয়ায় বাজারে এর চাহিদাও বেশি, যা এই পদ্ধতিকে এলাকায় জনপ্রিয় করে তুলছে।

ক্ষেতলাল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মল্লিকা রানী সেহানবীশ বলেন, চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ১০ হেক্টর জমিতে করলার আবাদ হয়েছে। নিয়মিত পরিচর্যা, রোগবালাই দমন এবং মালচিং পদ্ধতি অনুসরণ করলে আরও ভালো ফলন ও লাভ পাওয়া সম্ভব। মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও জানান, আধুনিক মালচিং প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বাজারে করলার ভালো দামের সমন্বয়ে ক্ষেতলালে করলা চাষ কৃষকদের জন্য একটি লাভজনক ও সম্ভাবনাময় ফসলে পরিণত হয়েছে।