ঢাকা ০২:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

বিজ্ঞাপনের চুক্তির প্রলোভনে ডেকে নায়িকাকে নির্যাতনের অভিযোগ

বিজ্ঞাপনের বিশাল চুক্তির ফাঁদে ফেলে এক উদীয়মান নায়িকাকে ডেকে নিয়ে পৈশাচিক কায়দায় শারীরিক নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে আশিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। প্রেশার কুকার খ্যাত জনপ্রিয় নায়িকা স্নিগ্ধা চৌধুরী এই অভিযোগ তুলেছেন। এই ভয়াবহ ঘটনার পর গত শুক্রবার চব্বিশে জুলাই রাতে ভুক্তভোগী অভিনেত্রী নিজেই বাদী হয়ে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে রাজধানীর খিলক্ষেত থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। পুরো ঘটনাটি বিনোদন অঙ্গনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

ঘটনার লোমহর্ষক বর্ণনা দিতে গিয়ে ভুক্তভোগী নায়িকা স্নিগ্ধা চৌধুরী জানান, একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের এক বছরের ব্র্যান্ড এনডোর্সমেন্ট বা শুভেচ্ছাদূত হিসেবে কাজ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল তাকে। সেই চুক্তির বিষয়ে চূড়ান্ত কথা বলার জন্যই ইমন নামের পরিচিত এক ব্যক্তি তাকে আশিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যানের নিজস্ব কার্যালয়ে নিয়ে যান। প্রাথমিক আলোচনার সময় নায়িকার সঙ্গে তার মা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু কথাবার্তার এক পর্যায়ে তার মা সেখান থেকে চলে গেলে হঠাৎ করেই সেখানকার সম্পূর্ণ পরিবেশ বদলে যায় এবং শুরু হয় এক অপ্রত্যাশিত ও ভয়ংকর পরিস্থিতি।

ভুক্তভোগী এই অভিনেত্রীর দাবি, আশিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান তাকে সেখানে সম্পূর্ণ অন্য একজন নারী ভেবে বসেন। জেবা তাকিয়া নামের ওই নারীর সঙ্গে তাকে গুলিয়ে ফেলে চেয়ারম্যান হঠাৎ করেই চরম ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলেও সঙ্গে থাকা ইমন নামক ব্যক্তিটি কোনো প্রতিবাদ তো করেননি, বরং তিনি উল্টো ইশারায় স্নিগ্ধাকে ওই জেবা তাকিয়া পরিচয়টি মেনে নেওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকেন। স্নিগ্ধা পরে জানতে পারেন, জেবা তাকিয়া নামের ওই নারী নাকি আশিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যানের সঙ্গে বড় ধরনের কোনো প্রতারণা করে বিপুল অঙ্কের টাকা আত্মসাৎ করে পালিয়েছেন। সেই জমানো ক্ষোভের বশবর্তী হয়েই নির্দোষ স্নিগ্ধার ওপর এই বর্বরোচিত শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়।

নির্যাতনের সেই ভয়াবহ মুহূর্তের কথা স্মরণ করে শিউরে ওঠেন স্নিগ্ধা। তিনি বলেন, ওই বদ্ধ ঘরে তাকে সম্পূর্ণ একা করে দেওয়া হয়। চেয়ারম্যান তার নির্দেশে ঘরে থাকা অন্য সব লোকজনকে বের করে দেন। এরপর জোরপূর্বক স্নিগ্ধার হাত এবং পা দড়ি দিয়ে শক্ত করে বেঁধে ফেলা হয়। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও ছুড়ে ফেলে দেওয়া হয়। এক পর্যায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি তার গলা চেপে ধরেন। গলা চেপে ধরার পর সেই দড়ি দেখিয়ে তিনি চরম দাম্ভিকতার সঙ্গে বলতে থাকেন, দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিরাও নাকি তার পায়ের কাছে পড়ে থাকেন। তিনি আরও হুমকি দেন যে স্নিগ্ধার মতো একজন সাধারণ মেয়ে মরে গেলে তার কিছুই যায় আসে না, কারণ তিনি প্রতিদিন নাকি এভাবেই মানুষকে মাটি চাপা দিয়ে রাখেন।

মারধরের এক পর্যায়ে জীবন বাঁচাতে স্নিগ্ধা অভিযুক্তের কাছে আকুতি মিনতি করতে থাকেন। তিনি অভিযুক্তকে তার নিজের সন্তানের দোহাই দিয়ে আল্লাহর কাছে রহম করার অনুরোধ জানান। কিন্তু এতে ওই ব্যক্তির মন বিন্দুমাত্র গলেনি। উল্টো তিনি অভিনেত্রীর চুল সজোরে টেনে ধরে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় বেধড়ক লাথি মারতে শুরু করেন। অমানুষিক এই প্রহারের কারণে তার সারা শরীর ফুলে কালশিটে পড়ে গেছে। নিজের শরীরের আঘাতের চিহ্ন দেখিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে এই অভিনেত্রী বলেন, তার বাবা মা তাকে জীবনে কখনো সামান্য একটি টোকা পর্যন্ত দেননি, সেখানে তাকে এমন পৈশাচিকভাবে চুল ধরে লাথি মারা হয়েছে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, তারা হয়তো আর্থিকভাবে অতটা প্রভাবশালী নন, কিন্তু নিজের বাবা মায়ের কাছে তিনি একজন রাজকন্যার মতোই আদরের।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

বিতর্কিত ফাইনালের পর অবসরে রেফারি স্লাভকো ভিনচিচ

বিজ্ঞাপনের চুক্তির প্রলোভনে ডেকে নায়িকাকে নির্যাতনের অভিযোগ

আপডেট সময় : ০১:১৭:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

বিজ্ঞাপনের বিশাল চুক্তির ফাঁদে ফেলে এক উদীয়মান নায়িকাকে ডেকে নিয়ে পৈশাচিক কায়দায় শারীরিক নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে আশিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। প্রেশার কুকার খ্যাত জনপ্রিয় নায়িকা স্নিগ্ধা চৌধুরী এই অভিযোগ তুলেছেন। এই ভয়াবহ ঘটনার পর গত শুক্রবার চব্বিশে জুলাই রাতে ভুক্তভোগী অভিনেত্রী নিজেই বাদী হয়ে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে রাজধানীর খিলক্ষেত থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। পুরো ঘটনাটি বিনোদন অঙ্গনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

ঘটনার লোমহর্ষক বর্ণনা দিতে গিয়ে ভুক্তভোগী নায়িকা স্নিগ্ধা চৌধুরী জানান, একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের এক বছরের ব্র্যান্ড এনডোর্সমেন্ট বা শুভেচ্ছাদূত হিসেবে কাজ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল তাকে। সেই চুক্তির বিষয়ে চূড়ান্ত কথা বলার জন্যই ইমন নামের পরিচিত এক ব্যক্তি তাকে আশিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যানের নিজস্ব কার্যালয়ে নিয়ে যান। প্রাথমিক আলোচনার সময় নায়িকার সঙ্গে তার মা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু কথাবার্তার এক পর্যায়ে তার মা সেখান থেকে চলে গেলে হঠাৎ করেই সেখানকার সম্পূর্ণ পরিবেশ বদলে যায় এবং শুরু হয় এক অপ্রত্যাশিত ও ভয়ংকর পরিস্থিতি।

ভুক্তভোগী এই অভিনেত্রীর দাবি, আশিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান তাকে সেখানে সম্পূর্ণ অন্য একজন নারী ভেবে বসেন। জেবা তাকিয়া নামের ওই নারীর সঙ্গে তাকে গুলিয়ে ফেলে চেয়ারম্যান হঠাৎ করেই চরম ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলেও সঙ্গে থাকা ইমন নামক ব্যক্তিটি কোনো প্রতিবাদ তো করেননি, বরং তিনি উল্টো ইশারায় স্নিগ্ধাকে ওই জেবা তাকিয়া পরিচয়টি মেনে নেওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকেন। স্নিগ্ধা পরে জানতে পারেন, জেবা তাকিয়া নামের ওই নারী নাকি আশিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যানের সঙ্গে বড় ধরনের কোনো প্রতারণা করে বিপুল অঙ্কের টাকা আত্মসাৎ করে পালিয়েছেন। সেই জমানো ক্ষোভের বশবর্তী হয়েই নির্দোষ স্নিগ্ধার ওপর এই বর্বরোচিত শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়।

নির্যাতনের সেই ভয়াবহ মুহূর্তের কথা স্মরণ করে শিউরে ওঠেন স্নিগ্ধা। তিনি বলেন, ওই বদ্ধ ঘরে তাকে সম্পূর্ণ একা করে দেওয়া হয়। চেয়ারম্যান তার নির্দেশে ঘরে থাকা অন্য সব লোকজনকে বের করে দেন। এরপর জোরপূর্বক স্নিগ্ধার হাত এবং পা দড়ি দিয়ে শক্ত করে বেঁধে ফেলা হয়। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও ছুড়ে ফেলে দেওয়া হয়। এক পর্যায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি তার গলা চেপে ধরেন। গলা চেপে ধরার পর সেই দড়ি দেখিয়ে তিনি চরম দাম্ভিকতার সঙ্গে বলতে থাকেন, দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিরাও নাকি তার পায়ের কাছে পড়ে থাকেন। তিনি আরও হুমকি দেন যে স্নিগ্ধার মতো একজন সাধারণ মেয়ে মরে গেলে তার কিছুই যায় আসে না, কারণ তিনি প্রতিদিন নাকি এভাবেই মানুষকে মাটি চাপা দিয়ে রাখেন।

মারধরের এক পর্যায়ে জীবন বাঁচাতে স্নিগ্ধা অভিযুক্তের কাছে আকুতি মিনতি করতে থাকেন। তিনি অভিযুক্তকে তার নিজের সন্তানের দোহাই দিয়ে আল্লাহর কাছে রহম করার অনুরোধ জানান। কিন্তু এতে ওই ব্যক্তির মন বিন্দুমাত্র গলেনি। উল্টো তিনি অভিনেত্রীর চুল সজোরে টেনে ধরে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় বেধড়ক লাথি মারতে শুরু করেন। অমানুষিক এই প্রহারের কারণে তার সারা শরীর ফুলে কালশিটে পড়ে গেছে। নিজের শরীরের আঘাতের চিহ্ন দেখিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে এই অভিনেত্রী বলেন, তার বাবা মা তাকে জীবনে কখনো সামান্য একটি টোকা পর্যন্ত দেননি, সেখানে তাকে এমন পৈশাচিকভাবে চুল ধরে লাথি মারা হয়েছে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, তারা হয়তো আর্থিকভাবে অতটা প্রভাবশালী নন, কিন্তু নিজের বাবা মায়ের কাছে তিনি একজন রাজকন্যার মতোই আদরের।