হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী একটি ট্যাংকারে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে, যা সমুদ্র মাইনের আঘাতে সংঘটিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইরানের কর্মকর্তারা এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন এবং তাদের দাবি অনুযায়ী, জাহাজটি নির্ধারিত নৌ-পথ অনুসরণ না করার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।
এই ঘটনার পর ইরান এক কঠোর সতর্কবার্তা জারি করেছে। তারা জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে ইচ্ছুক যেকোনো জাহাজকে অবশ্যই ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পূর্ণ সমন্বয় বজায় রেখে চলতে হবে। অন্যথায়, সেসব জাহাজের সুরক্ষার কোনো গ্যারান্টি ইরান দেবে না। টানা দুই দিন শান্ত পরিস্থিতি বজায় থাকার পর নতুন করে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটল। বিগত দুই দিনে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের কোনো হামলা ছিল না এবং ইরানের পক্ষ থেকেও কোনো পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।
উল্লেখ্য, গত ২৬ জুন ইরান ঘোষণা দিয়েছিল যে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল কেবল তেহরান নির্ধারিত নৌপথ ব্যবহার করেই করা যাবে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ওয়াশিংটন ইরানে হামলা চালানোর পর তেহরানও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা ও সরঞ্জামকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালানোর দাবি করেছে। গত ৮ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে আগের মাসে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বাতিল ঘোষণা করেন, এই অভিযোগ করে যে তেহরান ওই চুক্তি লঙ্ঘন করেছে।
এই ঘোষণার আগে হরমুজ প্রণালিতে তিনটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার ঘটনা এবং কৌশলগত এই সমুদ্রপথে নৌ-চলাচলের নিয়ম নিয়ে নতুন করে মতবিরোধ দেখা দেয়। যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে অবাধ নৌ-চলাচলের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। অন্যদিকে, ইরানের দাবি, জাহাজগুলোকে তাদের উপকূলঘেঁষা নির্ধারিত নৌপথ ব্যবহার করে এবং তেহরানের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত নৌ-নির্দেশনা ব্যবস্থার অধীনে চলাচল করতে হবে।
রিপোর্টারের নাম 




















