ঢাকা ১১:৩৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

বিশ্বকাপের পর কেড়ে নিল মন: ছোট্ট কেইনের ভাইরাল মুহূর্তে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন

বিশ্বকাপের ফাইনাল শেষ হওয়ার পরও গ্যালারির আলো নিভে যায়নি। লাল-হলুদ উৎসবে মেতে ছিল নিউইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়াম। কেউ ট্রফি নিয়ে ছবি তুলছেন, কেউ প্রিয়জনদের জড়িয়ে ধরে কাঁদছেন, কেউ আবার স্প্যানিশ সুর ছড়িয়ে দিচ্ছেন মাঠে। এই হাজারো মুহূর্তের ভিড়েও ক্যামেরার লেন্স বারবার ঘুরে যাচ্ছিল এক শিশুর দিকে। ফাইনালের কোনো অংশ না হয়েও সে হয়ে উঠেছিল সবচেয়ে বড় চরিত্র। পুরো উদযাপনের প্রাণ হয়ে উঠেছিল ছোট্ট কেইন ইয়ামাল, যার বড় ভাই বিশ্বজয়ী লামিনে ইয়ামাল। ভাইয়ের বিশ্বকাপ জয়ের অভিনন্দন জানাতে এসেছিল সে, কিন্তু মাঠ ছাড়ল বিশ্বকাপজয়ী দলের সবচেয়ে আলোচিত ক্ষুদে তারকা হয়ে।

বিশ্বকাপ ফাইনালের নায়ক ছিলেন ফেরান তোরেস, গোল্ডেন বল জিতেছেন রদ্রি, আর ইতিহাস গড়েছেন লামিনে ইয়ামাল। কিন্তু স্টেডিয়াম ছাড়িয়ে কোটি কোটি মানুষ যখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফিরলেন, তখন বারবার তাদের চোখে পড়ছিল কেইন ইয়ামালের ছবি। তার হাতে বল ছিল না, পায়ে বুট ছিল না, গলায় ছিল না কোনো পদক। তবুও যেন বিশ্বকাপজুড়ে সেই ছিল স্পেনের সবচেয়ে নির্ভার, সবচেয়ে নির্মল মুখ। মাঠে ৯০ মিনিট ধরে চলা উত্তেজনার রেশ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই গলে গিয়েছিল ছোট্ট এক শিশুর হাসিতে।

ফাইনাল শেষ হতেই লাল জার্সি গায়ে মাঠে দৌড়ে ঢুকে পড়ে কেইন। দুই হাত ছড়িয়ে ছুটে যায় বড় ভাই লামিনের দিকে। ইয়ামালও নিজেকে আর আটকে রাখতে পারেননি। ছোট ভাইকে কোলে তুলে এমনভাবে জড়িয়ে ধরেছিলেন, যেন বিশ্বকাপের ট্রফির চেয়েও মূল্যবান কিছু ফিরে পেয়েছেন তিনি। সেই ভিডিও মুহূর্তেই কোটি মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যায়। কিন্তু এ তো কেবল শুরু।

একটু পরই দেখা গেল, গোলপোস্টের জালের একটি টুকরো শক্ত করে ধরে রেখেছে কেইন। যেন সেটাই তার কাছে সবচেয়ে বড় স্মারক। এরপর কখনো পুলিশের সদস্যদের সঙ্গে খুনসুটি, কখনো ইয়ামালের সতীর্থদের সন্তানদের সঙ্গে ছোট্ট ফুটবল ম্যাচ, কখনো নিকো উইলিয়ামসকে গোলরক্ষক বানিয়ে গোল করার অভিনয়; মাঠের প্রতিটি কোণকে সে নিজের খেলাঘরে পরিণত করেছিল। আর যখন বিশ্বকাপ ট্রফির কাছে পৌঁছাল, তখন সবার চোখ কপালে। ছোট্ট জিহ্বা ছুঁইয়ে ট্রফিকে চুমু দিল, তারপর দুহাত দিয়ে জড়িয়ে ধরে এমনভাবে ছবি তুলল, যেন পৃথিবীর সবচেয়ে স্বাভাবিক ঘটনাই এটি। সেই ছবি কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বিশ্বজুড়ে লাখোবার শেয়ার হয়।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমও বুঝে গেল—এই বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় ভাইরাল চরিত্র কোনো ফুটবলার নয়, তিন বছরের ছোট্ট কেইন। পিপল ম্যাগাজিন তাদের প্রতিবেদনে লিখেছে, এই বিশ্বকাপের সবচেয়ে আলোচিত মুখ ছিলেন এক শিশু…

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জাহাঙ্গীর হত্যা: কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের এমপি প্রশাসনকে ১৫ দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছেন

বিশ্বকাপের পর কেড়ে নিল মন: ছোট্ট কেইনের ভাইরাল মুহূর্তে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন

আপডেট সময় : ০৯:১৩:৪৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

বিশ্বকাপের ফাইনাল শেষ হওয়ার পরও গ্যালারির আলো নিভে যায়নি। লাল-হলুদ উৎসবে মেতে ছিল নিউইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়াম। কেউ ট্রফি নিয়ে ছবি তুলছেন, কেউ প্রিয়জনদের জড়িয়ে ধরে কাঁদছেন, কেউ আবার স্প্যানিশ সুর ছড়িয়ে দিচ্ছেন মাঠে। এই হাজারো মুহূর্তের ভিড়েও ক্যামেরার লেন্স বারবার ঘুরে যাচ্ছিল এক শিশুর দিকে। ফাইনালের কোনো অংশ না হয়েও সে হয়ে উঠেছিল সবচেয়ে বড় চরিত্র। পুরো উদযাপনের প্রাণ হয়ে উঠেছিল ছোট্ট কেইন ইয়ামাল, যার বড় ভাই বিশ্বজয়ী লামিনে ইয়ামাল। ভাইয়ের বিশ্বকাপ জয়ের অভিনন্দন জানাতে এসেছিল সে, কিন্তু মাঠ ছাড়ল বিশ্বকাপজয়ী দলের সবচেয়ে আলোচিত ক্ষুদে তারকা হয়ে।

বিশ্বকাপ ফাইনালের নায়ক ছিলেন ফেরান তোরেস, গোল্ডেন বল জিতেছেন রদ্রি, আর ইতিহাস গড়েছেন লামিনে ইয়ামাল। কিন্তু স্টেডিয়াম ছাড়িয়ে কোটি কোটি মানুষ যখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফিরলেন, তখন বারবার তাদের চোখে পড়ছিল কেইন ইয়ামালের ছবি। তার হাতে বল ছিল না, পায়ে বুট ছিল না, গলায় ছিল না কোনো পদক। তবুও যেন বিশ্বকাপজুড়ে সেই ছিল স্পেনের সবচেয়ে নির্ভার, সবচেয়ে নির্মল মুখ। মাঠে ৯০ মিনিট ধরে চলা উত্তেজনার রেশ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই গলে গিয়েছিল ছোট্ট এক শিশুর হাসিতে।

ফাইনাল শেষ হতেই লাল জার্সি গায়ে মাঠে দৌড়ে ঢুকে পড়ে কেইন। দুই হাত ছড়িয়ে ছুটে যায় বড় ভাই লামিনের দিকে। ইয়ামালও নিজেকে আর আটকে রাখতে পারেননি। ছোট ভাইকে কোলে তুলে এমনভাবে জড়িয়ে ধরেছিলেন, যেন বিশ্বকাপের ট্রফির চেয়েও মূল্যবান কিছু ফিরে পেয়েছেন তিনি। সেই ভিডিও মুহূর্তেই কোটি মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যায়। কিন্তু এ তো কেবল শুরু।

একটু পরই দেখা গেল, গোলপোস্টের জালের একটি টুকরো শক্ত করে ধরে রেখেছে কেইন। যেন সেটাই তার কাছে সবচেয়ে বড় স্মারক। এরপর কখনো পুলিশের সদস্যদের সঙ্গে খুনসুটি, কখনো ইয়ামালের সতীর্থদের সন্তানদের সঙ্গে ছোট্ট ফুটবল ম্যাচ, কখনো নিকো উইলিয়ামসকে গোলরক্ষক বানিয়ে গোল করার অভিনয়; মাঠের প্রতিটি কোণকে সে নিজের খেলাঘরে পরিণত করেছিল। আর যখন বিশ্বকাপ ট্রফির কাছে পৌঁছাল, তখন সবার চোখ কপালে। ছোট্ট জিহ্বা ছুঁইয়ে ট্রফিকে চুমু দিল, তারপর দুহাত দিয়ে জড়িয়ে ধরে এমনভাবে ছবি তুলল, যেন পৃথিবীর সবচেয়ে স্বাভাবিক ঘটনাই এটি। সেই ছবি কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বিশ্বজুড়ে লাখোবার শেয়ার হয়।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমও বুঝে গেল—এই বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় ভাইরাল চরিত্র কোনো ফুটবলার নয়, তিন বছরের ছোট্ট কেইন। পিপল ম্যাগাজিন তাদের প্রতিবেদনে লিখেছে, এই বিশ্বকাপের সবচেয়ে আলোচিত মুখ ছিলেন এক শিশু…