ঢাকা ১২:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

পাকিস্তানে ভারী বর্ষণে বন্যা, ৪০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা প্লাবিত; নিহত ৭

পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে গত ২৪ ঘণ্টার টানা ভারী বর্ষণ ও বন্যাজনিত দুর্ঘটনায় অন্তত সাতজন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছেন ২০ জন, যাদের মধ্যে দুই শিশুও রয়েছে। এছাড়া প্রবল বর্ষণে বহু বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং গবাদিপশুও মারা গেছে।

প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (পিডিএমএ) জানিয়েছে, শনিবার দুপুর ২টা পর্যন্ত প্রদেশজুড়ে বৃষ্টিজনিত ১৪টি দুর্ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। এসব ঘটনার মধ্যে রয়েছে ভবন ও ঘরের ছাদ ধসে প্রাণহানি, পানিতে ডুবে মৃত্যু, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আহত হওয়া, সাতটি বাড়ির ছাদ ধসে পড়া এবং গবাদিপশুর মৃত্যু। লাহোরে চারটি ছাদ ধসের ঘটনায় এক পুরুষ, এক নারী ও এক শিশুসহ তিনজন নিহত এবং আরো পাঁচজন আহত হয়েছেন। ঘটনাগুলো ববি প্লাজা, গাড়ি শাহু রেলওয়ে কলোনি, সাগিয়ান পিন্দ ও কাহনা এলাকায় ঘটেছে।

কাসুর জেলার দেপালপুর রোডের আদ্দা ধিং শাহ এলাকায় একটি বাড়ির ছাদ ধসে এক পুরুষ ও এক শিশুসহ দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এক নারী ও দুই শিশুসহ আরো তিনজন আহত হয়েছেন। ফয়সালাবাদে ভারী বৃষ্টির কারণে একটি বাড়ির ছাদ ধসে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে গুজরানওয়ালার পাঠান কলোনির কাছে বৃষ্টির পানিতে ডুবে এক শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে। বাহাওয়ালনগরে একটি বাড়ির ছাদ ধসে এক পুরুষ ও দুই শিশুসহ তিনজন আহত হয়েছেন। একই জেলায় বৃষ্টির সময় বৈদ্যুতিক খুঁটির সংস্পর্শে এসে আরো এক ব্যক্তি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আহত হয়েছেন।

নারোয়ালের সাইর বাজওয়া গ্রামে ছাদ ধসের ঘটনায় দুই নারী আহত হয়েছেন। সিয়ালকোটের দারমা ওয়ালা এলাকায় আরেকটি ছাদ ধসে আহত হয়েছেন এক নারী। নানকানা সাহিব ও শেখুপুরায় পৃথক দুটি ছাদ ধসের ঘটনায় তিন নারী আহত হয়েছেন। এছাড়া ওকারায় বৃষ্টির কারণে একটি পশুর খামারের ছাউনি ধসে পড়লে দুই ব্যক্তি আহত হয়েছেন।

পিডিএমএ সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে মহাপরিচালক উমর আব্বাস বলেছেন, চলমান মৌসুমি বৃষ্টিপাত সত্ত্বেও পাঞ্জাবে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। রাভি ও শতদ্রুসহ প্রধান নদীগুলোর পানির স্তর এখনও স্বাভাবিক রয়েছে। তিনি জানান, চলতি মৌসুমে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে গুজরানওয়ালা ও রাওয়ালপিন্ডি বিভাগে, বিশেষ করে নারোয়াল, ঝেলম ও গুজরাট জেলায়। উমর আব্বাস আরো বলেন, নারোয়ালের ডেক নালার একটি ভাঙন এবং শেখুপুরার একটি বাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত মেরামত করা হয়েছে, ফলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে কোটি টাকার ব্যাংক হিসাব বাড়ল ৭ হাজার

পাকিস্তানে ভারী বর্ষণে বন্যা, ৪০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা প্লাবিত; নিহত ৭

আপডেট সময় : ১০:১৮:৪৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে গত ২৪ ঘণ্টার টানা ভারী বর্ষণ ও বন্যাজনিত দুর্ঘটনায় অন্তত সাতজন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছেন ২০ জন, যাদের মধ্যে দুই শিশুও রয়েছে। এছাড়া প্রবল বর্ষণে বহু বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং গবাদিপশুও মারা গেছে।

প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (পিডিএমএ) জানিয়েছে, শনিবার দুপুর ২টা পর্যন্ত প্রদেশজুড়ে বৃষ্টিজনিত ১৪টি দুর্ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। এসব ঘটনার মধ্যে রয়েছে ভবন ও ঘরের ছাদ ধসে প্রাণহানি, পানিতে ডুবে মৃত্যু, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আহত হওয়া, সাতটি বাড়ির ছাদ ধসে পড়া এবং গবাদিপশুর মৃত্যু। লাহোরে চারটি ছাদ ধসের ঘটনায় এক পুরুষ, এক নারী ও এক শিশুসহ তিনজন নিহত এবং আরো পাঁচজন আহত হয়েছেন। ঘটনাগুলো ববি প্লাজা, গাড়ি শাহু রেলওয়ে কলোনি, সাগিয়ান পিন্দ ও কাহনা এলাকায় ঘটেছে।

কাসুর জেলার দেপালপুর রোডের আদ্দা ধিং শাহ এলাকায় একটি বাড়ির ছাদ ধসে এক পুরুষ ও এক শিশুসহ দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এক নারী ও দুই শিশুসহ আরো তিনজন আহত হয়েছেন। ফয়সালাবাদে ভারী বৃষ্টির কারণে একটি বাড়ির ছাদ ধসে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে গুজরানওয়ালার পাঠান কলোনির কাছে বৃষ্টির পানিতে ডুবে এক শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে। বাহাওয়ালনগরে একটি বাড়ির ছাদ ধসে এক পুরুষ ও দুই শিশুসহ তিনজন আহত হয়েছেন। একই জেলায় বৃষ্টির সময় বৈদ্যুতিক খুঁটির সংস্পর্শে এসে আরো এক ব্যক্তি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আহত হয়েছেন।

নারোয়ালের সাইর বাজওয়া গ্রামে ছাদ ধসের ঘটনায় দুই নারী আহত হয়েছেন। সিয়ালকোটের দারমা ওয়ালা এলাকায় আরেকটি ছাদ ধসে আহত হয়েছেন এক নারী। নানকানা সাহিব ও শেখুপুরায় পৃথক দুটি ছাদ ধসের ঘটনায় তিন নারী আহত হয়েছেন। এছাড়া ওকারায় বৃষ্টির কারণে একটি পশুর খামারের ছাউনি ধসে পড়লে দুই ব্যক্তি আহত হয়েছেন।

পিডিএমএ সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে মহাপরিচালক উমর আব্বাস বলেছেন, চলমান মৌসুমি বৃষ্টিপাত সত্ত্বেও পাঞ্জাবে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। রাভি ও শতদ্রুসহ প্রধান নদীগুলোর পানির স্তর এখনও স্বাভাবিক রয়েছে। তিনি জানান, চলতি মৌসুমে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে গুজরানওয়ালা ও রাওয়ালপিন্ডি বিভাগে, বিশেষ করে নারোয়াল, ঝেলম ও গুজরাট জেলায়। উমর আব্বাস আরো বলেন, নারোয়ালের ডেক নালার একটি ভাঙন এবং শেখুপুরার একটি বাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত মেরামত করা হয়েছে, ফলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।