বিশ্বকাপ শুধু মাঠের ফুটবলীয় লড়াইয়ের জন্যই নয়, এটি ইতিহাস সৃষ্টিকারী বিনোদনমূলক আয়োজন এবং দাতব্য উদ্যোগের জন্যও নতুন মাইলফলক স্থাপন করেছে। বিশ্বজুড়ে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা ও খেলাধুলার প্রসারে ফিফা এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘গ্লোবাল সিটিজেন’-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত একটি বিশেষ দাতব্য নিলামে স্থান পেয়েছে বিশ্বকাপের স্মরণীয় নানা স্মারক। আন্তর্জাতিক নিলামকারী প্রতিষ্ঠান ক্রিস্টিজের আয়োজনে ‘ওয়ান গোল : অ্যান অকশন টু বেনিফিট দ্য ফিফা গ্লোবাল সিটিজেন এডুকেশন ফান্ড’ শীর্ষক এই নিলামে ফুটবল তারকাদের পেছনে ফেলে চমক দেখিয়েছেন দক্ষিণ কোরীয় পপ ব্যান্ড বিটিএস-এর তারকা জিমিন।
বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আয়োজিত হাফটাইম শো-তে পারফর্ম করার সময় বিটিএস তারকা জিমিন যে পোশাকটি পরেছিলেন, সংগ্রাহকদের কাছে সেটি এখন সবচেয়ে চাহিদাপূর্ণ। নিলামের শেষ সময় ২৯ জুলাইয়ের বেশ আগেই জিমিনের পরা সেই পোশাকের সর্বোচ্চ দর উঠেছে ১৪ হাজার মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৭ লাখ ৩০ হাজার টাকা। অন্যদিকে, বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসির অটোগ্রাফযুক্ত জার্সি এবং হাফটাইম শো-তে পপ সম্রাজ্ঞী ম্যাডোনার ব্যবহৃত গ্লাভসের সম্মিলিত দর উঠেছে ৬,০০০ মার্কিন ডলার (প্রায় ৭ লাখ ৪১ হাজার টাকা)। অর্থাৎ, বিশ্ব ফুটবলের মহাতারকা মেসির স্মারকের চেয়ে জিমিনের পোশাকের দাম উঠেছে অর্ধেকেরও বেশি!
চলতি বছরের ২৯ জুলাই পর্যন্ত চলমান এই বিশেষ নিলামে বিশ্বকাপের ৪০টিরও বেশি ঐতিহাসিক স্মারক তোলা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ফাইনালের বল, যা স্পেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার রোমাঞ্চকর ফাইনাল খেলায় ব্যবহৃত হয়েছিল। এছাড়া হাফটাইম শো-তে শাকিরার পরা পোশাক, ম্যাডোনার অনুষঙ্গ এবং বিটিএস-এর অন্য সদস্যদের ব্যবহৃত স্মৃতিচিহ্ন এবং বিভিন্ন জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের অটোগ্রাফ সংবলিত জার্সিও নিলামে স্থান পেয়েছে।
বিশ্বকাপের এই নিলাম থেকে সংগৃহীত অর্থ ফিফা ও গ্লোবাল সিটিজেনের ‘এডুকেশন ফান্ডে’ জমা দেওয়া হবে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এই আয়োজন থেকে প্রায় ১০ কোটি মার্কিন ডলার সংগৃহীত হবে। সংগৃহীত সম্পূর্ণ অর্থ বিশ্বজুড়ে পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের শিশুদের গুণগত মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করতে এবং খেলাধুলার সুযোগ সম্প্রসারণে ব্যয় করা হবে। এর আগে ক্রিস্টিজ তাদের ঐতিহাসিক নিলামে ৪০৪টি স্মারক বিক্রি করে ১০ কোটি ৫৩ লাখ ডলার তহবিল সংগ্রহ করেছিল। এই নতুন দাতব্য উদ্যোগ খেলাধুলা ও সংগীতের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে বিশ্বজুড়ে সামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 
























