চট্টগ্রামের ৮ম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে শুনানিতে পোশাক নিয়ে বিচারকের কাছ থেকে ‘অপমানজনক’ আচরণের শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন এক নারী আইনজীবী। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার পোস্ট ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। তবে জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ঘটনাটিকে ‘ভুল বোঝাবুঝি’ উল্লেখ করে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আশা প্রকাশ করেছেন।
অভিযোগকারী আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাজেদা বেগম সোনিয়া বৃহস্পতিবার আদালতে এই ঘটনার সম্মুখীন হন বলে তার প্রাথমিক পোস্টে উল্লেখ করেন। পরবর্তীতে, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হলে শনিবার তিনি আরেকটি পোস্ট দিয়ে আগের পোস্টটি সরিয়ে নেওয়ার কথা জানান।
ফেসবুক পোস্টে সোনিয়া লিখেছেন, একজন আইনজীবী হিসেবে আদালতে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বিচারকের কাছ থেকে তার পোশাক হিজাব ও নিকাব নিয়ে এমন আচরণ ও মন্তব্য পেয়েছেন, যা অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপমানজনক। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, তিনি একজন আইনজীবীর পাশাপাশি একজন মুসলিম নারী এবং ধর্মীয় বিধান মেনে মার্জিত ও পেশাদার পোশাকে এজলাসে দাঁড়ানো কোনো অপরাধ হতে পারে না। তার ভাষ্যমতে, আদালত ন্যায়বিচার ও মর্যাদা রক্ষার স্থান; সেখানে একজন আইনজীবীকে তার পোশাকের কারণে বৈষম্যমূলক আচরণের মুখোমুখি হওয়া কাম্য নয়। পোশাক কখনো একজনের মেধা, পেশাদারিত্ব বা আদালতের প্রতি শ্রদ্ধাবোধের পরিমাপক হতে পারে না।
তবে, শনিবারের পোস্টে সাজেদা বেগম সোনিয়া জানান যে, ঘটনাটি নিয়ে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মঈন উদ্দিনসহ বারের নেতারা উদ্যোগ নিয়েছেন। তারা আগামী রোববার সংশ্লিষ্ট বিচারকের সঙ্গে বসে আলোচনা করবেন এবং সম্মানজনক সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। এ কারণে তিনি আগের পোস্টটি সরিয়ে নিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, আইনজীবীদের মর্যাদা ও ধর্মীয় স্বাধীনতার বিষয়টি যথাযথভাবে নিশ্চিত করা হবে। এ বিষয়ে অ্যাডভোকেট সাজেদা বেগম সোনিয়া মন্তব্য করতে রাজি হননি, তিনি সোমবার পর্যন্ত অপেক্ষা করার কথা জানিয়েছেন। অন্যদিকে, চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মঈন উদ্দিন বলেন, এটি একজন আইনজীবীর সঙ্গে ভুল–বোঝাবুঝির ঘটনা। তারা সোমবার সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে বসে আলোচনা করে সমাধান করবেন বলে আশা করছেন।
রিপোর্টারের নাম 
























