আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, বর্তমান সরকারের আমলে বিচারবহির্ভূত হত্যা প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। শনিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’ আয়োজিত এক পরামর্শ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী জানান, ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত রাজনৈতিক প্রতিহিংসাবশত দায়ের করা মামলাগুলো প্রত্যাহারের জন্য সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পর্যায়ে রয়েছে। তবে মামলা প্রত্যাহারের ক্ষেত্রে তিনি দুটি স্পষ্ট ব্যতিক্রমের কথা উল্লেখ করেন: ধর্ষণের মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করা হলেও তা প্রত্যাহারের আওতায় আনা হবে না। অন্যদিকে, মাদকের মামলাগুলো বিরোধীদের হয়রানির উদ্দেশ্যে দায়ের করা হয়েছিল কি না, তা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
মানবাধিকার কমিশন আইন এবং গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, আইন দুটির চূড়ান্ত খসড়া প্রণয়নের আগে সুশীল সমাজ, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে তিন দফা মতবিনিময় সম্পন্ন হয়েছে। বিল দুটি ইতোমধ্যে মন্ত্রিসভা কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে এবং আগামী মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদনের পর দ্রুত জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা কেবল কাগজে-কলমে নিশ্চিত করা সম্ভব নয়; স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় যোগ্য, দক্ষ ও সৎ বিচারক নিয়োগের মাধ্যমেই প্রকৃত স্বাধীন বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ‘আমার দেশ’ পত্রিকার সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান, মানবাধিকারকর্মী আদিলুর রহমান খান এবং বিএনপির অসংখ্য নেতা-কর্মীকে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলায় গ্রেপ্তারের ঘটনায় বিচার বিভাগের নীরবতার তীব্র সমালোচনা করেন।
তিনি পুনরুল্লেখ করেন যে, বর্তমান সরকারের আমলে বিচারবহির্ভূত হত্যা প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে এবং গুমের বিষয়ে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। পাশাপাশি আধিপত্যবাদ, সাম্রাজ্যবাদ, নৈরাজ্যবাদ ও মৌলবাদের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। বক্তব্যের শেষাংশে আইনমন্ত্রী সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নে কিছুটা সময় চেয়ে বলেন, “আমরা ভুল করলে আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেবেন। আমরা তা সাদরে গ্রহণ করব।” তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, “আধিপত্যবাদ, সাম্রাজ্যবাদ, নৈরাজ্যবাদ ও মৌলবাদের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান অব্যাহত থাকবে।”
রিপোর্টারের নাম 
























