ঢাকা ১০:০৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

ইয়েমেনে হুতিদের সামরিক সহায়তা দিচ্ছে ইরান: নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সরবরাহ, প্রশিক্ষণের অভিযোগ

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের কাছে ইরান ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) কমান্ডার, সামরিক উপদেষ্টা এবং মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সংক্রান্ত সরঞ্জাম পাঠিয়েছে। গত ১৩ জুলাই তেহরান থেকে ‘মাহান এয়ার’-এর একটি বিশেষ ফ্লাইটে এই সামরিক সরঞ্জাম ও আইআরজিসি সদস্যরা ইয়েমেনে পৌঁছান বলে জানা গেছে। বিষয়টি সরাসরি অবগত আছেন এমন চারটি সূত্র এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।

সূত্রগুলোর মধ্যে রয়েছেন দুজন ইরানি কর্মকর্তা, ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের তথ্যমন্ত্রী এবং একজন আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিশ্লেষক। তাদের ভাষ্যমতে, লোহিত সাগরে হুতিদের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যেই তেহরান এই পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মাধ্যমে ইরান তার মিত্র হুতিদের শক্তিশালী করে লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক নৌপথে আরও কার্যকরভাবে চাপ সৃষ্টি করতে চাইছে বলে ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

ইরানের দুজন কর্মকর্তা জানান, বিমানটিতে ১০ থেকে ২১ জন আইআরজিসি সদস্য ছিলেন, যাদের মধ্যে জ্যেষ্ঠ কমান্ডাররাও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। বিমানটির মূল গন্তব্য ছিল হুতি-নিয়ন্ত্রিত রাজধানী সানা। তবে, সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারের হামলায় সানা বিমানবন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ফ্লাইটটির পথ পরিবর্তন করে হুতি-নিয়ন্ত্রিত হোদেইদা বন্দরে অবতরণ করানো হয়।

একটি সূত্র জানিয়েছে, নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা পরিচালনা বিষয়ে হুতিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং তাদের সামরিক অভিযানে সহায়তা করাই এই কমান্ডারদের মূল উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে, হুতিদের কার্যক্রমে অর্থায়নের জন্য বিমানটিতে করে স্বর্ণও পাঠানো হয়েছে বলে ওই সূত্র দাবি করেছে।

ইরান ও হুতিদের অস্বীকার:

এ বিষয়ে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। তবে, তেহরান দীর্ঘদিন ধরেই হুতিদের সামরিক ও ক্ষেপণাস্ত্র সহায়তার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

ওই বিমানের যাত্রী এবং হুতিদের সংবাদমাধ্যম-বিষয়ক কর্মকর্তা আবদেল রহমান আল-আহনোমি অভিযোগটি অস্বীকার করেছেন। তিনি সামরিক বিশেষজ্ঞ পাঠানোর তথ্যকে ‘মিথ্যা ও মনগড়া’ বলে দাবি করে বলেন, বিমানটিতে শুধু বেসামরিক যাত্রীরাই ছিলেন। হুতিরা বরাবরই ইরানের ‘প্রক্সি’ বা ছায়া বাহিনী হিসেবে কাজ করার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে এবং দাবি করে যে তারা নিজেরাই নিজেদের অস্ত্র তৈরি করে। অন্যদিকে, ইয়েমেনের সৌদি-সমর্থিত সরকারের তথ্যমন্ত্রী মুয়াম্মার আল-ইরিয়ানি বলেছেন, গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী আইআরজিসির সদস্য ও সামরিক সরঞ্জাম ইয়েমেনে আনা হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইয়েমেনের বন্দরে সৌদি হামলা: হুতিদের কঠোর জবাবের হুঁশিয়ারি

ইয়েমেনে হুতিদের সামরিক সহায়তা দিচ্ছে ইরান: নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সরবরাহ, প্রশিক্ষণের অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৮:০৩:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের কাছে ইরান ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) কমান্ডার, সামরিক উপদেষ্টা এবং মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সংক্রান্ত সরঞ্জাম পাঠিয়েছে। গত ১৩ জুলাই তেহরান থেকে ‘মাহান এয়ার’-এর একটি বিশেষ ফ্লাইটে এই সামরিক সরঞ্জাম ও আইআরজিসি সদস্যরা ইয়েমেনে পৌঁছান বলে জানা গেছে। বিষয়টি সরাসরি অবগত আছেন এমন চারটি সূত্র এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।

সূত্রগুলোর মধ্যে রয়েছেন দুজন ইরানি কর্মকর্তা, ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের তথ্যমন্ত্রী এবং একজন আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিশ্লেষক। তাদের ভাষ্যমতে, লোহিত সাগরে হুতিদের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যেই তেহরান এই পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মাধ্যমে ইরান তার মিত্র হুতিদের শক্তিশালী করে লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক নৌপথে আরও কার্যকরভাবে চাপ সৃষ্টি করতে চাইছে বলে ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

ইরানের দুজন কর্মকর্তা জানান, বিমানটিতে ১০ থেকে ২১ জন আইআরজিসি সদস্য ছিলেন, যাদের মধ্যে জ্যেষ্ঠ কমান্ডাররাও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। বিমানটির মূল গন্তব্য ছিল হুতি-নিয়ন্ত্রিত রাজধানী সানা। তবে, সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারের হামলায় সানা বিমানবন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ফ্লাইটটির পথ পরিবর্তন করে হুতি-নিয়ন্ত্রিত হোদেইদা বন্দরে অবতরণ করানো হয়।

একটি সূত্র জানিয়েছে, নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা পরিচালনা বিষয়ে হুতিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং তাদের সামরিক অভিযানে সহায়তা করাই এই কমান্ডারদের মূল উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে, হুতিদের কার্যক্রমে অর্থায়নের জন্য বিমানটিতে করে স্বর্ণও পাঠানো হয়েছে বলে ওই সূত্র দাবি করেছে।

ইরান ও হুতিদের অস্বীকার:

এ বিষয়ে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। তবে, তেহরান দীর্ঘদিন ধরেই হুতিদের সামরিক ও ক্ষেপণাস্ত্র সহায়তার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

ওই বিমানের যাত্রী এবং হুতিদের সংবাদমাধ্যম-বিষয়ক কর্মকর্তা আবদেল রহমান আল-আহনোমি অভিযোগটি অস্বীকার করেছেন। তিনি সামরিক বিশেষজ্ঞ পাঠানোর তথ্যকে ‘মিথ্যা ও মনগড়া’ বলে দাবি করে বলেন, বিমানটিতে শুধু বেসামরিক যাত্রীরাই ছিলেন। হুতিরা বরাবরই ইরানের ‘প্রক্সি’ বা ছায়া বাহিনী হিসেবে কাজ করার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে এবং দাবি করে যে তারা নিজেরাই নিজেদের অস্ত্র তৈরি করে। অন্যদিকে, ইয়েমেনের সৌদি-সমর্থিত সরকারের তথ্যমন্ত্রী মুয়াম্মার আল-ইরিয়ানি বলেছেন, গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী আইআরজিসির সদস্য ও সামরিক সরঞ্জাম ইয়েমেনে আনা হয়েছে।