ঢাকা ১১:১২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

বিতর্কিত রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ, স্পিকারের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু পদত্যাগ করেছেন। তিন বছর আট মাস দায়িত্ব পালনের পর গতকাল শুক্রবার তিনি এই পদত্যাগপত্র জমা দেন। পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করার পর তিনি জানান, শারীরিক অসুস্থতার কারণে চিকিৎসকদের পরামর্শে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। গুরুতর অসুস্থতার কারণে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন চালিয়ে যাওয়া তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না বলেই তিনি পদত্যাগ করেছেন।

রাষ্ট্রপতি চুপ্পুর স্বাক্ষরযুক্ত পদত্যাগপত্রটি গতকাল বিকাল ৫টায় জাতীয় সংসদের স্পিকারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। সংবিধান অনুযায়ী, স্পিকার দেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। এরপর ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি একটি ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে বিষয়টি বিস্তারিত তুলে ধরেন। জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী স্পিকার রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ গ্রহণ করেছেন এবং সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন।

রাজনৈতিক দল এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ এবং স্পিকারের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। তবে, কিছু রাজনৈতিক দল এবং ছাত্র নেতারা পদত্যাগকারী রাষ্ট্রপতির গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি করেছেন। তারা বলেন যে, জুলাই আন্দোলনে বহু ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের পর শেখ হাসিনার পতন ও পলায়নের পর তার নিয়োগ করা জাতীয় সংসদের স্পিকার এবং প্রধান বিচারপতি পদত্যাগ করলেও দেশে থেকে যান চুপ্পু।

দেশের মানুষকে অবাক করে শেখ হাসিনা ২০২৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি তাকে দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে মনোনীত করেছিলেন। শেখ হাসিনার পলায়নের পর তার পদত্যাগের দাবিতে ছাত্র-জনতা বঙ্গভবনের সামনে বিক্ষোভও করেছিল। তবে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষার অজুহাতে তাকে বহাল রাখা হয়েছিল। দেরিতে হলেও বঙ্গভবনকে বিতর্কিত ব্যক্তির প্রভাবমুক্ত করার জন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানানো হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারানো এমদাদুলের পরিবার ন্যায়বিচার প্রত্যাশী

বিতর্কিত রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ, স্পিকারের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ

আপডেট সময় : ০৯:০৭:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু পদত্যাগ করেছেন। তিন বছর আট মাস দায়িত্ব পালনের পর গতকাল শুক্রবার তিনি এই পদত্যাগপত্র জমা দেন। পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করার পর তিনি জানান, শারীরিক অসুস্থতার কারণে চিকিৎসকদের পরামর্শে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। গুরুতর অসুস্থতার কারণে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন চালিয়ে যাওয়া তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না বলেই তিনি পদত্যাগ করেছেন।

রাষ্ট্রপতি চুপ্পুর স্বাক্ষরযুক্ত পদত্যাগপত্রটি গতকাল বিকাল ৫টায় জাতীয় সংসদের স্পিকারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। সংবিধান অনুযায়ী, স্পিকার দেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। এরপর ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি একটি ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে বিষয়টি বিস্তারিত তুলে ধরেন। জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী স্পিকার রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ গ্রহণ করেছেন এবং সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন।

রাজনৈতিক দল এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ এবং স্পিকারের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। তবে, কিছু রাজনৈতিক দল এবং ছাত্র নেতারা পদত্যাগকারী রাষ্ট্রপতির গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি করেছেন। তারা বলেন যে, জুলাই আন্দোলনে বহু ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের পর শেখ হাসিনার পতন ও পলায়নের পর তার নিয়োগ করা জাতীয় সংসদের স্পিকার এবং প্রধান বিচারপতি পদত্যাগ করলেও দেশে থেকে যান চুপ্পু।

দেশের মানুষকে অবাক করে শেখ হাসিনা ২০২৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি তাকে দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে মনোনীত করেছিলেন। শেখ হাসিনার পলায়নের পর তার পদত্যাগের দাবিতে ছাত্র-জনতা বঙ্গভবনের সামনে বিক্ষোভও করেছিল। তবে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষার অজুহাতে তাকে বহাল রাখা হয়েছিল। দেরিতে হলেও বঙ্গভবনকে বিতর্কিত ব্যক্তির প্রভাবমুক্ত করার জন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানানো হচ্ছে।