ভারতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের বিরুদ্ধে চলমান বিক্ষোভে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন এক টেলিভিশন সাংবাদিক। বিক্ষোভকারীরা তাকে সরকারপন্থী ‘গোদি মিডিয়া’ হিসেবে আখ্যায়িত করে এবং তার ওপর চড়াও হয়। এই ঘটনা ভারতে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
টাইমস নাও চ্যানেলের প্রতিবেদক দেব কোটাক ভারতের প্রশ্নফাঁস ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে চলমান বিক্ষোভের খবর সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন। ঘটনাস্থল থেকে সরাসরি সম্প্রচার শেষে ফেরার পথে একদল বিক্ষোভকারী তাকে ‘গোদি মিডিয়া’ স্লোগান দিয়ে ঘিরে ধরে। এ সময় তাকে মারধর করা হয় এবং ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। দেব কোটাক জানান, উত্তেজিত জনতা তাকে প্রায় মেরেই ফেলত এবং তারা ক্ষুব্ধ ছিল কারণ তাদের ধারণা, গণমাধ্যম তাদের বক্তব্য তুলে ধরেনি। তিনি বলেন, ‘আমাকে চড়, লাথি ও ঘুষি মারা হয়েছে। পানির বোতলও ছুড়ে মারা হয়। আমি খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম।’
সংসদ ভবনের দিকে বিক্ষোভকারীদের পদযাত্রায় পুলিশের দমন–পীড়নের পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এই ঘটনার পর থেকেই মূলধারার প্রায় সব টেলিভিশন চ্যানেলের সংবাদকর্মীরাই বিক্ষোভকারীদের ক্ষোভের মুখে পড়ছেন। অনেককে সরকারপন্থী ও ‘বিক্রি হয়ে যাওয়া’ গণমাধ্যমের প্রতিনিধি বলে কটূক্তি করা হচ্ছে। যদিও দেব কোটাক দাবি করেছেন যে তিনি উভয় পক্ষের আহত হওয়ার ঘটনাই প্রতিবেদনে তুলে ধরেছেন, তবে বিক্ষোভকারীরা তাদের বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রচারিত না হওয়ার অভিযোগ করছেন।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ভারতে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে বিতর্ক চলছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্সের (আরএসএফ) বিশ্ব সংবাদমাধ্যম স্বাধীনতা সূচকে গত এক দশকে ভারতের অবস্থানের উল্লেখযোগ্য অবনতি হয়েছে। ২০১০ সালে দেশটির অবস্থান ১২২তম থাকলেও, বর্তমানে তা ১৮০টি দেশের মধ্যে ১৫৭তম স্থানে নেমে এসেছে।
রিপোর্টারের নাম 























