রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় গ্যাস সংকট চরমে পৌঁছেছে। ছুটির দিনেও চুলা জ্বলছে না, যা নগরবাসীর জনজীবনকে অত্যন্ত দুর্বিষহ করে তুলেছে। বিশেষ করে গত সপ্তাহের বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার পর কিছু এলাকায় গ্যাস সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। দিনের পর দিন গ্যাস না থাকলেও প্রতি মাসে নিয়মিত বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে অনেকে নিরুপায় হয়ে রাজধানী ছেড়ে নিজ নিজ গ্রামের বাড়ির দিকে পাড়ি জমাচ্ছেন। তিতাস কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
জ্বালানি ও নগর উন্নয়ন বিশেষজ্ঞরা গ্যাস সংকট নিরসনে দ্রুত সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের উপর জোর দিয়েছেন। তারা বিশেষ পরিস্থিতিতে সিএনজি স্টেশন, বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং আবাসিক এলাকার জন্য গ্যাস রেশনিং নীতিমালা কার্যকর করারও পরামর্শ দিয়েছেন।
গতকাল শুক্রবার, মোহাম্মদপুরের বিভিন্ন হাউজিং এলাকার বাসিন্দারা গ্যাস সংকটের প্রতিবাদে সরব হয়েছেন। তারা হুমকি দিয়েছেন যে, নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ না পেলে তারা বিল পরিশোধ করবেন না। বছরের পর বছর ধরে গ্যাস সংকট মোহাম্মদপুরসহ বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় একটি নিত্যনৈমিত্তিক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ছুটির দিনেও সারাদিন চুলা না জ্বলায় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ব্যানারে স্থানীয়রা রাস্তায় মানববন্ধন করেছেন। তারা অভিযোগ করেছেন যে, জুমার নামাজের পর বাড়িতে রান্না হওয়ার কথা থাকলেও গ্যাসের অভাবে তা সম্ভব হচ্ছে না।
মোহাম্মদপুরের আল্লাহ করিম মসজিদের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে স্থানীয়রা বলেন, ‘মোহাম্মদপুরের গ্যাস সংকটের স্থায়ী সমাধান চাই, নিরবচ্ছিন্ন সেবা না দিয়ে বিল আদায়ের ভোগান্তি বন্ধ করতে হবে।’ তারা তিতাস কর্তৃপক্ষের গাফিলতি বন্ধ এবং অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করারও দাবি জানান।
মোহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা তাসমিমা (৩০) জানান, ‘আগে সারাদিন গ্যাস থাকত না, তবে সন্ধ্যায় বা সকালে পাওয়া যেত। এখন গভীর রাতেও গ্যাস আসে না।’ যারা সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার করেন তারা কিছুটা স্বস্তিতে থাকলেও, তিতাস গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলো চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। রান্নার জন্য এলপিজি সিলিন্ডার বা অন্য বিকল্প ব্যবস্থার জন্য তাদের অতিরিক্ত ব্যয় করতে হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গ্যাস সংকটের কারণে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সারাদিন চুলা জ্বলে না। এই সমস্যা কেবল মোহাম্মদপুরেই সীমাবদ্ধ নয়, ধানমন্ডি, কাঁঠালবাগান, রায়েরবাজার, মগবাজার, রামপুরা, পশ্চিম রামপুরা, মহানগর প্রজেক্ট, মগবাজার নয়াটোলা, মালিবাগ এবং মান্ডাসহ আরও অনেক এলাকায় একই অবস্থা বিরাজ করছে।
রিপোর্টারের নাম 




















