ঢাকা ০৯:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

কাবাডি ফেডারেশনের বিদায়ী কমিটির দায়িত্ব হস্তান্তর: ৭ আন্তর্জাতিক পদক ও আর্থিক স্বচ্ছতার খতিয়ান

মেয়াদকাল শেষে বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশনের বিদায়ী কমিটি নবগঠিত কমিটির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব হস্তান্তর করেছে। এই উপলক্ষে বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক এস এম নেওয়াজ সোহাগ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ২০২৪ সালের ১৪ নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ২৩ জুলাই পর্যন্ত তাদের পরিচালনা পর্ষদের মাঠের সাফল্য, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও সুশাসনের পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরেছেন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিগত কমিটির দায়িত্বপালনকালে বাংলাদেশ দল ৯টি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে ৭টিতেই উল্লেখযোগ্য সফলতা অর্জন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে দ্বিতীয় নারী কাবাডি বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো ব্রোঞ্জ জয়, এশিয়ান নারী কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপে ব্রোঞ্জ লাভ এবং নেপালের বিপক্ষে নারী ও পুরুষ টেস্ট সিরিজ জয়। এছাড়াও, এশিয়ান বিচ গেমস ও এশিয়ান যুব গেমসেও বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা পদক অর্জন করেছে।

একই সময়ে খেলাটিকে সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে এবং নতুন খেলোয়াড় তৈরির লক্ষ্যে ঘরোয়া পর্যায়ে তৃণমূল, জোনাল ও জাতীয় ভিত্তিক ২৫টি ভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

দায়িত্ব পালনকালে সুশাসন ও স্বচ্ছতার নীতি অনুসরণের অংশ হিসেবে বিদায়ী কমিটি তাদের মেয়াদকালের সম্পূর্ণ আর্থিক হিসাব প্রকাশ করেছে। ২০২৪ সালের ১৪ নভেম্বর দায়িত্ব গ্রহণের সময় ফেডারেশনের কোষাগারে ৮ কোটি ১১ লাখ ২৩ হাজার ৯৯ টাকা ছিল। পূর্ববর্তী কমিটির রেখে যাওয়া বকেয়া বাবদ ১ কোটি ৭ লাখ ৩১ হাজার ২২৬ টাকা পরিশোধ করা হয়। সরকার, বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন এবং বিভিন্ন বেসরকারি উৎস থেকে এ সময়ে আয় হয়েছে ১১ কোটি ৩৩ হাজার ৮৫৯ টাকা।

আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা আয়োজন ও অংশ নেওয়া, খেলোয়াড় প্রশিক্ষণ, বেতন এবং অফিস রক্ষণাবেক্ষণ মিলিয়ে মোট ব্যয় হয়েছে ১২ কোটি ৩৪ লাখ ২৭ হাজার ৪৫১ টাকা। ৫ কোটি টাকার স্থায়ী আমানতসহ সর্বমোট ৫ কোটি ৬৯ লাখ ৯৮ হাজার ২৮১ টাকা নতুন কমিটির জন্য কোষাগারে রেখে দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয়েছে।

দেশের কাবাডিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিতে গোপালগঞ্জ মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সকে একটি ‘পূর্ণাঙ্গ কাবাডি কমপ্লেক্স’-এ রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সময় ও নানা প্রতিকূলতার কারণে সেটি শেষ করা না গেলেও, বিদায়ী কমিটি আশা প্রকাশ করেছে যে নবগঠিত কমিটি এই স্থানটিকে ব্যবহার করে কমপ্লেক্সটির কাজ সম্পন্ন করবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লক্ষ্মীপুর পৌরসভায় নাগরিক সেবার মান নিয়ে পানিসম্পদ মন্ত্রীর তীব্র অসন্তোষ, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে উদাসীনতার অভিযোগ

কাবাডি ফেডারেশনের বিদায়ী কমিটির দায়িত্ব হস্তান্তর: ৭ আন্তর্জাতিক পদক ও আর্থিক স্বচ্ছতার খতিয়ান

আপডেট সময় : ০৭:০৯:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

মেয়াদকাল শেষে বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশনের বিদায়ী কমিটি নবগঠিত কমিটির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব হস্তান্তর করেছে। এই উপলক্ষে বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক এস এম নেওয়াজ সোহাগ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ২০২৪ সালের ১৪ নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ২৩ জুলাই পর্যন্ত তাদের পরিচালনা পর্ষদের মাঠের সাফল্য, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও সুশাসনের পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরেছেন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিগত কমিটির দায়িত্বপালনকালে বাংলাদেশ দল ৯টি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে ৭টিতেই উল্লেখযোগ্য সফলতা অর্জন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে দ্বিতীয় নারী কাবাডি বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো ব্রোঞ্জ জয়, এশিয়ান নারী কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপে ব্রোঞ্জ লাভ এবং নেপালের বিপক্ষে নারী ও পুরুষ টেস্ট সিরিজ জয়। এছাড়াও, এশিয়ান বিচ গেমস ও এশিয়ান যুব গেমসেও বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা পদক অর্জন করেছে।

একই সময়ে খেলাটিকে সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে এবং নতুন খেলোয়াড় তৈরির লক্ষ্যে ঘরোয়া পর্যায়ে তৃণমূল, জোনাল ও জাতীয় ভিত্তিক ২৫টি ভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

দায়িত্ব পালনকালে সুশাসন ও স্বচ্ছতার নীতি অনুসরণের অংশ হিসেবে বিদায়ী কমিটি তাদের মেয়াদকালের সম্পূর্ণ আর্থিক হিসাব প্রকাশ করেছে। ২০২৪ সালের ১৪ নভেম্বর দায়িত্ব গ্রহণের সময় ফেডারেশনের কোষাগারে ৮ কোটি ১১ লাখ ২৩ হাজার ৯৯ টাকা ছিল। পূর্ববর্তী কমিটির রেখে যাওয়া বকেয়া বাবদ ১ কোটি ৭ লাখ ৩১ হাজার ২২৬ টাকা পরিশোধ করা হয়। সরকার, বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন এবং বিভিন্ন বেসরকারি উৎস থেকে এ সময়ে আয় হয়েছে ১১ কোটি ৩৩ হাজার ৮৫৯ টাকা।

আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা আয়োজন ও অংশ নেওয়া, খেলোয়াড় প্রশিক্ষণ, বেতন এবং অফিস রক্ষণাবেক্ষণ মিলিয়ে মোট ব্যয় হয়েছে ১২ কোটি ৩৪ লাখ ২৭ হাজার ৪৫১ টাকা। ৫ কোটি টাকার স্থায়ী আমানতসহ সর্বমোট ৫ কোটি ৬৯ লাখ ৯৮ হাজার ২৮১ টাকা নতুন কমিটির জন্য কোষাগারে রেখে দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয়েছে।

দেশের কাবাডিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিতে গোপালগঞ্জ মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সকে একটি ‘পূর্ণাঙ্গ কাবাডি কমপ্লেক্স’-এ রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সময় ও নানা প্রতিকূলতার কারণে সেটি শেষ করা না গেলেও, বিদায়ী কমিটি আশা প্রকাশ করেছে যে নবগঠিত কমিটি এই স্থানটিকে ব্যবহার করে কমপ্লেক্সটির কাজ সম্পন্ন করবে।