ভারতের পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) এখন দেশটির সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় শিক্ষার্থী আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। শিক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কার এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে হাজার হাজার শিক্ষার্থী রাস্তায় নেমেছেন।
গত সোমবার হাজার হাজার আন্দোলনকারী পূর্বঘোষিত ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচী উপলক্ষে ভারতের পার্লামেন্ট অভিমুখে মিছিল করলে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এর পর থেকে প্রতিদিনই আরো হাজার হাজার শিক্ষার্থী রাজপথে ফিরে আসছে।
এই আন্দোলনের কেন্দ্রে রয়েছেন পরিবেশকর্মী ও সংস্কারক সোনাম ওয়াংচুক। তিনি জানান, আন্দোলনকে সমর্থন জানাতে গিয়ে ২৬ দিনের অনশনে তাঁর ১১ কেজি ওজন কমেছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে তিনি অনশন ভঙ্গ করলেও আন্দোলনকারী ছাত্র নেতারা জানিয়েছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই প্রতিবাদ চলবে।
এই আন্দোলনটি কেবল এর বিশাল ব্যাপ্তিতে নয়, বরং এর ক্ষোভের প্রকৃতি ও গভীরতার মধ্যেও ব্যতিক্রমী। গত এক দশকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সরকারের বিরুদ্ধে হওয়া বড় বড় আন্দোলনগুলোর (যেমন: নাগরিকত্ব আইন বা কৃষি আইনবিরোধী আন্দোলন) সাথে এর পার্থক্য হলো—এই আন্দোলনটির পেছনে কোনো বিশেষ আদর্শিক ভিত্তি নেই। এটি কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা সামাজিক শ্রেণীর স্বার্থ রক্ষার্থেও গড়ে ওঠেনি।
বরং, এই আন্দোলনটি সরাসরি একটি ব্যবস্থার ওপর প্রশ্ন তুলেছে: যে সরকারি পরীক্ষা ব্যবস্থাকে দেশের কোটি কোটি তরুণ সামাজিক ও অর্থনৈতিক ভাগ্য পরিবর্তনের প্রধান উপায় হিসেবে দেখে, রাষ্ট্র কি সেখানে নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে সক্ষম?
ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র ভিজিটিং ফেলো ইয়ামিনী আয়ারের ভাষ্য অনুযায়ী, পরীক্ষা ও শিক্ষা এমন একটি ইস্যু যা জাত, শ্রেণি ও লিঙ্গের বিভাজন অতিক্রম করে সব তরুণদের প্রভাবিত করে।
রিপোর্টারের নাম 



















