সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন এবং জুলাই সনদ পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে খেলাফত মজলিস। শুক্রবার দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী বৈঠকে এই দাবি জানানো হয়।
বৈঠকে নেতারা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের গণরায়কে উপেক্ষা করে নিজস্ব প্রক্রিয়ায় সংবিধান সংশোধন করতে চায়। অথচ জনগণ বিদ্যমান সংবিধানের এমন সংস্কার চায়, যার মাধ্যমে স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদ পুনপ্রতিষ্ঠার সকল পথ রুদ্ধ হয়ে আসবে। জুলাই জাতীয় সনদে এ বিষয়ে কিছু প্রস্তাবনা রয়েছে, যা সংবিধানের মৌলিক কাঠামোতে ব্যাপক পরিবর্তন আনবে। এসব প্রস্তাবনা বর্তমান প্রক্রিয়ায় সংশোধনের মাধ্যমে সংযুক্ত করা হলে তা টেকসই হবে না। তাই জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের রায় পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন অত্যন্ত প্রয়োজন।
খেলাফত মজলিস নেতারা আরো বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের মৌলিক শাসনতান্ত্রিক পরিবর্তনের গাঠনিক ক্ষমতা থাকবে। সেই ক্ষমতা ইতিমধ্যে গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে রায় প্রদানের মাধ্যমে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ দিয়ে দিয়েছে। আমরা সরকারকে জনরায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সংসদে অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন ও জুলাই সনদ পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের জন্য কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি। পাশাপাশি জুলাই ও শাপলা গণহত্যা সহ ফ্যাসিবাদী বিচার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানাচ্ছি।
বৈঠকে নেতারা দিল্লীসহ ভারজুড়ে ছাত্র-জনতার স্বতঃস্ফূর্ত ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে নরেন্দ্র মোদী সরকারের নিপীড়ন ও ধরপাকড়ের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। পাশাপাশি সংখ্যালঘু মুসলমানদের জীবন, সম্পদ ও মুসলিম ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা ধ্বংস করতে উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের তাণ্ডব বন্ধে ভারত সরকারের নির্লিপ্ততার তীব্র সমালোচনা করা হয়।
খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদের সভাপতিত্বে ও মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদেরের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত ত্রৈমাসিক কেন্দ্রীয় নির্বাহী বৈঠকে দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
রিপোর্টারের নাম 




















