ঢাকা ১২:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

কোটা সংস্কারের দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম, দাবি আদায়ে আন্দোলন জোরদারের ঘোষণা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:১৭:২১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা সরকারকে তাদের চার দফা ‘জরুরি দাবি’ মেনে নিতে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছে। ২৩ জুলাই ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক সারজিস আলম এই ঘোষণা দেন।

ছাত্রনেতারা স্পষ্ট জানিয়েছেন, চার দফা দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত সরকারের সঙ্গে আর কোনো আলোচনায় তারা অংশ নেবেন না। একইসঙ্গে আন্দোলন আরও তীব্র ও বিস্তৃত করার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন তারা। এই দিন গভীর রাতে পুলিশ আন্দোলনস্থলের আশপাশ এবং বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মেস ও ফ্ল্যাটে অভিযান চালায়। তারা আন্দোলনকারীদের বাসা ঘেরাও করে ছাত্রদের গ্রেপ্তার করে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে উত্থাপিত জরুরি দাবিগুলো হলো: অবিলম্বে ইন্টারনেট সংযোগ পুরোপুরি সচল করা, সারা দেশে জারি করা কারফিউ প্রত্যাহার করা, বিশ্ববিদ্যালয়সহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সরিয়ে নিয়ে আবাসিক হল খুলে দিয়ে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং আন্দোলনের সমন্বয়কদের নিরাপত্তা প্রদান করা। সমন্বয়করা বলেছেন, এই দাবিগুলো পূরণ হলেই সরকারের সঙ্গে মূল দাবি নিয়ে সংলাপের পরিবেশ তৈরি হতে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আন্দোলনের তিন গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ, আবু বাকের মজুমদার ও রিফাত রশীদ ১৮ জুলাই থেকে নিখোঁজ রয়েছেন। আসিফ মাহমুদের বাবা বিল্লাল হোসেন সন্তানের সন্ধানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গ পর্যন্ত ঘুরেও কোনো হদিস পাননি বলে জানা গেছে। নিখোঁজ নেতাদের নিরাপত্তা ও অবস্থান নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অন্য সমন্বয়করা।

এদিকে, কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সহিংসতা দমনের নামে ইন্টারনেট বন্ধ করে রাজধানীসহ সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ‘চিরুনি অভিযান’ অব্যাহত ছিল। শেষ ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে প্রায় এক হাজার ১০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যার মধ্যে শুধু ঢাকাতেই গ্রেপ্তার হন ৫১৭ জন। ১৭ থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত এক সপ্তাহে সারা দেশে গ্রেপ্তারের সংখ্যা তিন হাজার ছাড়িয়ে যায়। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ফ্ল্যাটে ও মেসে তল্লাশি চালিয়ে শিক্ষার্থীদের পুলিশ ও আওয়ামী সন্ত্রাসীরা নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ম্যাকে নতুন ডিজাইনের হোয়াটসঅ্যাপ: আইফোনের মতো অভিজ্ঞতা

কোটা সংস্কারের দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম, দাবি আদায়ে আন্দোলন জোরদারের ঘোষণা

আপডেট সময় : ১১:১৭:২১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা সরকারকে তাদের চার দফা ‘জরুরি দাবি’ মেনে নিতে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছে। ২৩ জুলাই ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক সারজিস আলম এই ঘোষণা দেন।

ছাত্রনেতারা স্পষ্ট জানিয়েছেন, চার দফা দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত সরকারের সঙ্গে আর কোনো আলোচনায় তারা অংশ নেবেন না। একইসঙ্গে আন্দোলন আরও তীব্র ও বিস্তৃত করার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন তারা। এই দিন গভীর রাতে পুলিশ আন্দোলনস্থলের আশপাশ এবং বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মেস ও ফ্ল্যাটে অভিযান চালায়। তারা আন্দোলনকারীদের বাসা ঘেরাও করে ছাত্রদের গ্রেপ্তার করে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে উত্থাপিত জরুরি দাবিগুলো হলো: অবিলম্বে ইন্টারনেট সংযোগ পুরোপুরি সচল করা, সারা দেশে জারি করা কারফিউ প্রত্যাহার করা, বিশ্ববিদ্যালয়সহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সরিয়ে নিয়ে আবাসিক হল খুলে দিয়ে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং আন্দোলনের সমন্বয়কদের নিরাপত্তা প্রদান করা। সমন্বয়করা বলেছেন, এই দাবিগুলো পূরণ হলেই সরকারের সঙ্গে মূল দাবি নিয়ে সংলাপের পরিবেশ তৈরি হতে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আন্দোলনের তিন গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ, আবু বাকের মজুমদার ও রিফাত রশীদ ১৮ জুলাই থেকে নিখোঁজ রয়েছেন। আসিফ মাহমুদের বাবা বিল্লাল হোসেন সন্তানের সন্ধানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গ পর্যন্ত ঘুরেও কোনো হদিস পাননি বলে জানা গেছে। নিখোঁজ নেতাদের নিরাপত্তা ও অবস্থান নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অন্য সমন্বয়করা।

এদিকে, কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সহিংসতা দমনের নামে ইন্টারনেট বন্ধ করে রাজধানীসহ সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ‘চিরুনি অভিযান’ অব্যাহত ছিল। শেষ ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে প্রায় এক হাজার ১০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যার মধ্যে শুধু ঢাকাতেই গ্রেপ্তার হন ৫১৭ জন। ১৭ থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত এক সপ্তাহে সারা দেশে গ্রেপ্তারের সংখ্যা তিন হাজার ছাড়িয়ে যায়। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ফ্ল্যাটে ও মেসে তল্লাশি চালিয়ে শিক্ষার্থীদের পুলিশ ও আওয়ামী সন্ত্রাসীরা নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।