বান্দরবান শহরের হিলভিউ কনভেনশন সেন্টারে পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি, নিরাপত্তা, বন্যা মোকাবিলা এবং প্রাকৃতিক সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা নিয়ে একটি নাগরিক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় তিন পার্বত্য জেলার নাগরিক প্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সামাজিক সংগঠক, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
আলোচনায় পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব, সীমান্ত নিরাপত্তা, পরিবেশ সংরক্ষণ, ভূমি ব্যবস্থাপনা, উন্নয়ন বৈষম্য এবং জাতীয় নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো উঠে আসে। বক্তারা পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের জন্য সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন। জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবু জাফর বলেন, পাহাড়ি অঞ্চলের তরুণদেরও রাজধানীর তরুণদের মতো সর্বোচ্চ পর্যায়ে নেতৃত্ব দেওয়ার স্বপ্ন দেখার পরিবেশ রাষ্ট্রকে তৈরি করতে হবে।
জামায়াতের জেলা আমির এইচ এম আব্দুচ ছালাম আজাদ বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের বাস্তবতায় রাজনৈতিক দর্শন ও দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। টেকসই সিদ্ধান্ত, উন্নয়ন ও স্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করতে সন্ত্রাসবাদকে চিরতরে বিদায় জানাতে হবে এবং গণতান্ত্রিক ও অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক ধারা বিকশিত করতে হবে। তিনি ১৯০০ সালের হিল ট্র্যাক্টস ম্যানুয়ালের পরিবর্তে দেশের সংবিধানের আলোকে পার্বত্য চট্টগ্রাম পরিচালনার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক ওসমান গণি, যুগ্ম আহ্বায়ক মুজিবুর রশিদ ও জসিম উদ্দিন বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়নে বিভাজন নয়, বরং সকল নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করাই রাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত। উন্নয়ন বৈষম্য দূর হলে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা ও ষড়যন্ত্রের সুযোগ কমে আসবে বলেও তারা মন্তব্য করেন।
সিনিয়র সাংবাদিক ও পার্বত্য গবেষক এ এইচ এম ফারুক বলেন, নিজেদের অধিকার ও ইতিহাস সম্পর্কে অনেক সময় বিভ্রান্তি তৈরি করা হয়। তিনি উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের সংবিধানই সকল নাগরিকের অধিকার নিশ্চিত করার এবং বিদ্যমান সমস্যার সমাধানের মূল ভিত্তি। তিনি আরও বলেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল ও কিছু আমলা নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় এখনও ১৯০০ সালের হিল ট্র্যাক্টস ম্যানুয়ালকে সামনে এনে বিভিন্ন ব্যাখ্যা দাঁড় করানোর চেষ্টা করছেন, যা পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের জন্য ক্ষতিকর।
রিপোর্টারের নাম 






















