কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার ১৮তম সোনাহাট স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে পাথর আমদানি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রেখেছেন ব্যবসায়ীরা। চার দিন ধরে স্থলবন্দরে কোনো ভারতীয় ট্রাক প্রবেশ করেনি, যা স্থলবন্দরের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের চরম বিপাকে ফেলেছে। একই সঙ্গে সরকারও প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, স্থলবন্দরের ওয়্যার হাউস, ট্রাক টার্মিনাল ও ডিপোগুলো প্রায় ফাঁকা। পাথর ভাঙার বেল্ট মেশিনগুলোও অলস পড়ে আছে।
আমদানিকারকদের অভিযোগ, ভারত থেকে সরবরাহ করা পাথরগুলো গুণগত মানের দিক থেকে অত্যন্ত নিম্নমানের। রিভার স্টোন বোল্ডারের পরিবর্তে ছোট পাথর দেওয়া হচ্ছে, যা অটোমেশিনে ভাঙানোর পর আরও ছোট হয়ে যাচ্ছে। ফলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো এই পাথর কিনতে আগ্রহী হচ্ছে না। এছাড়াও, ভারতীয় ব্যবসায়ীরা হঠাৎ করে পাথরের দামও বাড়িয়ে দিয়েছে। আগে প্রতি টন রিভার স্টোন ১১ ডলারে পাওয়া যেত, যা বাংলাদেশে পৌঁছাতে ১ হাজার ২৮০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা খরচ হতো। বর্তমানে এই দাম বেড়ে ১৩.৫ ডলার হয়েছে, যা বাংলাদেশে পৌঁছাতে খরচ হচ্ছে ১ হাজার ৬৭০ টাকা। ভারত থেকে আমদানি করা পাথরের সঙ্গে মাটি ও বালুর পরিমাণ বেশি থাকায় ভাঙার পর এর মান আরও খারাপ হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীরা ১৮ জুলাই থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য পাথর আমদানি বন্ধ রেখেছেন।
পাথর লোড-আনলোড শ্রমিকরা নিয়মিত কাজ না থাকায় কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। ট্রাক চালকদেরও আয় কমে গেছে। কমিশন এজেন্টরা জানিয়েছেন, প্রতিদিন গড়ে ১৫ ট্রাক মাল দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হতো, কিন্তু বর্তমানে আমদানি বন্ধ থাকায় তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রমে ভাটা পড়েছে।
রিপোর্টারের নাম 

























