দেশের ফ্রিল্যান্সার ও ব্যক্তি পর্যায়ের সেবা রপ্তানিকারকদের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন প্রক্রিয়া আরও সরল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে ২০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত রেমিট্যান্স গ্রহণ করতে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণাপত্র (ডিক্লারেশন) জমা দিতে হবে না। পাশাপাশি, অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে সার্ভিস প্রোভাইডার (ওপিজিএসপি)-এর মাধ্যমে প্রতি লেনদেনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত অর্থ গ্রহণের সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই বৈদেশিক আয় দেশে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে হবে।
দেশের ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল সেবা খাতকে সহায়তা এবং বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ বাড়ানোর লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই উদ্যোগ নিয়েছে। বুধবার এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, ফ্রিল্যান্সাররা এখন প্ল্যাটফর্ম স্টেটমেন্ট, ই-মেইল, ইনভয়েস অথবা অন্যান্য ডিজিটাল যোগাযোগকে বৈদেশিক আয় গ্রহণের গ্রহণযোগ্য প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন। এর ফলে প্রচলিত রপ্তানি-সংক্রান্ত নথিপত্রের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং ডিজিটাল বাণিজ্যের সঙ্গে লেনদেন ব্যবস্থা আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।
এছাড়াও, সার্কুলারে ডুয়াল-কারেন্সি ‘ফ্রিল্যান্সার কার্ড’ চালুর সুযোগ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রোভাইডার (এমএফএস) এবং পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার (পিএসপি) ব্যবহারের পরিধিও বাড়ানো হয়েছে, যা ডিজিটাল মাধ্যমে অর্থ গ্রহণ ও ব্যবস্থাপনাকে আরও সহজ ও কার্যকর করবে।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ফ্রিল্যান্সাররা তাঁদের রপ্তানি আয়ের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ বৈদেশিক মুদ্রায় এক্সপোর্টার্স রিটেনশন কোটা (ইআরকিউ) হিসাবে সংরক্ষণ করতে পারবেন। অন্যদিকে, অন্যান্য সেবা রপ্তানিকারকদের জন্য এই সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ শতাংশ। এতে আন্তর্জাতিক পরিশোধ এবং ব্যবসায়িক ব্যয় নির্বাহে উদ্যোক্তারা আরও বেশি নমনীয়তা পাবেন।
সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, ডিজিটাল বাণিজ্য ও ফ্রিল্যান্সিং খাতের পরিবর্তিত বাস্তবতায় বাংলাদেশ ব্যাংকের এই পদক্ষেপ সময়োপযোগী। এই প্রক্রিয়া সরলীকরণের ফলে আরও বেশি ফ্রিল্যান্সার আনুষ্ঠানিক চ্যানেলে বৈদেশিক আয় দেশে আনতে উৎসাহিত হবেন। এতে সেবা রপ্তানি থেকে বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ বাড়বে, লেনদেনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে এবং পুরো খাত আরও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় আসবে।
রিপোর্টারের নাম 
























