ঢাকা ০১:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

অকারণে ওজন কমছে? গুরুতর রোগের সতর্কবার্তা হতে পারে

খাদ্যাভ্যাস বা শরীরচর্চায় কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন না থাকা সত্ত্বেও যদি ৬ থেকে ১২ মাসের মধ্যে শরীরের মোট ওজনের ৫ শতাংশ বা তার বেশি কমে যায়, তবে তা উদ্বেগের কারণ হতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, এমন অপ্রত্যাশিত ওজন হ্রাস বিভিন্ন গুরুতর রোগের প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে দেখা দিতে পারে। তাই দ্রুত এর কারণ শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।

হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া ফুসফুস, পাকস্থলী, অগ্ন্যাশয়, কোলন এবং রক্তের ক্যানসারসহ বিভিন্ন ধরনের ক্যানসারের একটি পরিচিত উপসর্গ। এর সঙ্গে দীর্ঘদিনের ক্লান্তি, ক্ষুধামন্দা বা শরীরের কোনো অংশে অস্বাভাবিক ব্যথাও থাকতে পারে। বিশেষ করে টাইপ-১ বা অনিয়ন্ত্রিত টাইপ-২ ডায়াবেটিসে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে গেলে শরীর শক্তির জন্য চর্বি ও পেশি ভাঙতে শুরু করে, ফলে দ্রুত ওজন হ্রাস পায়। পাশাপাশি অতিরিক্ত পিপাসা, ঘন ঘন প্রস্রাব এবং দুর্বলতার মতো উপসর্গও দেখা দিতে পারে। হাইপারথাইরয়েডিজমে থাইরয়েড হরমোন স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি উৎপন্ন হওয়ায় শরীরের বিপাকক্রিয়া বেড়ে যায়। এ অবস্থায় স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি খাবার খেলেও ওজন কমতে পারে। হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, হাত কাঁপা এবং অতিরিক্ত ঘাম হওয়াও এর সাধারণ লক্ষণ। যক্ষ্মার গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণগুলোর মধ্যে দীর্ঘদিনের কাশি, জ্বর, রাতে অতিরিক্ত ঘাম এবং অকারণে ওজন কমে যাওয়া অন্যতম। সিলিয়াক ডিজিজ, ক্রোনস ডিজিজ বা দীর্ঘদিনের অন্ত্রের সমস্যায় শরীর খাবারের পুষ্টি ঠিকভাবে শোষণ করতে পারে না, যার ফলে ধীরে ধীরে ওজন কমতে থাকে। এইচআইভি, দীর্ঘমেয়াদি সংক্রমণ বা কিছু প্রদাহজনিত রোগের কারণেও অস্বাভাবিকভাবে ওজন কমে যেতে পারে। এসব ক্ষেত্রে অন্যান্য উপসর্গের পাশাপাশি শারীরিক দুর্বলতাও দেখা দেয়। মানসিক স্বাস্থ্যজনিত কারণের মধ্যে বিষণ্নতা, উদ্বেগ, দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ কিংবা খাওয়াদাওয়া-সংক্রান্ত মানসিক ব্যাধি (ইটিং ডিসঅর্ডার) ক্ষুধা কমিয়ে দিতে পারে, ফলে ধীরে ধীরে বা দ্রুত ওজন হ্রাস পেতে পারে।

যদি কোনো চেষ্টা ছাড়াই দ্রুত ওজন কমে যেতে থাকে, ওজন কমার সঙ্গে দীর্ঘদিন জ্বর, কাশি বা রক্তপাত থাকে, অথবা ক্ষুধা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়, তবে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ছয় মাসে হাম সংক্রমণে শীর্ষে বাংলাদেশ : বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা 

অকারণে ওজন কমছে? গুরুতর রোগের সতর্কবার্তা হতে পারে

আপডেট সময় : ১২:২৬:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

খাদ্যাভ্যাস বা শরীরচর্চায় কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন না থাকা সত্ত্বেও যদি ৬ থেকে ১২ মাসের মধ্যে শরীরের মোট ওজনের ৫ শতাংশ বা তার বেশি কমে যায়, তবে তা উদ্বেগের কারণ হতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, এমন অপ্রত্যাশিত ওজন হ্রাস বিভিন্ন গুরুতর রোগের প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে দেখা দিতে পারে। তাই দ্রুত এর কারণ শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।

হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া ফুসফুস, পাকস্থলী, অগ্ন্যাশয়, কোলন এবং রক্তের ক্যানসারসহ বিভিন্ন ধরনের ক্যানসারের একটি পরিচিত উপসর্গ। এর সঙ্গে দীর্ঘদিনের ক্লান্তি, ক্ষুধামন্দা বা শরীরের কোনো অংশে অস্বাভাবিক ব্যথাও থাকতে পারে। বিশেষ করে টাইপ-১ বা অনিয়ন্ত্রিত টাইপ-২ ডায়াবেটিসে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে গেলে শরীর শক্তির জন্য চর্বি ও পেশি ভাঙতে শুরু করে, ফলে দ্রুত ওজন হ্রাস পায়। পাশাপাশি অতিরিক্ত পিপাসা, ঘন ঘন প্রস্রাব এবং দুর্বলতার মতো উপসর্গও দেখা দিতে পারে। হাইপারথাইরয়েডিজমে থাইরয়েড হরমোন স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি উৎপন্ন হওয়ায় শরীরের বিপাকক্রিয়া বেড়ে যায়। এ অবস্থায় স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি খাবার খেলেও ওজন কমতে পারে। হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, হাত কাঁপা এবং অতিরিক্ত ঘাম হওয়াও এর সাধারণ লক্ষণ। যক্ষ্মার গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণগুলোর মধ্যে দীর্ঘদিনের কাশি, জ্বর, রাতে অতিরিক্ত ঘাম এবং অকারণে ওজন কমে যাওয়া অন্যতম। সিলিয়াক ডিজিজ, ক্রোনস ডিজিজ বা দীর্ঘদিনের অন্ত্রের সমস্যায় শরীর খাবারের পুষ্টি ঠিকভাবে শোষণ করতে পারে না, যার ফলে ধীরে ধীরে ওজন কমতে থাকে। এইচআইভি, দীর্ঘমেয়াদি সংক্রমণ বা কিছু প্রদাহজনিত রোগের কারণেও অস্বাভাবিকভাবে ওজন কমে যেতে পারে। এসব ক্ষেত্রে অন্যান্য উপসর্গের পাশাপাশি শারীরিক দুর্বলতাও দেখা দেয়। মানসিক স্বাস্থ্যজনিত কারণের মধ্যে বিষণ্নতা, উদ্বেগ, দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ কিংবা খাওয়াদাওয়া-সংক্রান্ত মানসিক ব্যাধি (ইটিং ডিসঅর্ডার) ক্ষুধা কমিয়ে দিতে পারে, ফলে ধীরে ধীরে বা দ্রুত ওজন হ্রাস পেতে পারে।

যদি কোনো চেষ্টা ছাড়াই দ্রুত ওজন কমে যেতে থাকে, ওজন কমার সঙ্গে দীর্ঘদিন জ্বর, কাশি বা রক্তপাত থাকে, অথবা ক্ষুধা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়, তবে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।